×
Logo

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

এআই প্রযুক্তির পরামর্শে দুর্গম এলাকায় যাওয়ার ঝুঁকি এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

এআই প্রযুক্তির পরামর্শে দুর্গম এলাকায় যাওয়ার ঝুঁকি এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন

ছবি: এআই জেনারেটেড

সম্প্রতি তরুণদের একটি দল জেমিনি চ্যাটবটের পরামর্শে পাহাড়ে গিয়ে রীতিমতো দুর্ভোগে পড়ে। অবস্থা এমন হয়, শেষ পর্যন্ত তাদের রাত কাটাতে হয়েছে গিরিখাতে। ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনে দেয়। তা হলো— এআই এর সুপারিশের উপর কতটা নির্ভর করা নিরাপদ?

একটা প্রচলিত কথা আছে— জানতে হবে, কোথায় থামতে হবে। নির্ভরশীলতায় এআইকে অন্ধভাবে অনুকরণ না করার পাশাপাশি এর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও সম্যক ধারণা থাকা উচিত। ধাপে ধাপে এর আলোচনা করা যাক।

মূলত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেম অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও তাদের মৌলিক সীমা আছে। প্রথমত, এআই রিয়েল-টাইম তথ্য প্রসেস করতে পারে না। আবহাওয়া, স্থানীয় ঝুঁকি, যাতায়াত সুবিধা, রাস্তার অবস্থা— এসব বিষয় মিনিটে মিনিটে পরিবর্তন হয়। গত তিন মাসে সংগৃহীত তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে এআই ইতিবাচক সুপারিশ দিতে পারে। তবে আজকের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।

দ্বিতীয়ত, এআই স্থানীয় প্রসঙ্গ বোঝে না। একটি পথ সাধারণভাবে নিরাপদ হতে পারে, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ বিপজ্জনক হতে পারে। যেমন মৌসুমি বৃষ্টিতে ভূমিধস, পূর্ণিমার রাতে বন্য প্রাণীর গতিবিধি, বা স্থানীয় অনুষ্ঠানের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হওয়া।

তৃতীয়ত, এআই ডেটা হ্যালুসিনেশনে পড়তে পারে। যখন তার কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকে, তখন সে বিশ্বাসযোগ্য-সোঁদা তথ্য তৈরি করে। ব্যবহারকারী তা বাস্তব মনে করে ঝুঁকি নেয়।

তাই দুর্গম অঞ্চলে যাওয়ার আগে অপরিহার্য যেসব সতর্কতা অবলম্বন জরুরি সেগুলো হলো—

পর্বতারোহণ, ট্রেকিং বা দুর্গম এলাকা অভিযানে যাওয়ার আগে অভিজ্ঞ গাইড, স্থানীয় ট্রেকিং সংস্থা বা পর্বত উদ্ধার সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তারা আপনার উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং সময়সীমা বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত মতামত দিতে পারে।

যে এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানকার বাসিন্দা বা যারা নিয়মিত যায় তাদের সাথে কথা বলতে হবে। তারা ঋতু অনুযায়ী ঝুঁকি, সেরা সময়, জরুরি আশ্রয়স্থল এবং জরুরি যোগাযোগের তথ্য দিতে পারে, যা এআই পারবে না।

তবে, এআই পরামর্শ নিলেও তা শুধু তথ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে নয়। দলের শারীরিক ফিটনেস, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, জরুরি চিকিৎসা প্রশিক্ষণ, যোগাযোগের মাধ্যম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দলের আকার— এসব যাচাই করা আবশ্যক।

একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, এআই অসাধারণ সহায়ক, কিন্তু জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্তের জন্য তা যথেষ্ট নয়। এআই এবং মানব বিচারবুদ্ধির সমন্বয় প্রয়োজন।

তাই দুর্গম অঞ্চলে যাওয়ার আগে এআই থেকে প্রাথমিক তথ্য জানা-শোনা করা যায়। তবে সিদ্ধান্ত নিতে হনে বাস্তব বিশেষজ্ঞ এবং নিজের অভিজ্ঞতার নিরিখে।

আসলে প্রযুক্তি মানুষের সহযোগী হতে পারে, কিন্তু অভিযাত্রী তো মোটেই নয়।

/এমএইচআর

Logo