×
Logo

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বেইজিংয়ের এআই-থিমড বারে পানীয়র সঙ্গে মিলছে ডিপসিক টোকেন: রয়টার্স

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম

বেইজিংয়ের এআই-থিমড বারে পানীয়র সঙ্গে মিলছে ডিপসিক টোকেন: রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের উন্মাদনা যখন চীনে তুঙ্গে, তখন সেই ঢেউয়ে চড়তে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন বেইজিংয়ের এক বার মালিক। তার বারে পানীয়ের সঙ্গে মিলছে বিনামূল্যে ডিপসিকের টোকেন। এআই ও অ্যালকোহলের মধ্যে ৩টি মিলও খুঁজে পেয়েছেন তিনি: ‘হ্যালুসিনেশন’, ‘বাবেলস’ এবং ‘ডিস্টিলেশন’। 

বেইজিংয়ের হাইদিয়ান জেলার প্রযুক্তিকেন্দ্রিক এলাকা ঝংগুয়ানছুনে গত বছর ‘এজিআই’ নামে এই বার চালু করেন এআই ডেভেলপার সং দে। ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ বা এজিআই ধারণা থেকেই বারটির নাম নেওয়া হয়েছে। এআইয়ের এই ধারণার লক্ষ্য হলো এমন প্রযুক্তি তৈরি করা, যা একসময় মানুষের বুদ্ধিমত্তার সমকক্ষ বা তার চেয়েও বেশি সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

খুব অল্প সময়েই বারটি বেইজিংয়ের এআই ডেভেলপার, বিনিয়োগকারী ও শিক্ষার্থীদের আড্ডার জায়গা হয়ে উঠেছে। সং দে জানান, বিভিন্ন এআই ল্যাব, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা মানুষকে প্রায়ই একই টেবিলে বসে এআই শিল্পের সাম্প্রতিক প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়।

ঝংগুয়ানছুনের ইনো ওয়ে স্টার্টআপ স্ট্রিটে অবস্থিত বারটি চীনের শীর্ষ দুই বিশ্ববিদ্যালয় সিংহুয়া ও পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি। আশপাশেই রয়েছে ডিপসিক ও মাইক্রোসফটের মতো দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়।

চীনের এআই প্রতিষ্ঠান জেডডটএআই-এর বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি বারটিতে নিয়মিত ডেভেলপার সেমিনার, ওপেন-সোর্স এআই নিয়ে আলোচনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা সভার আয়োজন করা হয়।

সং দের মতে, বারটির অবস্থান অত্যন্ত সুবিধাজনক। হাইদিয়ান দীর্ঘদিন ধরেই চীনের বৈজ্ঞানিক গবেষণার অন্যতম কেন্দ্র। এখানে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালভিত্তিক উদ্যোগ এআই খাতকে দ্রুত এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে।

তবে এ বারের আসল আকর্ষণ শুধু পানীয় নয়, বরং এআই সুবিধা। ক্রেতারা বারের ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এর এআই এজেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। এর মাধ্যমে বিনামূল্যে সীমাহীন ডিপসিক টোকেন পাওয়া যায়, যা দিয়ে কোডিং করা সম্ভব।

এআই ব্যবহারের জন্য বারে দুটি এনভিডিয়া ডিজিএক্স স্পার্ক কম্পিউটারও রাখা হয়েছে।

সং দে বলেন, তার কাছে এআই ভবিষ্যতের পানি, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের মতো একটি গণসেবা। তার মতে, এআইও ওয়াই-ফাইয়ের মতো সবার জন্য সহজলভ্য হওয়া উচিত।

বারটির নিবন্ধিত চীনা নামের ইংরেজি অর্থ ‘নলেজ ডিস্টিলেশন’। মদ তৈরির প্রক্রিয়ায় পাতন এবং এআই মডেলের ‘নলেজ ডিস্টিলেশন’—দুই ধারণাকে মিলিয়েই নামটি রাখা হয়েছে।

এআইয়ের ক্ষেত্রে ‘নলেজ ডিস্টিলেশন’ হলো বড় মডেল থেকে ছোট মডেলে জ্ঞান ও সক্ষমতা স্থানান্তরের একটি প্রযুক্তি। সং দের ভাষায়, বারের টেবিলে মানুষের মধ্যে ধারণা ও জ্ঞান বিনিময়ও এক ধরনের ‘নলেজ ডিস্টিলেশন’।

শিগগিরই আসছে হিউম্যানয়েড রোবট

বারটিতে এখনো কর্মীরা কাজ করছেন। তবে মজুত ব্যবস্থাপনা, বুকিং, ইউটিলিটি ও সদস্যপদ পরিচালনার মতো বেশ কিছু কাজ ইতোমধ্যে এআই এজেন্টের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় করেছেন সং দে।

গ্রাহকদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে চলতি বছর বেইজিংয়ের বারটির পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। পাশাপাশি পানীয় পরিবেশনের কাজে হিউম্যানয়েড রোবট যুক্ত করারও পরিকল্পনা করছেন তিনি। গত জুনে সাংহাইয়ে এর একটি শাখাও চালু করেছেন সং দে।

তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ এখনো লাভের মুখ দেখেনি। সং দের ভাষ্য, বারটি বর্তমানে পুরোপুরি লোকসানে চলছে। বিক্রি হওয়া পানীয়ের তুলনায় বিনামূল্যে দেওয়া পানীয়ের সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেশি।

তারপরও চীনে এআইকে ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তার এক অভিনব প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে এই বার, যেখানে একসঙ্গে চলছে পানীয়, আড্ডা আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চর্চা।

/এআই

Logo