×
Logo

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

সিএনএনের প্রতিবেদন

কুকুর মানুষের মুখ দেখেই বুঝতে পারে সে সুখী-দুঃখী না ভীত: গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

কুকুর মানুষের মুখ দেখেই বুঝতে পারে সে সুখী-দুঃখী না ভীত: গবেষণা

কুকুর মানুষের মুখ দেখেই বুঝতে পারে, সে সুখী-দুঃখী না ভীত। নতুন এক গবেষণায় কুকুরের মস্তিষ্কের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এমনই প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণাটি পরিচালনা করা হয় প্রশিক্ষিত পোষা কুকুরের ওপর। ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং বা এফএমআরআই স্ক্যানের সময় কুকুরগুলোকে জাগ্রত অবস্থায় রেখে মানুষের বিভিন্ন আবেগ প্রকাশ করা মুখের ছবি দেখানো হয়। এর মধ্যে ছিল খুশি, রাগ, ভয় ও দুঃখের অভিব্যক্তি।

সোমবার (১০ আগস্ট) বৈজ্ঞানিক সাময়িকী আইসায়েন্স-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষের মুখের অভিব্যক্তি অনুযায়ী কুকুরের মস্তিষ্কে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কার্যক্রম দেখা যায়।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এই গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণাটির জ্যেষ্ঠ লেখক লরা ভি. কুয়ায়া বলেন, মানুষের সঙ্গে কুকুরের সম্পর্ককে শুধু বিবর্তনের ধারায় ব্যাখ্যা করা যায় না। 

তার ভাষায়, গৃহপালনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কুকুর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক সক্ষমতা অর্জন করেছে।

গবেষণার প্রথম ধাপে, আটটি কুকুরের মস্তিষ্ক স্ক্যান করা হয়। এদের মধ্যে ছয়টি বর্ডার কলি, একটি ল্যাব্রাডর ও একটি গোল্ডেন রিট্রিভার ছিল।

কুকুরগুলোকে অপরিচিত মানুষের খুশি ও নিরপেক্ষ মুখের ছবি দেখানো হয়। এতে মস্তিষ্কের টেম্পোরাল কর্টেক্স ও কডেট নিউক্লিয়াসে কার্যক্রম বেড়ে যায়। মস্তিষ্কের এসব অংশ আনন্দ-সম্পর্কিত অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত।

গবেষক লরা কুয়ায়ার মতে, এর অর্থ হলো, অপরিচিত মানুষের হাসিমুখও কুকুরের কাছে আবেগগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এরপর গবেষকরা জানতে চেয়েছিলেন, মানুষের অন্য আবেগপূর্ণ অভিব্যক্তির ক্ষেত্রেও কুকুরের মস্তিষ্কের একই অংশ একইভাবে সাড়া দেয় কি না।

এজন্য আরও ১২টি কুকুরকে সুখ, রাগ, ভয় ও দুঃখ প্রকাশ করা মানুষের মুখের ছবি দেখানো হয়। পরে মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির মাধ্যমে কুকুরগুলোর মস্তিষ্কের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, মানুষের রাগ, ভয় বা দুঃখের মুখ দেখে কুকুরের মস্তিষ্কে খুশির মুখ দেখার সময়কার মতো একই ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়নি।

তবে পুরো মস্তিষ্কের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখতে পান, নেতিবাচক আবেগ প্রকাশ করা মুখের ছবি দেখার সময় কুকুরের মস্তিষ্কে স্বতন্ত্র কিছু কার্যক্রমের ধরন তৈরি হয়।

গবেষণার প্রধান লেখক ও ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রাউল হার্নান্দেজ-পেরেজ বলেন, মানুষ মুখের খুব সূক্ষ্ম পরিবর্তনও সহজে বুঝতে পারে। কুকুরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সক্ষমতা রয়েছে বলে গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত দেয়।

তিনি বলেন, কুকুরের মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা করলে মানুষের আবেগ ও সামাজিক আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে তাদের অসাধারণ সক্ষমতা কীভাবে তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

কুকুরের ক্ষেত্রে খাবারের মতো বস্তুগত পুরস্কারের পাশাপাশি সামাজিক পুরস্কারের সঙ্গেও মস্তিষ্কের কার্যক্রমের সম্পর্ক রয়েছে। যেমন—প্রশংসাসূচক কথা শোনা কিংবা পরিচিত মানুষের গন্ধ পাওয়ার ক্ষেত্রেও কডেট নিউক্লিয়াস সক্রিয় হতে পারে।

গবেষকদের মতে, কুকুর মানুষের মুখে খুশির অভিব্যক্তি দেখলে ঠিক কী অনুভব করে, তা সরাসরি জানা সম্ভব নয়। তবে গবেষণার ফলাফল বলছে, এমনকি অপরিচিত মানুষের হাসিমুখ দেখার ক্ষেত্রেও কুকুরের মস্তিষ্কে ইতিবাচক আবেগ-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে পারে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মানুষের আবেগ বোঝার ক্ষেত্রে কুকুর শুধু মুখের অভিব্যক্তির ওপর নির্ভর করে না।

একজন মানুষের শরীরের ভাষা, কণ্ঠস্বর এবং এমনকি শরীরের গন্ধও কুকুরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে কাজ করে। বাস্তব জীবনে মানুষের আবেগ বোঝার সময় এসব বিষয় একসঙ্গেই বিবেচনায় নেয় প্রাণীগুলো।

গবেষণায় অংশ নেওয়া সব কুকুরই ছিল ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা পোষা প্রাণী। ফলে রাস্তায় বেড়ে ওঠা বা মানুষের সঙ্গে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন কুকুরের ক্ষেত্রে মানুষের আবেগ ও আচরণগত সংকেত বোঝার প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

গবেষণাটির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবেও জড়িয়ে আছেন কুয়ায়া ও হার্নান্দেজ-পেরেজ। তারা দম্পতি এবং তাদের নিজেদের দুই কুকুর, ওডিন ও কুন-কুন, এই গবেষণায় অংশ নিয়েছে।

গবেষকদের এই অনুসন্ধান কুকুর কীভাবে মানুষের আবেগ বোঝে এবং হাজার হাজার বছরের গৃহপালন কীভাবে তাদের সামাজিক ও মানসিক সক্ষমতাকে বদলে দিয়েছে, তা বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

/এআই 

Logo