অ্যাপলের ফোল্ডেবল ‘আইফোন ডুও’, চ্যালেঞ্জে স্যামসাং বললো ‘ফোল্ডেবলে স্বাগতম’
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
স্মার্টফোনের বাজারে বিশ্বের শীর্ষ দুই প্রতিযোগী অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মধ্যে নতুন করে তীব্র হচ্ছে প্রতিযোগীতা। ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে অ্যাপলের প্রবেশের পর, নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, উন্নত হার্ডওয়্যার ও বাজারে আগেভাগে প্রবেশের সুবিধা তুলে ধরে প্রচার শুরু করেছে স্যামসাং।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ১ হাজার ৯৯৯ ডলারের ফোল্ডেবল আইফোন ‘ডুও’ উন্মোচন করেছে অ্যাপল। দীর্ঘদিন ধরে স্যামসাং ও হুয়াওয়ের মতো চীনা কোম্পানির দখলে থাকা ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে বড় পরিবর্তন আনতেই অ্যাপলের এই উদ্যোগ।
অ্যাপলের নতুন ফোনে পাসপোর্টের মতো ভাঁজ করা নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। একই ধরনের নকশার ‘গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮’ দুই মাসেরও কম সময় আগে বাজারে এনেছে স্যামসাং। ফোনটির দাম ১ হাজার ৮৯৯ ডলার এবং এতে অ্যালফাবেটের জেমিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি রয়েছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্টের সহযোগী পরিচালক লিজ লি বলেন, প্রায় ২ হাজার ডলারের নিচে আইফোন ডুওর দাম নির্ধারণ করা এবং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর চেয়ে মাত্র ১০০ ডলার বেশি রাখা অ্যাপলের সাহসী সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, অ্যাপলের প্রবেশে ফোল্ডেবল ফোনের প্রতিযোগিতার চিত্র বদলে যেতে পারে এবং সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়বে স্যামসাং। তবে এই বাজারে স্যামসাংয়ের বড় উৎপাদন সক্ষমতা, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও শক্তিশালী বৈশ্বিক বিতরণব্যবস্থা রয়েছে।
কাউন্টারপয়েন্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে অ্যাপল প্রায় ২৫ শতাংশ দখল করতে পারে। অন্যদিকে স্যামসাংয়ের বাজার হিস্যা হতে পারে ৩৮ শতাংশ।
অ্যাপলের নতুন ফোন উন্মোচনের পর স্যামসাংও প্রচারণায় নেমেছে। সিউল, টোকিও ও লন্ডনের মতো বড় শহরে বিলবোর্ডে ‘ ওয়েলকাম টু ফোল্ডেবল’ এবং ‘দ্য ওয়ার্ল্ড'স লাইটেস্ট ফোল্ড’— এর মতো স্লোগান ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি। নিজেদের ফোল্ডেবল ফোনকে আরও হালকা করার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেছে স্যামসাং।
এদিকে অ্যাপলের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একের পর এক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দিয়েছে স্যামসাং। অ্যাপলের ফোনে নতুনত্বের ঘাটতি রয়েছে— এমন ইঙ্গিত দিয়ে ‘আমাদের পুরোনো জিনিস আবার গরম করা’ এবং ‘এখন পর্যন্ত একই রকম’— এর মতো মন্তব্য করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাস বিদ্যমান ফোল্ডেবল ফোনগুলোকে ‘দুটি ফোনকে অস্বস্তিকরভাবে জোড়া লাগানোর মতো’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।
২০১৯ সালে প্রথম পাবলিক মার্কেটের জন্য ফোল্ডেবল ফোন উন্মোচন করে স্যামসাং। তবে শুরুতে স্ক্রিন ভেঙে যাওয়া ও ডিসপ্লে-সংক্রান্ত নানা সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ফোনের বাজারজাতকরণ পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। এরপর এখন পর্যন্ত ফোল্ডেবল ফোনের আটটি প্রজন্ম বাজারে এনেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে, ফোল্ডেবল ফোন তৈরিতে স্যামসাংয়ের গড়ে তোলা সরবরাহব্যবস্থার সুবিধাই নিচ্ছে অ্যাপল। এমনকি অ্যাপলের নতুন ফোনের ফোল্ডেবল ডিসপ্লেও তৈরি করছে স্যামসাংয়েরই সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ডিসপ্লে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক বেন উড বলেন, কোনো পণ্য যখন নির্দিষ্ট মাত্রায় পরিণত পর্যায়ে পৌঁছে, তখন বাজারে প্রবেশের সময়টা সঠিকভাবে বেছে নিতে অ্যাপল বেশ দক্ষ।
রয়টার্স অবলম্বনে
/এনএ