বিশ্বকাপে চোট নিয়েই খেলেছিলেন মার্তিনেজ, আঙুল আর কখনো স্বাভাবিক হবে না
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৬ এএম
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে গিয়ে আঙুলের ভাঙা হাড় নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। অস্ত্রোপচার করালে ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতো, ফলে মিস করতে হতো বিশ্বকাপ। তাই চোট নিয়েই খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে সেই সিদ্ধান্তের মাশুল এখনো দিতে হচ্ছে আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষককে।
মার্তিনেজ জানিয়েছেন, আঙুলের অবস্থা আর কখনো আগের মতো হবে না। এখনো ব্যথা নিয়েই খেলতে হচ্ছে তাঁকে।
৩৪ বছর বয়সী, এই গোলরক্ষক, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচেই পুরো সময় খেলেছেন। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে তাকে।
গত মে মাসে, ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে তার সাবেক ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে আঙুল ভেঙে যায় মার্তিনেজের। এরপরও বিশ্বকাপে খেলার জন্য অস্ত্রোপচার 'না' করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
মার্তিনেজ জানান, বিশ্বকাপ শুরুর আগে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক কোচ মার্তিন তোকাল্লি এবং দলের চিকিৎসক দানি মার্তিনেজের সঙ্গে আলোচনা করে তারা অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তাকে বাড়তি সুরক্ষা দিতে বিশেষভাবে তৈরি গ্লাভস সরবরাহ করে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস।
তবে অস্ত্রোপচার না করায় আঙুলের হাড় এখনো সঠিক অবস্থানে ফেরেনি। মার্তিনেজের ভাষায়, অস্ত্রোপচার করালে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠতেন এবং আঙুলও আগের অবস্থায় ফিরে যেত। কিন্তু তাতে বিশ্বকাপ খেলা হতো না। এখন আর আঙুল কখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না।
সাংবাদিক গাস্তন এদুলের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপের সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মার্তিনেজ।
তিনি বলেন, ‘আমি তখন জম্বির মতো ডাইভ দিতাম। এভাবে ডাইভ দেওয়ার পর উঠে হাত মাটিতে রাখলেই চোখে সরষে ফুল দেখতাম। প্রতিদিন রাত ১২টা পর্যন্ত কাঁদতাম। কারণ, আমার আঙুলটা রক্ত জমাট বাঁধা সসেজের মতো হয়ে গিয়েছিল।’
জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে এমন ঝুঁকি নেওয়ার বিষয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘জাতীয় দলের জন্য এগুলো এমন ঝুঁকি, যা আপনাকে নিতেই হয়। আবারও এমন পরিস্থিতি হলে আমি একই সিদ্ধান্ত নিতাম।’
ছয় বছর অ্যাস্টন ভিলায় কাটানোর পর, চলতি গ্রীষ্মে, চেলসিতে যোগ দেন মার্তিনেজ। এর আগে তাকে দলে নিতে আগ্রহী ছিল ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাস। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাব্য দলবদল আর সম্পন্ন হয়নি।
দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, আঙুলের চোটই ছিল দলবদল ভেস্তে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
মার্তিনেজ বলেন, ‘তারা বলেছিল, এ অবস্থায় আমার পক্ষে খেলা অসম্ভব। অস্ত্রোপচার করাতেই হবে। চেলসির এ নিয়ে কোনো আপত্তি ছিল না। তবে একসময় আপনাকে অস্ত্রোপচার করাতে হবে।’
এদিকে ক্লাবটির অবস্থান সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের বিষয়টি গোলরক্ষকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করছে চেলসি। স্বাভাবিকভাবে খেলার জন্য তার অস্ত্রোপচার জরুরি নয় বলেও মনে করছে ক্লাবটি।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইম্স।
/এআই