ইপিএলে ম্যান সিটিকে ২-১ হারিয়েছে অ্যাস্টন ভিলা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
নিকোলাস জ্যাকসনের দুর্দান্ত জোড়া গোলে ম্যানচেস্টার সিটির ১০০% জয়ের ধারা থামিয়ে দিয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। প্রিমিয়ার লিগে, মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচেই, জয় তুলে নেওয়া সিটি এবার হোঁচট খেলো উনাই এমেরির দলের বিপক্ষে।
ভিলার মাঠে ২-১ গোলের এই জয়ে শীর্ষে থাকা সিটির নিখুঁত রেকর্ড যেমন ভাঙল, তেমনি লিগের পয়েন্ট তালিকার ওপরের অর্ধে উঠে এসেছে স্বাগতিকরা।
সিটির বিপক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত রেকর্ড ধরে রেখেছে ভিলা। দুই দলের সর্বশেষ সাত দেখায় এটি তাদের পঞ্চম জয়। ভিলা পার্কে, সিটির বিপক্ষে টানা চতুর্থ জয়ও এটি। ক্লাবটির কোচ হিসেবে উনাই এমেরির দায়িত্ব নেওয়ার চতুর্থ বর্ষপূর্তির দিনেই এলো গুরুত্বপূর্ণ এই জয়।
ম্যাচের শুরুতেই, সিটির রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় অ্যাস্টন ভিলা। নিজেদের রক্ষণভাগে বল নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে ভুল করেন সিটির ডিফেন্ডার মার্ক গেহি। সেই সুযোগে জন ম্যাকগিন বল বাড়িয়ে দেন নিকোলাস জ্যাকসনকে। এরপর ইলিমান এনদিয়ায়ের বাধা এড়িয়ে বক্সের ভেতরে ঘুরে দাঁড়িয়ে উঁচু শটে বল জালে পাঠান জ্যাকসন। সেসময় গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার কিছুই করার ছিল না।
প্রথমার্ধে, সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় সিটি। ইলিমান এনদিয়ায়ের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপরও আক্রমণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে সফরকারীরা। তবে বিরতির আগে ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি কোনো দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফেরে ম্যানচেস্টার সিটি। ডান দিক থেকে এনদিয়ায়ের বাড়ানো ক্রসে উঁচুতে লাফিয়ে হেড করেন আর্লিং হালান্ড। তার হেড ঠেকাতে পারেননি ভিলার গোলরক্ষক। প্রিমিয়ার লিগে টানা সপ্তম ম্যাচে গোলের দেখা পান নরওয়েজীয় এই স্ট্রাইকার।
তবে সমতায় ফেরার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সিটির। মাত্র আট মিনিট পরই, আবার এগিয়ে যায় ভিলা। বদলি হিসেবে নামা ইব্রাহিম এমবায়ের নিচু ক্রস প্রথম ছোঁয়াতেই শটে পরিণত করেন জ্যাকসন। বলটি দোন্নারুম্মার বাঁ হাতের নিচ দিয়ে জালে ঢুকে যায়। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলের পাশাপাশি দলকে এনে দেন গুরুত্বপূর্ণ জয়।
শেষদিকে হালান্ডের আরেকটি হেড গোলের দিকে এগিয়ে গেলেও তা বিপদমুক্ত করেন ভিলার ডিফেন্ডার ইয়ান মাতসেন। ফলে মৌসুমে নিজেদের মাঠে প্রথম লিগ জয়ের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
এই হারের পরও প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা সিটির সঙ্গে দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্সেনালের ব্যবধান তিন পয়েন্ট। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৩টায় এভারটনের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা আর্সেনালের। অন্যদিকে, জয়ের সুবাদে পয়েন্ট তালিকার ওপরের অর্ধে উঠে এসেছে অ্যাস্টন ভিলা।
মৌসুমের প্রথম দুই লিগ ম্যাচে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। পরের ছয় ম্যাচ থেকে ১১ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে দলটি। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের আসা-যাওয়ার পর নতুনভাবে সাজানো দলটি এখন ধীরে ধীরে ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে।
সিটির বিপক্ষে ম্যাচে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে আসা চার খেলোয়াড়কে একাদশে রাখেন এমেরি। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন জ্যাকসন। লিগ ও কাপ মিলিয়ে ভিলার হয়ে ১১ ম্যাচে এটি তার সপ্তম গোল। সিটির বিপক্ষে দলের লক্ষ্যে রাখা মাত্র দুটি শটই থেকে এসেছে তাঁর পা থেকে, আর দুটিই জালে জড়িয়েছে।
ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে সিটির চাপের মধ্যেও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিলেন জ্যাকসন ও ইয়োহান মানজাম্বি। বিরতির ঠিক আগে এমনই এক পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বক্সের বাইরে জ্যাকসনকে ফেলে দেন গেহি। এ ঘটনায় হলুদ কার্ডও দেখেন সিটির এই ডিফেন্ডার।
মাঝমাঠে জোয়াও গোমেস ও বুবাকার কামারা একসঙ্গে সিটির আক্রমণ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা বেশ কয়েকবার ভেস্তে দেন। গোলরক্ষক জিওন সুজুকিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রথমার্ধে এনদিয়ায়ে, রায়ান শেরকি ও আবদুকোদির খুসানভের শট ঠেকান তিনি। হালান্ডের গোলের পরপরই ইয়োশকো গভারদিওলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টাও রুখে দেন সুজুকি।
পরে বদলি হিসেবে নামা এমবায়ে গোলের জন্য জ্যাকসনকে নিখুঁত ক্রস দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব রাখেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই ক্রস থেকেই আসে ম্যাচের নির্ধারণী গোল।
ইংলিশ শীর্ষ লিগের মৌসুমের প্রথম আট ম্যাচেই জয় পাওয়া অষ্টম দল হওয়ার সুযোগ ছিল ম্যানচেস্টার সিটির সামনে। একই সঙ্গে ১৮৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে চলে আসা ক্লাবের মৌসুমের শুরুতে টানা লিগ জয়ের রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্যও ছিল তাদের। কিন্তু ভিলার মাঠে সেই দুই সম্ভাবনাই শেষ হয়ে গেল।
ম্যাচের বড় একটি সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল সিটির। হালান্ডও নিজের গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। তবে রক্ষণভাগের দুটি ভুলই শেষ পর্যন্ত দলকে মূল্য দিতে বাধ্য করেছে।
এনজো ফার্নান্দেজের বাড়ানো উঁচু ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে নিজেদের গোল থেকে প্রায় ৩০ গজ দূরে বল হারান গেহি। সেই ভুল থেকেই প্রথম গোল হজম করে সিটি। বিরতির সময় গেহিসহ দুজন খেলোয়াড়কে তুলে নেন কোচ এনজো মারেস্কা।
জ্যাকসনের দ্বিতীয় গোলটিও ঠেকানোর সুযোগ ছিল সিটির। বক্সের ঠিক ভেতর থেকে নেওয়া শটটি খুব কাছ থেকে দোন্নারুম্মার দিকে গেলেও ইতালিয়ান গোলরক্ষক শক্তভাবে বলটি ঠেকাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বল তার হাতের নিচ দিয়ে জালে ঢুকে যায়।
সামনে ব্যস্ত সূচি অপেক্ষা করছে সিটির। বুধবার কারাবাও কাপের ম্যাচে ব্রাইটনের মুখোমুখি হবে তারা। এর তিন দিন পর একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলবে সিটি। এরপর নভেম্বরের ব্যস্ত সূচির শেষ দিকে ২৯ নভেম্বর লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের মাঠে খেলতে যাবে দলটি।
/এআই