সংসদে মহাসড়ক বিল ২০২১ পাস

|

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মহাসড়ক বিল, ২০২১ পাস হয়েছে। মহাসড়ক বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শনিবার (২৭ নভেম্বর) তিনি ‘মহাসড়ক বিল-২০২১’ সংসদে পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

এর আগে বিলের ওপর জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠান এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। গত ৪ সেপ্টেম্বর বিলের ওপর প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে মহাসড়কের ক্ষতিহ্রাস, স্থায়িত্ব, সার্বিক নিরাপত্তা ও যানবাহন চলাচলে গতিশীলতা নিশ্চিতে ওভারলোডিং চিহ্নিতকরণ, এবং রোধে মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের কর্তব্য সুনির্দিষ্টকরণের জন্য বিধান করা হয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধাদি সম্বলিত কাঠামো নির্ধারণে বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৮০ শতাংশ পরিবহন মালিক গরিব: এনায়েত উল্লাহ

বিলে মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের অধিকার নির্ধারণেও প্রয়োজনীয় বিধান রাখা হয়েছে। এ সময় মহাসড়ক বিল পাসের প্রক্রিয়ায় জাতীয় পার্টি ও বিএনপি’র সংসদ সদস্যরা জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব আনলে তা কন্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বিলে আরও বলা হয়েছে, এই আইন অমান্য করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে। ১৯২৫ সালের হাইওয়ে অ্যাক্ট রহিত করে মহাসড়ক, নির্মাণ, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং অবাধ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ যান চলাচলের জন্য নতুন এই আইন করা হচ্ছে।

বিলে বলা হয়েছে, আইনের অধীনে গেজেট দিয়ে সরকার বলে দেবে কোন সড়ক বা মহাসড়কে কে প্রবেশ করবে বা কে প্রবেশ করবে না। কোনটা মহাসড়কের সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ে হিসেবে ঘোষণা করা হবে। পরিচালনা কেমন করা হবে। কোনগুলোর টোল নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: হাফ ভাড়ার দাবি নিয়ে বৈঠকে ভর্তুকি চাইলেন বাস মালিকরা

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, নির্ধারিত মাশুল প্রদান সাপেক্ষে নাগরিক সেবাপ্রদানকারী সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইউটিলিটি সংযোগগুলো মহাসড়কের প্রান্তসীমা বরাবর স্থাপন করা যাবে। তবে শর্ত থাকে যে, মহাসড়কের উন্নয়ন, মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের সময় প্রয়োজন হলে ওই ইউটিলিটি সংযোগগুলো সেবা প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজ খরচে নির্দিষ্ট সময়ে অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে স্থানান্তর করবে।

মহাসড়কে ফসল, খড় বা অন্য কোনো পণ্য শুকানো বা অনুরূপ কোনো কাজে মহাসড়ক ব্যবহার করা যাবে না। মহাসড়কের নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থান দিয়ে পদযাত্রা করা যাবে না বা এই আইনের অধীন অনুমোদিত উদ্দেশ্য ছাড়া মহাসড়কের কোনো স্থানে অবস্থান করা যাবে না।

প্রতিবন্ধী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের মহাসড়কে নির্দিষ্ট স্থান ও নিরাপদে ব্যবহারের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার বিধান বিলে রাখা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, নির্ধারিত জায়গা ছাড়া মহাসড়কে গবাদিপশু চরানো, প্রবেশ করানো, পারাপার করানো যাবে না।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply