মান-অভিমান এতটা ফ্যাক্টর নয়: তামিম

|

তামিমের টি-টোয়েন্টি না খেলার সিদ্ধান্তে মান-অভিমান ও মনোমালিন্যের মতো বিষয়গুলোই উঠে আসছে বারবার।

মান-অভিমান এতটা ফ্যাক্টর নয়। জাতীয় দলের হয়ে যেকোনো ফরম্যাটে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি, এটা শুধু আমার কেন, যেকোনো ক্রিকেটারেরই সবচেয়ে বড় অর্জন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আগামী ৬ মাস না খেলার প্রসঙ্গে এমনটাই বলেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

জাতীয় দলের হয়ে তামিম ইকবালের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট না খেলা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই রয়েছে নানা রকম গুঞ্জন। মান-অভিমানের প্রসঙ্গই সেক্ষেত্রে আলোচনায় এসেছে বারবার। বাংলাদেশ দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনও দিন কয়েক আগে বলেছিলেন, মনোমালিন্যের কারণে জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তামিম ইকবাল। হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর সাথে তামিমের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে সেখান থেকেও এই সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সুজন। বলেছিলেন, দলের মধ্যে ছোটখাট মনোমালিন্যের ঘটনা থাকতে পারে। আর সেসব মূলত যোগাযোগের ঘাটতি, ব্যাখ্যার অপর্যাপ্ততার মতো বিভিন্ন কারণেই হয়ে থাকে। সে সব ঠিক করার চেষ্টা করবেন বলেও জানিয়েছিলেন সুজন।

এরপর বিসিবির সূত্র জানায়, সোমবার (২৪ জানুয়ারি) বিপিএলে ঢাকার ম্যাচ শেষে এই ওপেনারের মান ভাঙাতে বসেছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তামিম স্পষ্ট ভাষায় মাহমুদকে জানিয়ে দিয়েছেন, তার এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। অভিমান ভাঙানোর জন্য বেশকিছু বিষয়ই পরিষ্কার করতে চেয়েছিলেন মাহমুদ। কিন্তু তা কাজে আসেনি। শেষমেশ বিসিবির অনুরোধ সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি না খেলার সিদ্ধান্তে অটল রইলেন তামিম। আগামী ৬ মাস এই ফরম্যাট থেকে দূরে থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপের আগে দলের প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার কথাও জানান তিনি। তামিমের বিশ্বাস, এই সময়ে যারা খেলবেন, তারা ভালো করবেন। তখন আর তাকে দরকার হবে না বলেও জানান তিনি। মান কিংবা অভিমান নয়, সম্পূর্ণ ক্রিকেটের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি, দাবি করেন তামিম।

তামিমের টি-টোয়েন্টি না খেলার সিদ্ধান্তে বাড়ছে গুঞ্জন।

দেশের ক্রিকেটে ২০০৭ সাল থেকে ওপেনিংয়ের গুরু দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তামিম ইকবাল খান। ওপেনার হিসেবে নির্দ্বিধায় এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নাম তার। সে জন্যই বিসিবির তরফ থেকে টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাড়ানোর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অনুরোধ ছিল তামিমের প্রতি। দফায় দফায় বৈঠক আর অনুরোধেও বদল আসেনি। চট্টগ্রামে নিজ শহরে বিপিএলে মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার অনুশীলনের আগেই তাই সাফ জবাব জানিয়ে তামিম বলেন, বড় কোনো টুর্নামেন্ট যেমন, বিশ্বকাপের আগে যদি আমাকে দলের দরকার পড়ে আর আমিও যদি প্রস্তুত থাকি, তবে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে। তবে আমার মনে হয়, এমনটা প্রয়োজন হবে না। আমি চাই, তরুণ ক্রিকেটাররা আমার পজিশনে এত ভালো খেলবে যে, আমাকে প্রয়োজনই পড়বে না।

আরও পড়ুন: মান ভাঙানোর চেষ্টা ব্যর্থ, টি-টোয়েন্টি না খেলার সিদ্ধান্তেই অটল তামিম

তামিম ইকবাল আরও জানান, গণমাধ্যমে অনেক কিছুই আসতে পারে। মান-অভিমান নিয়ে অনেক কথাই বলা হতে তবে তিনি এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ক্রিকেট কেন্দ্রীক ভাবনা থেকেই নিয়েছেন। বলেছেন, এখানে মান অভিমানের জায়গাটা এতটা বড় না। আমি সিদ্ধান্তটি নিয়েছি সম্পূর্ণভাবে ক্রিকেটের স্বার্থ বিবেচনা করে।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৭৮ ম্যাচে ২৪ গড়ে তামিম করেছেন ১৭৫৮ রান। স্ট্রাইট রেট ১১৬’র ওপর। সেই সাথে টি-টোয়েন্টিতে দেশের পরিমণ্ডলে রয়েছে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরির রেকর্ড।

আরও পড়ুন: আগামী ৬ মাস আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলবো না: তামিম ইকবাল





সম্পর্কিত আরও পড়ুন





Leave a reply