বৈদ্যুতিক গাড়ির যুগে অটো রফতানি বাজার ধরে রাখতে চাপে দক্ষিণ আফ্রিকা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
বিশ্বজুড়ে এখন নতুন প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির প্রতিযোগিতা চলছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো উপযুক্ত উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজে নিচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ভবিষ্যৎ সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে দেশটি। বিনিয়োগ টানতে সরকার নতুন কর-সুবিধা চালু করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে, ফোর্ড মোটর কোম্পানি আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নিল হিল জানান, আমাদের যে বিষয়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে তা হলো, দক্ষিণ আফ্রিকা যেন পিছিয়ে না পড়ে, কারণ বৈশ্বিক কাঠামো খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার গাড়ি শিল্পের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উৎপাদন বিদেশে রফতানি হয়। তাই বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় নিজেদের জায়গা ধরে রাখার চেষ্টা করছে দেশটি। একই সময়ে এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে।
রাষ্ট্রপতি সিরিল রামাফোসা ২০২৬ সালের মার্চ থেকে বৈদ্যুতিক ও হাইড্রোজেন চালিত যানবাহন উৎপাদনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ১৫০ শতাংশ কর ছাড়ের একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু গবেষকরা বলছেন যে এই শিল্পের ভবিষ্যৎ এমন কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করবে, যেগুলোকে এই প্রণোদনা সরাসরি সমাধান করতে পারে না; যেমন নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ, চার্জিং পরিকাঠামো, ভোক্তা চাহিদা, নীতির নিশ্চয়তা এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা।
দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতিতে গাড়ি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির মোট উৎপাদন খাতের ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এসেছে এই শিল্প থেকে। সরাসরি প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার মানুষ গাড়ি শিল্পে কাজ করেন। এর বাইরে আরও ৪ লাখ ৯৮ হাজার কর্মসংস্থান এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
দেশে তৈরি হওয়া গাড়ির প্রায় ৬৭ শতাংশ বিদেশে রফতানি করা হয়। এর মধ্যে ৬৩ শতাংশ গাড়ি যায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে। উভয় বাজারই দ্রুত নির্গমন মান আরও কঠোর করছে এবং কম-নির্গমনকারী গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে।
শিল্প নেতারা বলেন, বৈশ্বিক বৈদ্যুতিক গাড়ির সরবরাহ শৃঙ্খলে নিজের স্থান নিশ্চিত করতে না পারলে দেশটি ভবিষ্যতের মডেল বরাদ্দ এবং বিনিয়োগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
/এনজেএস/এএ