×
Logo

বিচিত্র

শত বছর পর বলিভিয়ার মেঘবনে মিললো নতুন প্রজাতির বিড়াল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

শত বছর পর বলিভিয়ার মেঘবনে মিললো নতুন প্রজাতির বিড়াল

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার মেঘবনে (ক্লাউড ফরেস্ট) নতুন এক প্রজাতির বন্য বিড়ালের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো কোনো নতুন জীবিত বিড়াল প্রজাতি আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত ও নামকরণ করা হলো।

গবেষকরা নতুন এই প্রজাতির নাম দিয়েছেন টিলকায়ো (Tilcayo)। এটি দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পাওয়া ‘টাইগার ক্যাট’ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। বলিভিয়ার পাহাড়ি ইয়ুঙ্গাস বনাঞ্চলে পাওয়া এই বিড়ালটির বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে লিওপার্ডাস টিলকায়ো (Leopardus tilcayo)।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ছোট আকৃতির এই বিড়ালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ ইঞ্চি (৪৬ সেন্টিমিটার) এবং ওজন প্রায় ৩ পাউন্ড (১ দশমিক ৪ কেজি)। অর্থাৎ এটি সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের চেয়েও ছোট।

বিজ্ঞানীরা জিনগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি আগে অজানা একটি স্বতন্ত্র প্রজাতি। স্থানীয় সম্প্রদায়ের দেওয়া নামটিই বৈজ্ঞানিক নামের অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে।

নতুন প্রজাতি নিয়ে গবেষণাপত্রের অন্যতম লেখক ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এক্সপ্লোরার পাওলা নোগালেস-আসকারুনজ জানান, টিলকায়োর গায়ের লোম হালকা বাদামি রঙের এবং শরীরজুড়ে রয়েছে অনিয়মিত আকৃতির কালচে দাগ।

গবেষকরা বলছেন, এই বিড়ালের জীবনযাপন সম্পর্কে এখনও খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি। তবে নমুনা বিশ্লেষণে ছোট ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা তাদের খাদ্যের অংশ হতে পারে। ক্যামেরা ট্র্যাপের তথ্য অনুযায়ী, এরা সম্ভবত রাতের বেলায় বেশি সক্রিয়।

গবেষণায় দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে সংগৃহীত ৩৮টি টাইগার ক্যাটের ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে আটটি ছিল জাদুঘরে সংরক্ষিত নমুনা। গবেষণায় দেখা যায়, আগে একটি প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত টাইগার ক্যাট আসলে জিনগতভাবে পাঁচটি পৃথক প্রজাতিতে বিভক্ত।

গবেষক জোনাস লেসক্রোয়ার্ট বলেন, টিলকায়োকে আলাদা প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করা হবে— এমনটি আগে কেউ ধারণাও করেননি। জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বিড়ালের বংশধারা প্রায় ১৪ লাখ বছর আগে অন্য টাইগার ক্যাট থেকে আলাদা হয়ে গেছে।

গবেষকরা একই গবেষণায় পেরুর ইয়ুঙ্গাস অঞ্চলে পাওয়া আরেকটি টাইগার ক্যাটের নতুন উপপ্রজাতির নাম দিয়েছেন লিওপার্ডাস টিগ্রিনাস অ্যান্টিসুইয়ো (Leopardus tigrinus antisuyo)।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই আবিষ্কার সংরক্ষণ কার্যক্রমের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) তালিকায় টাইগার ক্যাটকে দুটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে নতুন পাঁচটি বংশধারাকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হলে ঝুঁকির মাত্রা আরও স্পষ্ট হতে পারে।

গবেষকদের মতে, ইয়ুঙ্গাস বনাঞ্চল বর্তমানে বন উজাড়, কৃষি সম্প্রসারণ, মানুষের কারণে সৃষ্ট আগুন ও খনন কার্যক্রমের চাপে রয়েছে। তাই অবশিষ্ট বন রক্ষা এবং প্রাণীদের আবাসস্থল সংরক্ষণ জরুরি।

গবেষক এডুয়ার্ডো আইজিরিক বলেন, বিড়ালের মতো সুপরিচিত প্রাণীগোষ্ঠীতেও এখনো নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে— এটি বিশ্বের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। তাঁর মতে, পৃথিবীতে এখনো বহু অজানা প্রজাতি রয়েছে, যেগুলো আবিষ্কারের আগেই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।

(সূত্র: রয়টার্স)

/এনএ

Logo