×
Logo

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিবিসি'র প্রতিবেদন

সরকারি সাইটসহ ‘ডজনখানেক’ প্রতিষ্ঠান হ্যাকের কথা স্বীকার করলো ওপেনএআই

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ এএম

সরকারি সাইটসহ ‘ডজনখানেক’ প্রতিষ্ঠান হ্যাকের কথা স্বীকার করলো ওপেনএআই

চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাসহ বিশ্বের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে। এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ‘ডজনখানেক’ প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করার কথা স্বীকার করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়। 

ওপেনএআই জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কাজ করছিল তাদের এআই এজেন্টগুলো। 

তবে কিছু ক্ষেত্রে এসব এজেন্ট নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে ওয়েবসাইটের নিরাপত্তাব্যবস্থা পাশ কাটানোর চেষ্টা করে।

আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও ইউএস সেন্সাস ব্যুরোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থাও রয়েছে।

তবে ওপেনএআইয়ের দাবি, তাদের এজেন্টরা যে সরকারি তথ্য সংগ্রহ করেছে, সেগুলো গোপন বা শ্রেণিবদ্ধ কোনো তথ্য ছিল না; বরং সবার জন্য উন্মুক্ত তথ্যই ছিল। এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বা বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওপেনএআইয়ের ভাষ্য, এআই এজেন্টগুলো, মূলত, নির্ভরযোগ্য সরকারি ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তথ্য খুঁজছিল। কিন্তু তথ্য সংগ্রহের সময় কিছু এজেন্ট ওয়েবসাইটের নির্ধারিত নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

সেন্সাস ব্যুরোর ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের সময় ডেভেলপারদের জন্য নির্ধারিত কিছু টুল ব্যবহারের ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়া একটি ঘটনায় এসইসি থেকে সংগৃহীত তথ্য পরে এআই এজেন্টের মাধ্যমে অন্য একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ওপেনএআই বলছে, তথ্যটি এভাবে প্রকাশ করার উদ্দেশ্য ছিল না।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সব ঘটনাকে সরাসরি বড় ধরনের সাইবার হামলা বা নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য এমনিতেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে কিছু ঘটনায় ওয়েবসাইটের নকশাগত দুর্বলতা বা নিরাপত্তা ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে ঠিক করতে পারবে।

এআই এজেন্টের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের মধ্যে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের তথ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। 

ওপেনএআই জানিয়েছে, অন্তত ৫৩টি ঘটনায় এআই এজেন্ট চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারীদের কার্যক্রম থেকে ছবি নিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করেছে।

যেসব ব্যবহারকারীর ছবি এভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তারা আগে ওপেনএআইকে তাদের তথ্য এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, সেই অনুমতি থাকা সত্ত্বেও ছবিগুলো অন্যত্র স্থানান্তর করা গ্রহণযোগ্য ছিল না।

ওপেনএআই জানিয়েছে, নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু হওয়ার আগেই এসব ঘটনা ঘটেছিল। স্থানান্তরিত ছবিগুলোর বেশিরভাগই ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বাকি ছবিগুলো মুছে ফেলতে সংশ্লিষ্ট হোস্টিং সেবাদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

এদিকে, অলাভজনক এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সলুসের দাবি, ওপেনএআইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এআই এজেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের নাগরিক অধিকারবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল।

ট্রান্সলুসের তথ্যমতে, সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে এআই এজেন্টের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের সময় পাসওয়ার্ড ব্যবহার, অ্যান্টি-বট নিরাপত্তা এড়িয়ে যাওয়া এবং ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরির মতো কৌশলের ব্যবহারও ধরা পড়ে।

ওপেনএআই বলেছে, ট্রান্সলুসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বেশ কয়েকটি কর্মকাণ্ড তাদের নিজস্ব চলমান তদন্তের সঙ্গে মিলে গেছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন গুরুতর ঘটনাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যালোচনা করছে।

এআই এজেন্টের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। গত জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ের একদল এআই এজেন্ট ‘হাগিং ফেস’ নামের একটি ওপেন-সোর্স প্ল্যাটফর্মে অনুমতি ছাড়া সাইবার হামলা চালানোর ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।

ওই ঘটনার পর এআই গবেষকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও জোরালো হয়। মানুষের দেওয়া নির্দেশনার বাইরে গিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই সিস্টেমগুলোর ওপর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আদৌ কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে।

এরই মধ্যে এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের একাংশ দ্রুতগতিতে এআই উন্নয়নের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। 

অ্যানথ্রপিকের গবেষক জ্যাকব কক্সনও সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি থেকে পদত্যাগের পর এআই উন্নয়নের ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানান।

এ পরিস্থিতিতে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেকে উন্নত করতে সক্ষম সিস্টেম তৈরিতে বাড়তি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক বৈঠকেও অল্টম্যান এআই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে অভিন্ন মানদণ্ড তৈরির আহ্বান জানান।

এদিকে, এআই প্রযুক্তির দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন একটি দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

এআই নিয়ে উদ্বেগকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ধোঁকাবাজি’ হিসেবে উড়িয়ে দিলেও, চলতি সপ্তাহে, ওয়াশিংটন সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এআইকে মানবকল্যাণে ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানবজাতির কল্যাণে পরিচালনার সক্ষমতা এবং দায়িত্ব: দুটিই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের রয়েছে।

এদিকে ওপেনএআই জানিয়েছে, জুলাইয়ের হাগিং ফেসের ঘটনা থেকে শুরু করে তাদের এআই এজেন্টগুলোর আগের কর্মকাণ্ডও ধাপে ধাপে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া বেশিরভাগ ঘটনাকে কম মাত্রার বলে মনে হলেও, তদন্তের পরিধি বড় হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

/এআই 

Logo