×
Logo

খেলাধুলা

গোল পেতে হলে লড়াই করেই নিতে হবে: বেনিন গোলরক্ষক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৮ এএম

গোল পেতে হলে লড়াই করেই নিতে হবে: বেনিন গোলরক্ষক

জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের দেশের মাটিতে শেষবারের মতো মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি। বুয়েনস এইরেসের ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও মনুমেন্তালে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে আফ্রিকার দেশ বেনিনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। 

জাতীয় দলের হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোলের রেকর্ড গড়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ের ঘোষণা দেওয়া এই মহাতারকাকে বিদায় জানাতে যখন গোটা ফুটবল বিশ্ব আবেগাপ্লুত, তখন বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দানজিনু স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—মেসির বিদায়ী মঞ্চে স্রেফ উদার অতিথি বা নীরব দর্শক হয়ে থাকার কোনো ইচ্ছে নেই তাদের।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের পরাজয়ের পর দেশের মাটিতে এটিই হতে যাচ্ছে মেসির আনুষ্ঠানিক বিদায়ী ম্যাচ। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ গণমাধ্যম ‘মার্কা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দানজিনু পেশাদারিত্বের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমার কাছে এই ম্যাচটি অন্য যেকোনো ম্যাচের মতো সাধারণ নয়। এটি জীবনে একবারই আসার মতো এক অবিস্মরণীয় সুযোগ, কারণ এটি মেসির শেষ ম্যাচ। 

আমরা এখানে আর্জেন্টিনার জন্য এসেছি, মেসির জন্যও এসেছি; কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে আমরা আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমরা বেনিনের হয়ে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের উজাড় করে দিতে এসেছি। ফুটবলে ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনের লড়াই হয়—এখানে আমরা জিততে পারি, ড্র হতে পারে কিংবা ওরাও জিততে পারে। আমরা কিন্তু আর্জেন্টিনায় পর্যটক হিসেবে ঘুরতে আসিনি, আমরা এসেছি লড়াই ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে।

ম্যাচটিকে স্মরণীয় করতে শেষ মুহূর্তে মেসিকে কোনো পেনাল্টি বা সহজ গোলের সুযোগ উপহার দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে আত্মবিশ্বাসী এই গোলরক্ষক বলেন, একেবারেই না! আমি একজন পেশাদার গোলরক্ষক, আমার কাজ হলো প্রতিপক্ষের শট ঠেকানো। ম্যাচ যদি একদম শেষ মিনিটেও গড়ায় এবং পেনাল্টির বাঁশি বাজে, মেসি শট নিলেও আমি তা আটকানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। বিষয়টা খুবই সহজ, কারণ এটাই ফুটবল।

দানজিনু আরও ব্যাখ্যা করেন যে, মেসির মতো মাপের খেলোয়াড়কে কোনো উপহার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমরা সবাই মেসির এই মুহূর্তটি উদযাপন করতে এসেছি, কিন্তু কেউ আমাদের বলে দেয়নি যে তাকে গোল উপহার দিতে হবে। আর মেসিকে যারা চেনে তারা ভালো করেই জানে, তাকে কোনো কৃত্রিম উপহার দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। সে যদি গোল করতে চায়, তবে নিজের সেরাটা দিয়ে লড়াই করেই তা ছিনিয়ে নিতে হবে। পুরো ৯০ মিনিট পূর্ণ শক্তিতে লড়াই করাই আর্জেন্টাইন অধিনায়কের প্রতি আসল সম্মান প্রদর্শন বলে মনে করেন তিনি।

মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বললেও মেসির প্রতি নিজের মুগ্ধতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশে কার্পণ্য করেননি দানজিনু। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী ও দেশকে ২০২২ বিশ্বকাপ ও জোড়া কোপা আমেরিকা এনে দেওয়া কিংবদন্তির সাথে মাঠ ভাগাভাগি করতে পারাকে পরম সৌভাগ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ম্যাচ শেষে মেসির অবিস্মরণীয় ১০ নম্বর জার্সির দাবিদার কে হবেন—তা নিয়ে বেনিন শিবিরে রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ার উপক্রম হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মজার ছলে দানজিনু বলেন, আমাদের দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে জিজ্ঞেস করলে দেখতে পাবেন সবাই মেসির জার্সিটি পেতে চায়। 

তাই উদ্যোক্তাদের উচিত হবে অনেকগুলো জার্সি তৈরি করে দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে একটি করে দেওয়া! কারণ যদি কেবল একজনেরই সুযোগ থাকে জার্সি চেয়ে নেওয়ার, তবে লড়াইটা মোটেও সহজ হবে না—আমরা সবাই সেই ঐতিহাসিক জার্সিটি চাই!

/এএ

Logo