×
Logo

খেলাধুলা

ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের ‘বানর’ বলার অভিযোগ, প্রশ্ন শুনেই সংবাদ সম্মেলন ত্যাগ আইরিশ কোচের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের ‘বানর’ বলার অভিযোগ, প্রশ্ন শুনেই সংবাদ সম্মেলন ত্যাগ আইরিশ কোচের

আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচ হেইমির হলগ্রিমসনকে, ইসরায়েলি সাংবাদিক আগের ম্যাচের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, আইরিশ খেলোয়াড়রা কেন ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের ‘বানর’ বলে ডেকেছিলেন। ছবি: জেরুজালেম পোস্ট।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বর্ণবাদ-রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচ হেইমির হলগ্রিমসন। এক পর্যায়ে, ইসরায়েলি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব 'না' দিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষ করে কক্ষ ত্যাগ করেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) উয়েফা নেশনস লিগে, ইসরায়েলের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে, শনিবার, সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের সম্পর্ক ও মাঠের বিতর্কিত ঘটনাগুলো নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এক ইসরায়েলি সাংবাদিক আয়ারল্যান্ডের সমর্থিত পক্ষের মতাদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। 

তিনি বলেন, ‘আপনি যাদের সমর্থন করেন, তাদের আদর্শ হত্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।’ এরপর চলতি সপ্তাহে, ১৭০ জন ইসরায়েলি যাত্রীসহ ২৭ শিশুকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ সময় আয়ারল্যান্ডের এক সংবাদ কর্মকর্তা সাংবাদিককে থামিয়ে দেন। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না; সংবাদ সম্মেলনে শুধু ফুটবলসংক্রান্ত প্রশ্ন করা হবে।

এরপর আরেক ইসরায়েলি সাংবাদিক আগের ম্যাচের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, আইরিশ খেলোয়াড়রা কেন ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের ‘বানর’ বলে ডেকেছিলেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, ওই প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি হলগ্রিমসন। প্রশ্ন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাংবাদিকের কাছ থেকে মাইক্রোফোন সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সংবাদ সম্মেলন শেষ করে কক্ষ ত্যাগ করেন আইরিশ কোচ।

দুই দলের মধ্যকার আগের ম্যাচটি হয়েছিল হাঙ্গেরিতে। ওই ম্যাচে ইসরায়েলকে ৩-০ গোলে হারায় আয়ারল্যান্ড।

ম্যাচটির আগে-পরে, আইরিশ দলের আচরণ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আইরিশ খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন। এমনকি, ম্যাচে, জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় তারা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

ম্যাচ শেষে, ইসরায়েলি দলের অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলাতেও অস্বীকৃতি জানান আইরিশ খেলোয়াড়রা।

উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, কালো আর্মব্যান্ড, সাধারণত, সর্বজনস্বীকৃত কোনো জাতীয় শোকের সময় অথবা বিশিষ্ট ফুটবল ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর মতো ঘটনায় ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। এ ধরনের আর্মব্যান্ড পরতে হলে সংশ্লিষ্ট ফুটবল সংস্থার আগাম অনুমোদনও প্রয়োজন।

ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ 'না' খেলার জন্য আয়ারল্যান্ডে বেশ কিছুদিন ধরেই বয়কটের দাবি উঠছিল। তবে ভোটের মাধ্যমে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়ার পর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড (এফএআই) জানায়, ম্যাচটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে।

তবে দলের দ্বিতীয় পছন্দের গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু ম্যাচটি বয়কট করেন এবং খেলায় অংশ নেননি।

এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কুরেল জানান, ম্যাচে অংশ নেওয়া নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন বাজুনু। এরপর খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা হয়। সেখানে বিভিন্ন পক্ষের মতামত শোনা হয়।

ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজনকে ঘিরে আয়ারল্যান্ডে একাধিক প্রতিবাদ মিছিল ও জনসভা হয়েছে। বিরোধী দলের রাজনীতিকরাও ম্যাচ বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আইরিশ খেলোয়াড়দের ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় দলের ভেতরেও মতপার্থক্য-বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

আয়ারল্যান্ড-ইসরায়েলের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ ঘিরে সাম্প্রতিক এই বিরোধ, মূলত, দুই দেশের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামাজিক দূরত্বেরই প্রতিফলন। বিশেষকরে, গাজা যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের নীতির বিষয়ে আয়ারল্যান্ডের জনমতের একটি বড় অংশের অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও টানাপোড়েনের মধ্যে ফেলেছে।

/এআই 

Logo