×
Logo

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

দেড় বিলিয়ন ডলারে ইসরায়েলি ড্রোন প্রতিষ্ঠান 'ডি-ফেন্ড সল্যুশনস' কিনছে মটোরোলা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

দেড় বিলিয়ন ডলারে ইসরায়েলি ড্রোন প্রতিষ্ঠান 'ডি-ফেন্ড সল্যুশনস' কিনছে মটোরোলা

ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'ডি-ফেন্ড সল্যুশনস' কিনতে যাচ্ছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মটোরোলা সল্যুশনস। এক দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে এ চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।

গত সোমবার (১ জুন) চুক্তির ঘোষণা দেয় মটোরোলা। ২০২৬ সালের শেষের দিকে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত, 'ডি-ফেন্ড সল্যুশনস' বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের সম্ভাব্য আয় ধরা হচ্ছে ১৮৫ মিলিয়ন ডলার।

ডি-ফেন্ডের মূল প্রযুক্তি ‘এনফোর্স-এয়ার’ ড্রোন ধ্বংস না করেই সেগুলোর রেডিও সংকেত নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম। এর মাধ্যমে সন্দেহজনক ড্রোন শনাক্ত করে নিরাপদে নির্ধারিত স্থানে নামিয়ে আনা যায়।

বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কিংবা জনবহুল এলাকায় যেখানে প্রচলিত ড্রোনবিধ্বংসী প্রযুক্তি ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে এই প্রযুক্তি কার্যকর বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটি'র।

মটোরোলার চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্রেগ ব্রাউন বলেন, যেকোনো বেপরোয়া ড্রোন, আকাশপথে নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শুধু শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়, হুমকি নিষ্ক্রিয় করার সক্ষমতাও প্রয়োজন।

অন্যদিকে, ডি-ফেন্ডের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোহার হালাচমি বলেন, মটোরোলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকায় ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেই বাজারে শক্ত অবস্থান গড়তেই এ অধিগ্রহণের পথে হাঁটছে মটোরোলা।

ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ থেকে নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ড্রোন প্রতিরোধ করার বিষয়টি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ইরানি ড্রোন হামলায় ধ্বংসের পর এই ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির ওপর ঝুঁকছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। 

এছাড়াও যুদ্ধে সেনা হারানোর জেরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ইসরায়েলি বাহিনী বলে জানিয়েছিলেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির। চলতি বছরের মার্চে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এবং একাধিক ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধের প্রচণ্ড চাপে সেনাবাহিনী 'ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার' বা 'পতনের' ঝুঁকিতে রয়েছে। 

এমন কথা বিবেচনা করে, যুদ্ধে সেনাদের ঝুঁকি কমাতে এআইনির্ভর স্বয়ংক্রিয় রোবট বানাচ্ছে ইসরায়েলি টেক স্টার্ট-আপ শিফটার্স। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে, নতুন করে ১০ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে স্টার্টআপটি।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের রোবটিক টেক ডেভেলপের মূল লক্ষ্য, যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের ঝুঁকি কমানো। এআইচালিত রোবটগুলো ধ্বংসস্তূপ, টানেল, দূষিত এলাকা বা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অভিযান চালাতে সক্ষম হবে। তবে পুরো কার্যক্রমই থাকবে হিউম্যান অপারেটরের তত্ত্বাবধানে।

শিফটার্সের প্রধান দুটি প্রযুক্তি হলো ‘ট্রাস্ট’ এবং ‘রিটা’। ট্রাস্ট হচ্ছে চার পায়ে চলাচলকারী স্বয়ংক্রিয় রোবট, যা অনেকটা চীনের উদ্ভাবিত রোবট ডগের মতো আইডেন্টিকাল। অন্যদিকে, রিটা হলো এআইভিত্তিক সফটওয়্যার ব্যবস্থা, যা রোবটগুলোর চলাচল, নেভিগেশন, ওয়েদার বিশ্লেষণ ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।

এছাড়াও গত এপ্রিলে, ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবার মধ্যেই ইসরায়েলের 'এফ-৩৫' বহরে বড় আপগ্রেডের উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ফাইটার জেটগুলোর স্টেলথ মোড ভেদ করে সফলভাবে হামলা চালিয়ে ভূপাতিত করে ইরানি ড্রোন। তাই, সবমিলিয়ে বিভিন্ন সামরিক খাতে বিনিয়োগ করছে ইসরায়েল। আর সেগুলো হয় কিনছে যুক্তরাষ্ট্র নাহলে  ডিফেন্স প্যাক বানিয়ে যৌথভাবে তৈরি করছে, যাতে যুদ্ধে এগিয়ে থাকা যায়। 

/এআই 

Logo