চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
২ গোলে পিছিয়ে পড়েও ভিয়ারিয়ালকে হারিয়েছে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ এএম
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়েছে লিভারপুল। রোমাঞ্চকর এই জয়ে, বড় অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ১৮ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড রিও এনগুমোহা।
গোল না করেও নিজের গতি, দক্ষতা ও নিখুঁত পাসে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছেন এনগুমোহা। অন্যদিকে, গোল করে এবং সতীর্থদের সঙ্গে আক্রমণে কার্যকর ভূমিকা রেখে লিভারপুলের জয়ে অবদান রেখেছেন ম্যাক অ্যালিস্টার।
ম্যাচের প্রথমার্ধে, একসময়, দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বেশ চাপে পড়ে যায় লিভারপুল। তবে বিরতির আগেই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে ইংলিশ ক্লাবটি।
ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে জয় পাওয়া দল থেকে এই ম্যাচে ছয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন লিভারপুলের কোচ আন্দোনি ইরাওলা। আলেক্সান্দার ইসাক, ব্র্যাডলি বারকোলা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসের মতো খেলোয়াড়দের শুরুতে বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হয় দলটিকে। ম্যাচের শুরুতেই রক্ষণে ভুল করে বসে লিভারপুল।
রেনাতো ভেইগার বাড়ানো লম্বা বল সামলাতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের উদ্দেশে তার দুর্বল হেডের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল দখলে নেন জর্জেস মিকাউতাদজে। এরপর অ্যালিসনকে পরাস্ত করে ভিয়ারিয়ালকে এগিয়ে দেন তিনি।
প্রথম গোলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্প্যানিশ ক্লাবটি। নাথান সালিবার সহজ পাস থেকে বল পেয়ে জালে পাঠান সের্হি কার্দোনা। ম্যাচের আধা ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে লিভারপুল।
দুই গোল হজমের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা শুরু করে লিভারপুল। আক্রমণে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি, সেট পিস থেকেও সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালায় দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় ৩৬ মিনিটে ব্যবধান কমান ম্যাক অ্যালিস্টার।
কনস্তান্তিনোস সিমিকাসের নেওয়া কর্নার থেকে হেডে বল জালে পাঠান আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার। গোলটি লিভারপুলকে ম্যাচে ফেরার আত্মবিশ্বাস জোগায়। এরপর বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফেরে দলটি।
এবার আক্রমণের নেপথ্যে ছিলেন এনগুমোহা। তার বাড়ানো দারুণ এক চিপে পা ছুঁইয়ে গোল করেন রোনাল্ড আরাউহো। তাতে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া লিভারপুল বিরতিতে যায় ২-২ সমতা নিয়ে।
বিরতির পর আরাউহোর পরিবর্তে ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে মাঠে নামান ইরাওলা। রায়ান গ্রাভেনবার্চকে খেলানো হয় রাইট ব্যাক পজিশনে। পরিবর্তনের পর আক্রমণে আরও ধারালো হয়ে ওঠে লিভারপুল। মাঠের দখল নিয়ে একের পর এক আক্রমণে ভিয়ারিয়ালের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে দলটি।
এর মধ্যেই আবারও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন এনগুমোহা। সের্হি কার্দোনাকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর ম্যাক অ্যালিস্টারের সামনে তৈরি করে দেন ফাঁকা জালে বল পাঠানোর সুযোগ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। তাতে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লিভারপুল।
এরপর ব্যবধান আরও বাড়ান ভির্টৎস। বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লিভারপুলের হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি। ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলে ইংলিশ ক্লাবটি।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে হাল ছাড়েনি ভিয়ারিয়াল। আইওজে পেরেসের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান তানি ওলুওয়াসেই। তাতে ৪-৩ হওয়ার পর আবারও ম্যাচে ফেরার আশা জাগে স্প্যানিশ ক্লাবটির সমর্থকদের মনে।
শেষ দিকে সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালালেও আর গোলের দেখা পায়নি ভিয়ারিয়াল। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানের নাটকীয় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।
/এআই