×
Logo

খেলাধুলা

আঙুলের টোকায় প্রতারণা, দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ ‘ক্লিকি পন্টিং’

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

আঙুলের টোকায় প্রতারণা, দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ ‘ক্লিকি পন্টিং’

আঙুল দিয়ে শব্দ করে আম্পায়ারকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন ইংল্যান্ডের অপেশাদার ক্রিকেটার ব্রায়ান ডিভাইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্লিকি পন্টিং’ নামে পরিচিত এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে বল ব্যাটের কানায় লাগার শব্দ নকল করে প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে আউট করানোর অভিযোগ উঠেছিল।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে ডিভাইনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নর্থ ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড সাউথ ডারহাম ক্রিকেট লিগ (এনওয়াইএসডিএল)। 

এর আগে, গত জুলাইয়ে নর্থ ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড সাউথ ডারহাম ক্রিকেট লিগের (এনওয়াইএসডি) দ্বিতীয় বিভাগে নর্টনের বিপক্ষে ম্যাচে সল্টবার্ন দ্বিতীয় একাদশের হয়ে খেলছিলেন ডিভাইন। ওই ম্যাচের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোচনায় আসে।

ভিডিওতে দেখা যায়, নোমান শাবিরের ব্যাটের পাশ দিয়ে বল যাওয়ার সময় স্লিপে দাঁড়িয়ে আঙুল দিয়ে শব্দ করেন ডিভাইন। এরপর বলটি উইকেটরক্ষক জশ বোয়েসের হাতে জমা পড়ে। সল্টবার্নের খেলোয়াড়েরা আবেদন করলে আম্পায়ার শাবিরকে আউট ঘোষণা করেন। অভিযোগ, ব্যাটের কানায় বল লাগার শব্দ তৈরি করে আম্পায়ারকে বিভ্রান্ত করতেই আঙুল দিয়ে টোকা দিয়েছিলেন ডিভাইন।

এই ঘটনার পর তদন্ত শেষে ডিভাইনকে ২০২৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) আওতাধীন সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় তিনি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামতে পারবেন না। পাশাপাশি কোচিং, আম্পায়ারিং, স্কোরিং কিংবা জুনিয়র দল পরিচালনার দায়িত্বও পালন করতে পারবেন না।

শুধু ডিভাইন নন, শাস্তি পেয়েছে তার ক্লাব সল্টবার্ন ক্রিকেট ক্লাবও। দ্বিতীয় একাদশকে দ্বিতীয় বিভাগ থেকে তৃতীয় বিভাগে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ মৌসুমে ৬০ পয়েন্ট কেটে নিয়ে তাদের লিগ শুরু করতে হবে। এ ছাড়া ক্লাবটিকে ৩০০ পাউন্ড জরিমানাও করা হয়েছে।

এনওয়াইএসডি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সল্টবার্নের দ্বিতীয় একাদশের এক খেলোয়াড়ের আচরণ নিয়ে জুলাইয়ের শেষ দিকে একাধিক ম্যাচের বিষয়ে অভিযোগ পায় লিগ কর্তৃপক্ষ। এরপর সল্টবার্ন ক্রিকেট ক্লাবের সহযোগিতায় তদন্ত শুরু হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই তদন্তে খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকার, লিখিত বক্তব্য এবং ভিডিও ফুটেজ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

লিগ কর্তৃপক্ষ জানায়, শাস্তির আওতায় শুধু ডিভাইন এলেও তদন্তে তাদের ধারণা, সল্টবার্ন দলের অন্য সদস্যরাও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে খেলোয়াড় ও ক্লাব— উভয় পক্ষই অভিযোগ স্বীকার করেছে। ডিভাইন তার শাস্তি মেনে নিলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেছে।

সল্টবার্নের দ্বিতীয় একাদশের অবনমনের ফলে লিগে টিকে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে মিডলসব্রোর দ্বিতীয় একাদশ। ১২ দলের প্রতিযোগিতায় ১১তম স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করেছিল তারা। অন্যদিকে, সল্টবার্নের প্রথম একাদশ আগেই এনওয়াইএসডি প্রিমিয়ার লিগে ১১তম হয়ে অবনমনের মুখে পড়েছিল।

বিবৃতিতে এনওয়াইএসডি আরও বলেছে, এই ঘটনা অনেকের জন্যই মানসিক চাপের কারণ হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইনে ও সরাসরি হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছে লিগ কর্তৃপক্ষ। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ এবং অন্যদের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে তারা।

/এনএ 

Logo