শীতের ছুটিতে কম খরচে বিদেশ ভ্রমণ, বাংলাদেশিদের জন্য সেরা ৫ গন্তব্য
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। হিমেল হাওয়া আর মনোরম আবহাওয়ায় প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই ছুটে যেতে চান নতুন কোনো গন্তব্যে। শীতের ছুটিতে কেউ দেশের ভেতরেই ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন, আবার কারও ইচ্ছা থাকে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের। তবে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে গেলেই প্রথমে সামনে আসে দুটি বিষয়— বাজেট ও ভিসা জটিলতা।
অনেকের ধারণা, বিদেশ ভ্রমণ মানেই বড় অঙ্কের খরচ। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা, আগেভাগে বিমান টিকিট বুকিং এবং সাশ্রয়ী আবাসন বেছে নিতে পারলে মধ্যবিত্তের বাজেটেও বিদেশ ঘুরে আসা সম্ভব। বাংলাদেশিদের জন্য এশিয়ার এমন বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে, যেখানে তুলনামূলক কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ আছে। ভিসা প্রক্রিয়াও অনেক ক্ষেত্রে সহজ। শীতের ছুটিতে ঘুরে আসার জন্য তেমন পাঁচটি গন্তব্য হতে পারে—
১. নেপাল
বাংলাদেশিদের জন্য সাশ্রয়ী ও জনপ্রিয় বিদেশ ভ্রমণের গন্তব্যগুলোর মধ্যে নেপাল অন্যতম। পাহাড়, হ্রদ, ঐতিহাসিক স্থাপনা আর হিমালয়ের অপূর্ব সৌন্দর্য— সব মিলিয়ে দেশটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ঐতিহাসিক দরবার স্কয়ার, নাগরকোট থেকে হিমালয়ের সূর্যোদয় কিংবা পোখরার ফেওয়া লেক ও অন্নপূর্ণা পর্বতমালার সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। শীতের সময় পাহাড়ি পরিবেশের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগও থাকে।
ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইটের সুবিধা এবং বাংলাদেশিদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ থাকায় নেপাল ভ্রমণ তুলনামূলক সহজ। যাওয়া-আসার বিমানভাড়া জনপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। থাকা, খাওয়া ও ঘোরাঘুরিসহ সব মিলিয়ে জনপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে ভ্রমণ শেষ করা সম্ভব বলে ধারণা করা হয়।
২. থাইল্যান্ড
বাজেটের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণের কথা ভাবলে থাইল্যান্ডের নামও থাকে তালিকার ওপরের দিকে। আধুনিক শহুরে জীবন, জমজমাট বাজার, সমুদ্রসৈকত ও দ্বীপের সৌন্দর্য—সবকিছুই পাওয়া যায় দেশটিতে।
ব্যাংককের রাতের বাজার ও শপিং সেন্টার, পাতায়ার সমুদ্রসৈকত কিংবা ফুকেট ও ক্রাবির দ্বীপ ভ্রমণ পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা হতে পারে। আগাম ই-ভিসা কিংবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন-অ্যারাইভাল ভিসার মাধ্যমে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।
আগেভাগে বিমান টিকিট বুকিং করলে খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। যাওয়া-আসার বিমানভাড়া জনপ্রতি ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা হতে পারে। থাকা, খাওয়া ও ঘোরাঘুরিসহ সব মিলিয়ে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে থাইল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যায়।
৩. শ্রীলঙ্কা
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি পরিবেশ, চা-বাগান আর সমুদ্রসৈকতের সমন্বয়ে শ্রীলঙ্কা হতে পারে শীতের ছুটিতে ভ্রমণের চমৎকার গন্তব্য। তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপদেশে।
নুয়ারা এলিয়ার শীতল আবহাওয়া ও বিস্তীর্ণ চা-বাগান, ক্যান্ডির ঐতিহাসিক মন্দির এবং দক্ষিণ উপকূলের মনোরম সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের আকর্ষণ করে। অনলাইনে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ (ETA) ব্যবস্থার মাধ্যমে ভ্রমণের অনুমতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ট্রানজিট ফ্লাইট ব্যবহার করলে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া জনপ্রতি ৪৫ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। থাকা, খাওয়া ও ঘোরাঘুরিসহ সব মিলিয়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের পরিকল্পনা করা সম্ভব।
৪. মালয়েশিয়া
আধুনিক নগরজীবন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধন দেখতে চাইলে মালয়েশিয়া হতে পারে ভালো পছন্দ। দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, ঐতিহাসিক বাতু কেভস এবং লাংকাউই দ্বীপের সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
শহরের ব্যস্ততা থেকে শুরু করে দ্বীপের শান্ত পরিবেশ— এক সফরেই পাওয়া যায় নানা ধরনের অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশিদের জন্য ই-ভিসার মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ থাকায় ভ্রমণের প্রস্তুতিও তুলনামূলক সহজ।
বিভিন্ন এয়ারলাইনসের টিকিটের দাম ও ভ্রমণের সময়ের ওপর নির্ভর করে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া জনপ্রতি ৪৫ থেকে ৬৫ হাজার টাকা হতে পারে। এর সঙ্গে থাকা, খাওয়া ও অন্যান্য খরচ যোগ করে বাজেট নির্ধারণ করতে হবে।
৫. ভারত
বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতও বিদেশ ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য। দেশটিতে রয়েছে পাহাড়, সমুদ্র, মরুভূমি, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি। ফলে ভ্রমণকারীরা নিজেদের পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গা বেছে নিতে পারেন।
কলকাতার ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ঐতিহ্য, দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি পরিবেশ, মেঘালয়ের সবুজ পাহাড় ও ঝরনা, হিমাচল কিংবা কাশ্মীরের তুষারের শুভ্রতা, আগ্রার তাজমহল, রাজস্থানের ঐতিহাসিক দুর্গ কিংবা গোয়ার সমুদ্রসৈকত— সব মিলিয়ে পর্যটকদের জন্য রয়েছে অসংখ্য বিকল্প।
মাঝে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা তৈরি হলেও বর্তমানে ভিসা কার্যক্রম আবার চালু হয়েছে। তবে ভিসা পাওয়ার সুযোগ ও আবেদন গ্রহণের পরিধি সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। স্থল ও আকাশপথে যাতায়াতের সুবিধা থাকায় গন্তব্য অনুযায়ী তুলনামূলক কম খরচেও ভারত ঘুরে আসা সম্ভব। জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাজেটে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যায়।
ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন
বিদেশ ভ্রমণের বাজেট নির্ধারণের সময় শুধু বিমানভাড়া বিবেচনা করলেই হবে না। ভিসা ফি, হোটেল, খাবার, স্থানীয় যাতায়াত, দর্শনীয় স্থানের প্রবেশমূল্য এবং জরুরি খরচও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে। এ ছাড়া ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ ভিসানীতি, প্রবেশের শর্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।
উল্লেখিত বিমানভাড়া ও মোট ভ্রমণ ব্যয় আনুমানিক। ভ্রমণের সময়, টিকিট বুকিংয়ের তারিখ, আবাসন এবং ব্যক্তিগত খরচের ওপর ভিত্তি করে প্রকৃত ব্যয় কমবেশি হতে পারে। তাই আগেভাগে পরিকল্পনা করলেই সীমিত বাজেটে শীতের ছুটিতে বিদেশ ভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ করা সহজ হবে।
/এনএ