আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কার্যকর হবে নতুন যে ১০ নিয়ম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ এএম
খেলার গতি বাড়ানো, অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ক্ষেপণ রোধ এবং বিভিন্ন নিয়মের অস্পষ্টতা দূর করতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজ থেকে একযোগে কার্যকর হয়েছে ১০টি নতুন নিয়ম। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) ক্রিকেট আইনের হালনাগাদ সংশোধনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের সব সংস্করণের ‘প্লেয়িং কন্ডিশনসে’ এসব পরিবর্তন এনেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বা এরপর থেকে মাঠে গড়ানো সব আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও টুর্নামেন্টে নতুন এই নিয়মাবলী কার্যকর হবে। তবে পূর্বে শুরু হওয়া চলমান সিরিজগুলো পুরোনো নিয়মের অধীনেই শেষ হবে।
কার্যকর হওয়া উল্লেখযোগ্য নতুন ১০টি নিয়ম:
১. ব্যাটারের সময় নষ্টে পেনাল্টি রান: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরের বল মোকাবিলার জন্য ব্যাটার প্রস্তুত না হলে প্রথমে মৌখিক ও দ্বিতীয়বার চূড়ান্ত সতর্কতা দেওয়া হবে। তৃতীয়বার এবং এর পর প্রতিবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে ফিল্ডিং দলকে ৫টি অতিরিক্ত পেনাল্টি রান দেওয়া হবে।
২. নারী ও জুনিয়রদের বলের মাপ নির্ধারণ: পুরুষদের বলের মতো এবার নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটের বলের সুনির্দিষ্ট ওজন ও আকারের ভিন্ন ভিন্ন সীমা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
৩. ওভারথ্রো’র স্পষ্ট সংজ্ঞা: ফিল্ডার রান আটকানো বা রানআউটের সরাসরি উদ্দেশ্যে স্টাম্প লক্ষ্য করে বল ছুড়লে কেবল সেটিকে ‘ওভারথ্রো’ হিসেবে গণ্য করা হবে। সাধারণ ফিল্ডিংয়ের সময় হাত ফসকে বল ফসকে গেলে তা ওভারথ্রো হবে না।
৪. বল ‘সেটলড’ করার ক্ষমতা আম্পায়ারের হাতে: বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, তা নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আম্পায়ারের এখতিয়ারে দেওয়া হয়েছে। এর জন্য বল বোলার বা কিপারের হাতেই থাকতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে।
৫. রানআউট ও স্টাম্পিংয়ে বলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: রানআউট বা স্টাম্পিংয়ের সময় শুধু বল হাতের ছোঁয়া লেগে স্টাম্প ভাঙলে হবে না; বলের ওপর ফিল্ডারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৬. দিনের টেস্টেও গোলাপি বল: আলোকস্বল্পতার কারণে সময় নষ্ট হওয়া ঠেকাতে উভয় দলের সম্মতিক্রমে দিনের টেস্ট ম্যাচেও পরীক্ষামূলকভাবে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে (ম্যাচ শুরুর আগেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে হবে)।
৭. দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও খেলা চলবে: দিনের শেষ ওভারে কোনো উইকেট পড়ে গেলেও ওভারের অবশিষ্ট বলগুলো সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত খেলা চলবে, যদি আলোক ও পরিবেশ অনুকূলে থাকে।
৮. টি-টোয়েন্টিতে ইনিংস বিরতি নির্দিষ্ট ১৫ মিনিট: আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসের বিরতি নির্দিষ্টভাবে ১৫ মিনিট করা হয়েছে, তবে বৃষ্টি বা অন্য কারণে সময় নষ্ট হলে তা কমিয়ে সর্বনিম্ন ১০ মিনিট করা যাবে।
৯. ড্রিংকস বিরতিতে প্রধান কোচের মাঠে প্রবেশ: ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি উভয় ফরম্যাটেই নির্ধারিত ড্রিংকস বিরতির সময় দলের প্রধান কোচ অথবা তার মনোনীত প্রতিনিধি সরাসরি মাঠে ঢুকে কৌশলগত পরামর্শ দিতে পারবেন।
১০. ওয়াইডের নতুন নিয়ম স্থায়ী রূপ পেল: বোলার হাত থেকে বল ছাড়ার মুহূর্তে ব্যাটারের পায়ের অবস্থানকে রেফারেন্স পয়েন্ট ধরে ওয়াইড নির্ধারণের বিধানটি স্থায়ী করা হয়েছে। বল করার পর ব্যাটার অফসাইডে সরে গেলেও বোলার বাড়তি ওয়াইডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।
/এএ