শিক্ষার্থীদের হাফভাড়া: সবাই স্বীকার করলেও অস্বীকার করছেন বাস মালিকরা

|

শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফভাড়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের। ড্রাইভার ও সহকারীরা তা স্বীকার করছেন। অথচ পরিবহন মালিকরা বলছেন, কখনোই হাফভাড়া ছিল না। এই মিথ্যাচারকে অসততা ও অর্থলিপ্সা বলছেন সাবেক ছাত্রনেসতা ও সাধারণ যাত্রীরা। আইন করে দ্রুত শিক্ষার্থীদের হাফভাড়া নিশ্চিত করার দাবি শিক্ষার্থীসহ সবার।

ড্রাইভার বাবুল। ১০ বছর ধরে রাজধানীতে বাস চালান। ড্রাইভিং এর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে জানালেন হেলপারদের সাথে মাঝেমধ্যে বচসা হলেও শিক্ষার্থীদের হাফভাড়া সবসময়ই ছিল। হাফভাড়া কখনও ছিলো না, মালিকদের এমন দাবি মিথ্যা বলে মন্তব্য তার। শিক্ষার্থীদের হাফভাড়ার বিষয়টি স্বীকার করলেন বাবুলের সহকারীও।

ড্রাইভার নাসিরও ১৩ বছর ধরে বাস চালান। জানান, যখন যে গাড়ি চালিয়েছেন সেখানে শিক্ষার্থীরা হাফভাড়াই দিয়েছে। একই কথা ড্রাইভার কাওসার ও তার সহকারীর।

আর যেসব যাত্রী দীর্ঘদিন ধরে বাসে চলাচল করেন, তারাও বললেন, শিক্ষার্থীরা হাফভাড়া দেয়। এমনকি তারা নিজেরাও হাফভাড়া দিয়েই চলেছেন শিক্ষাজীবনে।

পড়ুন : হাফ ভাড়ার দাবি নিয়ে বৈঠকে ভর্তুকি চাইলেন বাস মালিকরা

বাস চালক, সহকারি ও যাত্রী সবাই যখন বলছেন, হাফভাড়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের, তখন কেন তা অস্বীকার করছেন মালিকরা? বাস মালিকদের নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ এর আগে বলেন, কখনও হাফ ভাড়ার প্রচলন ছিল না। অল্প পথে ছাত্ররা ভাড়া কম দিত, সেটা মেনে নেওয়া হতো। কিন্তু কাগজে-কলমে কখনও হাফ ভাড়া রাখা হতো না। পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিকদের কেন হাফ পাস দেওয়া হয়, এমন প্রশ্নের জবাবেও তিনি বলেন, তাদের কাউকেই হাফ পাস দেওয়া হয় না।

পড়ুন : ৮০ শতাংশ পরিবহন মালিক গরিব: এনায়েত উল্লাহ

যে আন্দোলন স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি, ৬৯ এর সেই ঐতিহাসিক গণ অভুত্থানের ১১ দফা দাবিতেও ছিল সব গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফভাড়া। এরপর সড়ক নিরাপত্তাসহ নানা আন্দোলনেও ছিল একই দাবি। ডাকসুর সাবেক ভিপি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এরপরও দাবিটি আইনে পরিণত না হওয়ায় ক্ষোভ জানালেন।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলছেন, সরকার চাইলে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই সড়ক পরিবহন আইনের সংশোধনী এনে দাবিটি যুক্ত করতে পারে।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply