ইউরোপের ফুটবলে প্রথমবার ‘কালো কার্ড’, কী কাজে ব্যবহার হবে?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১২ পিএম
ফুটবলে নতুন এক নিয়ম চালু করেছে রোমানিয়া। শিশু ও কিশোরদের ম্যাচে অভিভাবক ও দর্শকদের অসদাচরণ ঠেকাতে এবার চালু হচ্ছে ‘কালো কার্ড’। ইউরোপের ফুটবলে এটিই প্রথমবারের মতো এমন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, অনূর্ধ্ব-৭ থেকে অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় এই নিয়ম কার্যকর হবে। মাঠের বাইরে থাকা অভিভাবক ও দর্শকদের গালাগালি, হুমকি, শারীরিক আক্রমণ কিংবা অতিরিক্ত চাপ থেকে শিশু খেলোয়াড়দের সুরক্ষা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফেডারেশন বলেছে, ফুটবল শিশুদের জন্য আনন্দ, শেখা ও সুস্থ বিকাশের জায়গা হওয়া উচিত। কিন্তু অনেক সময় অভিভাবক ও দর্শকদের অতিরিক্ত প্রত্যাশা, চাপ ও হতাশা শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ‘কালো কার্ড’ দেখানোর অর্থ হলো ম্যাচ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া। অর্থাৎ কোনো ম্যাচে দর্শক বা অভিভাবকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এবং সতর্কতার পরও তা অব্যাহত থাকলে রেফারি কালো কার্ড দেখিয়ে ম্যাচ শেষ করে দিতে পারবেন।
যেভাবে কার্যকর হবে কালো কার্ড
রেফারি প্রথমে অসদাচরণের বিষয়ে সতর্ক করবেন। এরপর কোচদের মাধ্যমে দর্শকদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হবে এবং মাইকে সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।
এরপরও আচরণ পরিবর্তন না হলে ম্যাচ ১০ মিনিটের জন্য স্থগিত করা হবে এবং দুই দলের খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে পাঠানো হবে।
খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে তৃতীয় ধাপে রেফারি কালো কার্ড দেখিয়ে ম্যাচ বাতিল করবেন। এরপর সেই ম্যাচ আর পুনরায় শুরু করা যাবে না।
কোন আচরণের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা?
রোমানিয়ার নতুন নিয়মে যেসব আচরণ শাস্তির আওতায় পড়বে— খেলোয়াড়দের উদ্দেশে গালাগালি বা অপমানজনক মন্তব্য; শিশু খেলোয়াড়দের ধাক্কা দেওয়া বা আঘাত করা; নিজ দলের কোচিং স্টাফকে অপমান বা আক্রমণ করা; প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ; রেফারি ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের হুমকি, অপমান বা শারীরিক আক্রমণ এবং অভিভাবক ও দর্শকদের মধ্যে ঝগড়া বা শারীরিক সংঘর্ষ।
রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, শিশুদের ওপর বড়দের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, চাপ বা হতাশার প্রভাব কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটবলে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে ‘কালো কার্ড’ নতুন এক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
(সূত্র: গোল ডটকম)
/এনএ