মিরাজের ব্যাটে প্রাণ পেলো ক্রিকেটের অনিশ্চয়তার গৌরব

|

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচ জিততে বাকি ছিল তখনও ৫১ রান। হাতে মাত্র ১ উইকেট। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের কারও নাম বেন স্টোকস না কুশল মেন্ডিস নয়। তাই এই জায়গা থেকে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয়ের আশা করার কোনো কারণই হয়তো অনেকে দেখেনি। তবে ম্যাচ শেষে তারাই ভাবতে পারে, হাতে এক উইকেট নিয়ে দলকে জয় এনে দেয়ায় এবার দলে স্টোকস-কুশলদের না থাকার আফসোস ভুলে যেতে পারে বাংলাদেশ। তাদের যে একজন মেহেদী হাসান মিরাজ আছে!

হেডিংলি টেস্টে বেন স্টোকস অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে উল্লাসের বা খেলা ছেড়ে দেয়ার কিছুই নেই। মিরপুরে হয়তো সে কথা ভুলে গিয়েছিল রোহিত শর্মার ভারত। বোর্ডে মাত্র ১৮৬ রান থাকার পর ১৩৬ রানেই বাংলাদেশের ৯ উইকেট ফেলে দেয়ার পর অনেকেই ম্যাচের অনিশ্চয়তার ব্যাপারে সকল প্রকারের নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী করে ফেলেছিল। কিন্তু মেহেদী মিরাজ হয়তো ভিন্ন কিছুই ভেবেছিলেন আজ। মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে তিনিই লিখে ফেললেন ইতিহাস। দশম উইকেট জুটিতে দেশীয় রেকর্ড ৫১ রান যোগ করেন মিরাজ। আর দলকে এনে দেন অবিস্মরণীয় এক জয়।

ম্যাচ জয়ের নায়ক মিরাজ হয়েছেন ম্যাচ সেরা। সেই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার বলেন, সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। আমি সত্যিই উত্তেজিত। মোস্তাফিজ ও আমি ভাবছিলাম, জয় আসতে পারে সেই বিশ্বাস রাখতে হবে শেষ পর্যন্ত। মোস্তাফিজকে বলেছিলাম, মাথা ঠান্ডা রেখে ২০ বল মোকাবেলা করতে।

মিরাজের পরিকল্পনামাফিকই সব হয়েছে। তবে ক্রিকেটে সবকিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী হয় না। আর সেটার প্রমাণ মিরাজ নিজেই। অনেক হিসাব-নিকাশ ও সমীকরণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে একার বীরত্বে দলকে জয় এনে দিয়েছেন। এমন এক বিন্দু থেকে মিরাজের লড়াই শুরু হয়েছিল, যেখানে দাঁড়িয়ে অন্তত জয় দেখতে পারার কথা না খুব বেশি মানুষের। তবে যেমনটি দেখেছিলেন স্টোকস, কুশল মেন্ডিস; যেমন বিশ্বাস রেখেছিলেন নিজেদের উপর- তেমনটাই দেখালেন মিরাজ। দীপক চাহারের বলকে কাভারে পাঠিয়ে উল্লাসেই যেন দিলেন বার্তা, এভাবেও ম্যাচ জেতা যায়!

আরও পড়ুন: অদম্য মিরাজ-মোস্তাফিজে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য জয়

/এম ই





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply