বিবিসি এক্সক্লুসিভ
প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক অনিয়মের জেরে শতাধিক অভিযোগে 'দোষী সাব্যস্ত' ম্যানচেস্টার সিটি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১০ পিএম
প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ব্রিটিশ ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি। দ্য অ্যাথলেটিকের সাংবাদিক ডেভিড অর্নস্টেইন প্রথম এ খবর প্রকাশ করেন। এরপরই বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটি নিয়ে গঠিত স্বাধীন প্যানেল ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিই প্রমাণিত বলে মনে করেছেন মামলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে ক্লাবটির বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ম্যানচেস্টার সিটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে বলেও বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ দায়েরকারী পক্ষ প্রিমিয়ার লিগ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্লাবটির পয়েন্ট কেটে নেওয়া, সীমাহীন জরিমানা কিংবা সবচেয়ে কঠোর শাস্তি হিসেবে লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
যে অভিযোগে শুরু তদন্ত
মাঠে প্রিমিয়ার লিগের খেলা স্বাভাবিকভাবেই চললেও ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি গত কয়েক বছর ধরে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
চার বছর ধরে, তদন্তের পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনে প্রিমিয়ার লিগ।
অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত ক্লাবটি তার আর্থিক অবস্থার বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এছাড়া ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত উয়েফার আর্থিক স্বচ্ছলতা বা ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে নীতিমালা 'না' মানার অভিযোগও আনা হয় সিটির বিরুদ্ধে।
পাশাপাশি, '২০১৫-১৬' থেকে '২০১৭-১৮' মৌসুম পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের মুনাফা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত নিয়মও ভঙ্গ করার অভিযোগ রয়েছে ক্লাবটির বিরুদ্ধে।
অভিযোগের সময়কালে আট শিরোপা
যে সময়কে কেন্দ্র করে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেই সময়ের মধ্যে মোট আটটি শিরোপা জিতেছে ক্লাবটি। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, তিনটি লিগ কাপ এবং একটি এফএ কাপ।
'২০১০-১১' মৌসুমের এফএ কাপ ছিল ৩৫ বছর পর ম্যানচেস্টার সিটির প্রথম বড় কোনো ট্রফি। এর আগে, সর্বশেষ ১৯৭৬ সালে বড় কোনো শিরোপা জিতেছিল ক্লাবটি।
এর পরের মৌসুমে, অর্থাৎ ২০১১-১২ সালে, প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতে সিটি। এখন পর্যন্ত মোট আটবার ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ক্লাবটি।
২০২৪ সালে শুরু শুনানি
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি শুরু হয় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই বছরের শেষ পর্যন্ত চলে এই শুনানি। তখন ক্লাবটির সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তির প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে গার্দিওলা বলেছিলেন, 'সোমবার থেকে এটি শুরু হচ্ছে, এতে আমি খুশি। আমি জানি, এরপর আরও গুঞ্জন হবে এবং শাস্তি কী হতে পারে, তা নিয়ে নতুন নতুন বিশেষজ্ঞের মন্তব্য আসবে। আমরা দেখবো।'
তিনি আরও বলেন, 'দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকেই নির্দোষ। একটি স্বাধীন প্যানেল সিদ্ধান্ত নেবে। আমি সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।'
এর আগেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়।
২০২০ সালে, উয়েফার আর্থিক স্বচ্ছলতা নীতিমালার ‘গুরুতর লঙ্ঘনের’ অভিযোগে ক্লাবটিকে দুই বছরের জন্য ইউরোপীয় ফুটবন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পাশাপাশি, ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার জরিমানাও করা হয়।
পরে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস) সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেয়। একইসঙ্গে, জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে ১ কোটি ১৩ লাখ ডলার করা হয়। সিএএস-এর রায়ে বলা হয়েছিল, উয়েফার তদন্তে সহযোগিতা 'না' করার বিষয়টি ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছিল।
/এআই