বাংলাদেশিরাও পারে পাওয়ার হিটিং করতে, দাবি সাব্বিরের

|

জাতীয় দলের ১ নাম্বার জার্সিটা মিস করেন সাব্বির রহমান।

বাংলাদেশিরাও পারে পাওয়ার হিটিং করতে। তাই স্কিল হিটিংয়ের পাশাপাশি পাওয়ার হিটিংয়েও মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন, বলেছেন হার্ড হিটার ব্যাটার সাব্বির রহমান। তার দাবি, মানসিক শক্তি পাওয়ার হিটিংয়ের বড় নিয়ামক। দীর্ঘ ১ বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাব্বির বিপিএল দিয়েই নতুন করে শুরু করতে চান। জানালেন, তিনি পূরণ করতে প্রস্তুত জাতীয় দলে পাওয়ার হিটিংয়ের ঘাটতি।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সবশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছিলেন সাব্বির রহমান রুম্মান। এরপর জাতীয় দলের জার্সিতে আর খেলা না হলেও খেলেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও জাতীয় ক্রিকেট লিগ। তবে বিশ্বকাপ দলে ফেরার মতো কোনো চমক দেখাতে পারেননি সাব্বির। এবার নতুনভাবে নিজেকে তৈরি করে এক নতুন শুরুর আশায় আছেন আলোচিত এই ক্রিকেটার।

সাব্বির রহমান বলেন, অনেক মিস করি আমার ১ নাম্বার জার্সিটাকে। এখন তাই নতুনভাবে শুরু করতে চাই। বিপিএলে যদি ভালো পারফর্ম করতে পারি তাহলে আশা করি, আবার ফিরে আসতে পারবো জাতীয় দলে।

সাব্বিরের মত একজন হার্ড হিটারের অভাব টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। পাওয়ার হিটিংয়ে দুর্বলতা স্পষ্ট, আর তাই এবারের বিশ্বকাপে স্কিল হিটিংয়ের দিকে ফোকাস ছিল টিম টাইগার্সের। তবে সাব্বির রহমানের দাবি, বাংলাদেশিদের পক্ষে টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার হিটিং সম্ভব। তিনি সোজাসাপ্টাই বললেন, অন্যান্য দেশের ক্রিকেটারদের যেমন দুই হাত, দুই পা তেমনি আমাদেরও তাই। কোনো ভিন্নতা কিন্তু নেই। তবে আমাদের পার্থক্যের জায়গা মানসিকতা ও শরীরী ভাষায়। যদি আমরা বিশ্বাস করি যে, মারতে পারবো তবে আমরা অবশ্যই মারতে পারবো।

আরও পড়ুন: প্রস্তুতি ম্যাচেও ব্যর্থ টপ অর্ডার, হেসেছে মুশফিক-মাহমুদুলের ব্যাট

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ ক্রিকেটার তাদের ৭৪ ইনিংসে ৯২৭ বল খেলে করেছেন ৯৯৫ রান। যার ফলে পাওয়ার হিটিংয়ের অক্ষমতা মেনেই অসফল হয়েছে বাংলাদেশ। আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট ছিল সাইফ উদ্দিনের। তিনি ২৬৬ স্ট্রাইক রেটে ৩ ইনিংসে করেন ২৪ রান, গড়ও ছিল ২৪। তবে, বাংলাদেশি ক্রিকেটারের জন্য পাওয়ার হিটিং অসম্ভব নয় জানিয়ে সাব্বির বলেন, অনেক সময় আমরা শুরুতেই উইকেট হারিয়ে ফেলি। সেরকম পরিস্থিতিতে পাওয়ার হিটিংয়ের ব্যাপারে প্রায়ই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে হয়। তবে যারা ৬/৭ নম্বরে ব্যাট করতে নামে, তারা যদি দেখে ১৫ ওভারের মধ্যে ২-৩ উইকেটের বেশি যায়নি, তবে অবশ্যই তাদের পক্ষে পাওয়ার হিটিং সম্ভব।

ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের চেয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন সাব্বির রুম্মান। হার্ড হিটার এবং ভালো ফিল্ডার হিসেবেই জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সময়ে। তবে এবার নতুন করে শুরু করতে চান তিনি, প্রত্যাশা আবার ফিরে আসার যাতে লম্বা সময় সার্ভিস দিতে পারেন জাতীয় দলকে। হার্ড হিটারের জন্য চাতক পাখির দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেটও হয়তো উপকৃত হবে যদি সাব্বির পারেন তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছুতে।

আরও পড়ুন: যমুনার মুখোমুখি তামিম, জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চান আরও ৩/৪ বছর


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply