ম্যানচেস্টার সিটির জন্য বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি চায় প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলো
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২ এএম
প্রিমিয়ার লিগের বেশ কয়েকটি ক্লাব চায়, ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের দায়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে অতীতের ‘রেট্রোস্পেকটিভ শাস্তি’র পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্যও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হোক। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিবিসি স্পোর্টকে এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত, প্রিমিয়ার লিগের, আর্থিক বিধি ভঙ্গের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগেই ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে একটি স্বাধীন কমিশন।
তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে সিটি। একই সঙ্গে, সলিসিটরস রেগুলেশন অথরিটি (এসআরএ) কমিশনের অনুসন্ধানগুলো খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেখানে সম্ভাব্য অসদাচরণের কোনো ইঙ্গিত আছে কি না, তা যাচাই করতে।
শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি ক্লাবের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে এক ধরনের ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সিটির আপিল ব্যর্থ হলে এমন শাস্তি দেওয়া উচিত, যাতে তারা যে সময়ে নিয়ম ভেঙেছে সেই সময়ের ক্ষতিও পুষিয়ে নেওয়া যায়। একই সঙ্গে, ভবিষ্যতে ক্লাবটির ক্ষমতাও সীমিত করা উচিত।
প্রিমিয়ার লিগের অন্তত চারটি ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদে এমন ধারণাও রয়েছে যে, শুধু একবার পয়েন্ট কেটে চ্যাম্পিয়নশিপে অবনমন করিয়ে দেওয়া সিটির অপরাধের মাত্রার তুলনায় যথেষ্ট শাস্তি হবে 'না'।
তবে আটবারের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন সিটির জন্য ঠিক কী ধরনের শাস্তি উপযুক্ত হবে, তা নিয়ে ক্লাবগুলোর মধ্যে মতের পার্থক্য রয়েছে। স্বাধীন কমিশনের রায়ে গুরুতর সব আর্থিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগেই সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি শীর্ষস্থানীয় ক্লাবের এক কর্মকর্তা বলেছেন, সিটির কাছ থেকে তাদের জেতা শিরোপাগুলো কেড়ে নেওয়া উচিত। তবে ট্রফিগুলো অন্য কোনো ক্লাবকে দিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ক্লাবগুলোর মধ্যে ‘তেমন কোনো তাড়া নেই’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বরং ওই সম্মানগুলো সিটির কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে খালি রাখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
তবে লিগে শাস্তির ধরন নিয়ে মতপার্থক্যের আরেকটি উদাহরণও রয়েছে। এর আগে বিবিসি স্পোর্টকে জানানো হয়েছিল, সিটির কাছ থেকে শিরোপা কেড়ে নেওয়ার বিষয়ে অন্য ক্লাবগুলোর মধ্যে খুব একটা আগ্রহ নেই।
ভবিষ্যতের শাস্তি কতটা দীর্ঘমেয়াদি হবে, তা নিয়েও ক্লাব কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, শুধু একটি মৌসুমে শাস্তি দেওয়া হলে সেটি সিটির জন্য কেবল ‘পথের সামান্য বাধা’ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, প্রথম সুযোগেই দলটি আবার প্রিমিয়ার লিগে ফিরে আসতে পারে।
এ কারণে প্রিমিয়ার লিগের বেশ কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মনে করেন, পয়েন্ট কেটে নেওয়ার শাস্তি একাধিক মৌসুমে ভাগ করে দেওয়া উচিত। একইভাবে, একাধিক ট্রান্সফার উইন্ডোতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে দ্রুত শীর্ষ লিগে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সিটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে বলে মনে করছেন তারা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, পুরো প্রক্রিয়া চলমান থাকা এবং এখনো শাস্তি কার্যকর না হওয়ার অবস্থায় সিটি যদি আগামী জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে খেলোয়াড় কিনতে বা বিক্রি করতে পারে, তাহলে সেটি হবে ‘অদ্ভুত, প্রায় বোধগম্যতার বাইরে’।
কয়েকটি ক্লাব জানিয়েছে, প্রিমিয়ার লিগের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি নিয়ে তারা ‘অন্ধকারে’ রয়েছে। বিশেষ করে আপিল এবং শাস্তির শুনানি কখন হবে, এর সময়সীমা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতির জটিলতা এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে প্রিমিয়ার লিগ যে কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেটি নিয়েও ক্লাবগুলোর মধ্যে ‘সহানুভূতি’ ও ‘বোঝাপড়া’ রয়েছে।
আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়েও একটি প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। একটি ক্লাবের সূত্র ওই প্রস্তাবে ‘যথেষ্ট যুক্তি’ রয়েছে বলে মনে করেছেন।
/এআই