ঘন কুয়াশার বিড়ম্বনা এফএ কাপে, ধারাভাষ্যকার বললেন— ৩৫ বছরের ক্যারিয়ারে ‘সবচেয়ে ভয়ংকর’
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
ঘন সাদা কুয়াশায় ঢেকে গিয়েছিল পুরো ফুটবল মাঠ। বল কোথায়, কোন দল আক্রমণে কিংবা কোন খেলোয়াড়ের পায়ে বল— কিছুই ঠিকমতো বুঝতে পারছিলেন না ধারাভাষ্যকাররা। এমন অদ্ভুত পরিস্থিতিতে শনিবার (৭ নভেম্বর) এফএ কাপের প্রথম রাউন্ডে আলট্রিনচ্যাম ও নটস কাউন্টির ম্যাচটি হয়ে ওঠে খেলোয়াড়, দর্শক ও ধারাভাষ্যকারদের জন্য এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।
ইংল্যান্ডের মোস লেন স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর পর থেকেই ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হতে থাকে মাঠ। পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল হয়ে ওঠে যে, বিবিসি টুতে সরাসরি সম্প্রচারিত ম্যাচটির ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে মাঠের খেলাই দেখতে পাচ্ছিলেন না বিবিসি স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার স্টিভ বাওয়ার। বিশেষ করে ৬০ মিনিটের পর মাঝমাঠের ওপারে কী ঘটছে, তা প্রায় বোঝাই যাচ্ছিল না।
নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বাওয়ার বলেন, ‘আমার দীর্ঘ ৩৫ বছরের ক্যারিয়ারে এটি ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। এক সহকর্মী আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রায় তিন বছর আগে বিবিসিতে ইয়র্ক ও উইগানের মধ্যকার এফ কাপের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচেও এমন হয়েছিল। সেদিনও কুয়াশা নেমে এসেছিল।’
তিনি বলেন, ‘কোন দল বলের দখলে আছে, এমনকি কোন খেলোয়াড়ের কাছে বল রয়েছে, সেটিও বুঝতে পারছিলাম না। দর্শকেরা ফোনে বার্তা পাঠাচ্ছিলেন— ধারাভাষ্য ভালো হচ্ছে, কিন্তু টেলিভিশনে কিছুই দেখা যাচ্ছে না।’
ম্যাচে ন্যাশনাল লিগের দল আলট্রিনচ্যাম একপর্যায়ে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ক্যালাম রবার্টসের গোলে সমতায় ফেরে লিগ ওয়ানের নটস কাউন্টি। অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল ব্যবধান গড়তে না পারায় শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় তুলে নেয় সফরকারীরা।
বিবিসি রেডিও নটিংহামের ধারাভাষ্যকার ও নটস কাউন্টির সাবেক স্ট্রাইকার মার্ক স্ট্যালার্ড পরিস্থিতিকে ‘স্পট দ্য বল’ প্রতিযোগিতার সঙ্গে তুলনা করেন। তার ভাষায়, প্রেস বক্সে থাকা কেউই বুঝতে পারছিলেন না বল কোথায়।
কুয়াশার প্রভাব পড়েছিল দুই দলের কৌশলেও। কোচেরা মাঠের পরিস্থিতি ঠিকমতো দেখতে না পারায় খেলোয়াড়দের কৌশলগত পরিবর্তন বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ পাসের বদলে খেলোয়াড়দের ছোট দূরত্বে পাস খেলতে হয়েছে। একপর্যায়ে দৃশ্যমানতা এতটাই কমে যায় যে, ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল বলে জানান বাওয়ার।
টাইব্রেকারের সময়ও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। গোলরক্ষকের সেভ কিংবা বলের গতিপথ সরাসরি দেখতে পারেননি ধারাভাষ্যকাররা। দর্শকদের উল্লাস শুনে ফলাফল অনুমান করতে হয়েছে, পরে রিপ্লে দেখে নিশ্চিত হয়েছেন তারা। এ সময় আলট্রিনচ্যামের সমর্থকেরা মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে নটস কাউন্টির খেলোয়াড়দের মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টাও করেন।
সব মিলিয়ে ঘন কুয়াশার কারণে ম্যাচটি হয়ে ওঠে এক অস্বাভাবিক ফুটবল সন্ধ্যা। মাঠের খেলাই যখন চোখে দেখা যাচ্ছিল না, তখন ধারাভাষ্য চালিয়ে যাওয়া ছিল আলাদা এক চ্যালেঞ্জ। বাওয়ারের ভাষায়, ‘সব দিক থেকেই এটি ছিল এক অনন্য সন্ধ্যা।’
/এসএম/এনএ