×
Logo

খেলাধুলা

মেটলাইফ, মারাকানার বিষাদ থেকে লুসাইলের বিজয়: দুই দশকের মহাকাব্যের ইতি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

মেটলাইফ, মারাকানার বিষাদ থেকে লুসাইলের বিজয়: দুই দশকের মহাকাব্যের ইতি

২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর কাতালনিয়ার সন্ধ্যায় যখন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, ফুটবল বিশ্ব তখন জানত না যে ইতিহাসের অন্যতম রূপকথা রচিত হতে যাচ্ছে। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নেমে মাত্র দুই মিনিটে পাওয়া অপ্রত্যাশিত লাল কার্ড নাটকের মতো এক সূচনা তৈরি করেছিল। প্রথম দিন থেকেই বোঝা গিয়েছিল, আলো আর আঁধারের গভীর টানাপোড়েনই হবে তার ভবিতব্য।

অভিষেকের অস্বস্তি কাটিয়ে দ্রুতই তিনি হয়ে ওঠেন ক্লাব ফুটবলের পরিচিত মুখ। পেপ গার্দিওলার হাত ধরেই আধুনিক ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের মানচিত্র পাল্টে দিয়েছিল। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি খেলেছেন অতিমানবীয় ছন্দে; ২০১২ সালে একক ক্যালেন্ডারে ৯১ গোল করে ফুটবল পরিসংখ্যানের সংজ্ঞা নতুন করে লিখেছিলেন। বল পায়ে তার প্রতিটি স্পর্শ ছিল জ্যামিতির নিখুঁত রেখার মতো, যেখানে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা কেবল দর্শক হয়ে  দেখতেন এক নিঃশব্দ শিল্পীর ছবি আঁকা।

তবে সেই সোনালী সাফল্যের সমান্তরালে নীরবে জমছিল গভীর ট্র্যাজেডির মেঘ। ক্লাব ফুটবলে সব জয় করলেও নিজের মাতৃভূমির জার্সিতে একের পর এক হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে মারাকানার সেই বিয়োগান্তক হার এবং ট্রফির পাশ দিয়ে বিষাদগ্রস্ত হেঁটে যাওয়া ছবি আজও সমর্থকদের মনে ক্ষতের মতো জাগে। এরপর ২০১৫ ও ২০১৬ সালে টানা দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে টাইব্রেকারে হার তাকে চূড়ান্ত হতাশায় ফেলে দেয়। নিউ জার্সির মাঠে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে জাতীয় দল থেকে তার অবসরের ঘোষণা ছিল আধুনিক ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম বিষাদময় দিন।

পতনের অতল গহ্বরই মেসিকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে। সব ক্ষোভ ও অভিমান পেছনে ফেলে নীল-সাদা জার্সিতে তার ফিরে আসা ছিল এক নতুন সংকল্পের প্রতীক। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয় তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক শিরোপা খরা ঘুচিয়ে দিয়েছিল, যা মোড় ঘুরিয়ে দেয় পুরো মানসিকতার। এরপর ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর লুসাইলের মহাকাব্যিক ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরা ছিল ফুটবলের সমস্ত বিতর্কের চূড়ান্ত সমাপ্তি। যে কাপের জন্য তিনি আজীবন অশ্রু বিসর্জন দিয়েছেন, তা অবশেষে ধরা দেয় তার দু’হাতে।

সময়ের কাঁটা কারও জন্য থেমে থাকে না। বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু থেকে প্যারিস, কিংবা মায়ামিতে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মনুমেন্তালের চেনা ঘাসে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি দাঁড়িয়ে আছে এক শান্ত বিদায়মুহূর্ত হিসেবে। এখানে আর কোনো কিছু প্রমাণ করার তাড়া নেই, নেই কোনো পদক জয়ের চাপ। আজ কেবলই এক নীরব কৃতজ্ঞতার সুর, যেখানে গ্যালারির প্রতিটা করতালি স্মরণ করিয়ে দেবে দুই দশকের এক অবিস্মরণীয় পথচলাকে। বল পায়ে বাঁ পায়ের সেই বাঁক ফুটবলের ক্যানভাসে অমর হয়ে থাকবে চিরকাল। 

/এএ 

Logo