×
Logo

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

সফলভাবে সম্পন্ন মেলানোমা ক্যানসার টিকার ফেস-৩ ট্রায়াল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

সফলভাবে সম্পন্ন মেলানোমা ক্যানসার টিকার ফেস-৩ ট্রায়াল

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে ব্যক্তিভিত্তিক একটি পরীক্ষামূলক টিকা। বহুল ব্যবহৃত ইমিউনোথেরাপির ওষুধের সঙ্গে এই টিকা প্রয়োগে ত্বকের ক্যানসার মেলানোমায় আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যু কিংবা রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে। বড় পরিসরের এক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এ ফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গবেষকদের মতে, এ ফল ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রোগীর নিজস্ব ক্যানসারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার পদ্ধতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারে এই প্রযুক্তি। একই গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ইমিউনোথেরাপি নেওয়া রোগীদের তুলনায় টিকাসহ সম্মিলিত চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে দুই বছরের মধ্যে মেলানোমা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ৩৮ শতাংশ কমেছে।

ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমএসডি ও মডার্না জানিয়েছে, একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিডনি, মূত্রথলি ও ফুসফুসের ক্যানসারসহ অন্যান্য টিউমারের চিকিৎসা নিয়েও পরীক্ষা চলছে।

কীভাবে কাজ করে এই টিকা?

ইন্টিসমেরান নামের টিকাটি তৈরি করা হয়েছে এমআরএনএ প্রযুক্তিতে, যে প্রযুক্তি কোভিড-১৯-এর কিছু টিকা তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এটি সবার জন্য একই রকম নয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্যানসার টিউমার অপসারণের পর প্রতিটি রোগীর নিজস্ব টিউমারের জেনেটিক সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে ক্যানসার কোষে থাকা সর্বোচ্চ ৩৪টি পর্যন্ত নির্দিষ্ট ‘নিওঅ্যান্টিজেন’ চিহ্নিত করা হয়। এই উপাত্ত ব্যবহার করে প্রতিটি রোগীর জন্য পৃথকভাবে টিকা তৈরি করা হয়, যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে ক্ষতিকারক ক্যানসার কোষ চিনতে ও ভবিষ্যতে ক্যানসার ফিরে এলে তা ধ্বংস করতে প্রশিক্ষণ দেয়।

ট্রায়ালের ফলাফল ও উল্লেখযোগ্য উপাত্ত:

১,১৩৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ওপর এই ফেস-৩ ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়, যাদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেলানোমা টিউমার অপসারণ করা হয়েছিল, তাদের সাধারণ ইমিউনোথেরাপির (কাইট্রুডা) তুলনায় টিকার সংমিশ্রণ ব্যবহারে দুই বছরের ব্যবধানে ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২% কমেছে। পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য দূরবর্তী স্থানে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার (Distant metastasis) ঝুঁকি কমেছে ৩৮%। এছাড়া, দুই বছর পর টিকা গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে ৮২.২% ক্যানসারমুক্ত ছিলেন, যেখানে কেবল ইমিউনোথেরাপি প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৭০%।

বিশেষজ্ঞ মতামত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা:

ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চের অধ্যাপক অ্যালান মেলচার ট্রায়ালের ফলকে 'অত্যন্ত প্রভাবশালী' বলে অভিহিত করে জানান, এটি ক্যানসার টিকার কার্যকারিতার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ।

মেডিক্যাল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদনের জন্য এমএসডি ও মডার্না ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আগামী বছরের মধ্যেই অনুমোদিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ ক্যানসার রোগীদের জন্য এটি পুরোপুরি সহজলভ্য হতে খরচের বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে, কারণ প্রতিটি রোগীর টিউমার পৃথকভাবে পরীক্ষা করে কাস্টমাইজড টিকা তৈরি করতে হয়। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান দুটি বর্তমানে কিডনি, মূত্রাশয় ও ফুসফুসের ক্যানসারের বিরুদ্ধেও একই প্রযুক্তির ট্রায়াল শুরু করেছে।

(সূত্র: বিবিসি) 

/এনএ 

Logo