হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৫০ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের তৃতীয় দিনেই চালকের আসনে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকসহ দুর্দান্ত বোলিংয়ে আফগানিস্তানকে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে অলআউট করেছে টাইগাররা। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করার পর, লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৪৪ রান। সব মিলিয়ে লিড দাঁড়িয়েছে ১৫০ রানে।
টেস্টে চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েছেন হাসান মাহমুদ। তার বোলিংয়েই বড় চাপে পড়ে আফগানিস্তান। এদিন হ্যাটট্রিক করে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে এই কীর্তি গড়া তৃতীয় বোলারও হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পেসার হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিকের মালিকও এখন তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের দুই উইকেটের পতন
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন তানজিদ হাসান। ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের এক ওভারে টানা তিনটি চার মারেন তিনি। ওই ওভারে আসে ১৭ রান। তবে পরের ওভারেই সেলিমের বলে ডিপ স্কয়ার লেগের সীমানায় ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শাদমান ইসলাম।
এরপর মুমিনুল হকও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। দারুণ ক্যাচটি নেন সেদিকউল্লাহ আতাল। এদিকে ১৮ রানে থাকা তানজিদকে নিজের বোলিংয়ে পাওয়া সহজ ক্যাচও ছাড়েন ইয়ামিন।
হাসানের হ্যাটট্রিকে ধসে পড়ে আফগানিস্তান
রোববার ( ১১ অক্টোবর) একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ৯টি উইকেট ভাগাভাগি করে নেন হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেন। এবাদত ৫৬ রানে ৪ উইকেট নেন। দিনের শুরুতেই ইকরাম আলিখিলকে ফিরিয়ে রহমত শাহর সঙ্গে তার ৮০ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি ভাঙেন এই পেসার। এরপর অন্য প্রান্ত থেকে আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান হাসান।
দ্বিতীয় দিনের বিকেলে ৪ উইকেটে ১৩৯ রান নিয়ে চাপে পড়েছিল আফগানিস্তান। সেখান থেকে রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখিলের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছিল দলটি। তৃতীয় দিনের সকালে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে লিড নেওয়ার লক্ষ্যও ছিল তাদের। কিন্তু এবাদত ও হাসানের পেস তোপে সেই আশা ভেস্তে যায়। শেষদিকে এক প্রান্তে অপরাজিত থাকা রহমতকে অসহায়ভাবে সতীর্থদের বিদায় দেখতে হয়।
ইকরামকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন এবাদত। পরের ওভারে ইতিহাস গড়েন হাসান মাহমুদ। তার ভেতরে ঢোকা বল নিচু হয়ে ইসমত আলমের স্টাম্পে আঘাত করে। পরের বলটি কাইস আহমেদের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে।
হ্যাটট্রিকের জন্য জিয়া-উর-রহমানকে দারুণ এক বলে ফাঁদে ফেলেন হাসান। ভেসে আসা বলটি মিস করেন জিয়া। সামনে পা বাড়িয়ে খেলার চেষ্টা করলেও বল আঘাত করে তার পেছনের প্যাডে। টিভি আম্পায়ার তিনটি লাল সংকেত দেওয়ার পরই উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ দল।
এর মধ্য দিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় বোলার হলেন হাসান। এর আগে ২০০৩ সালে আলোক কাপালি এবং ২০১৩ সালে সোহাগ গাজী এই কীর্তি গড়েছিলেন।
দ্রুততম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে ৫০ টেস্ট উইকেট হাসানের
ইয়ামিন আহমেদজাইকে আউট করে ম্যাচে নিজের পঞ্চম উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম টেস্ট খেলেই এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে পেছনে ফেলেছেন তাসকিন আহমেদকে, যাঁর লেগেছিল ১৮টি টেস্ট।
অন্যদিকে, শেষদিকে দ্রুত রান তুলে নিজের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রহমত শাহ। হাসানের বলে একটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে ৯১ থেকে ১০৫ রানে পৌঁছান তিনি। তবে পরের ওভারেই মোহাম্মদ সেলিমকে ফিরিয়ে আফগানিস্তানের ইনিংসের ইতি টানেন এবাদত। এই উইকেটটি ছিল লিটন দাসের পঞ্চম ডিসমিসাল। মুশফিকুর রহিমের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক হিসেবে এক ইনিংসে পাঁচটি ডিসমিসালের কৃতিত্ব অর্জন করেন লিটন।
/এনএ