×
Logo

খেলাধুলা

মারুফার সুইং আর স্পিনারদের দাপটে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ এএম

মারুফার সুইং আর স্পিনারদের দাপটে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। দুবাইয়ে কম রানের ম্যাচে একসময় ৫৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল টাইগ্রেসরা। সেখান থেকে শারমিন আক্তারের ৩৮ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে ১০৩ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। এরপর মারুফা আক্তারের গতি আর স্পিনারদের দাপুটে বোলিংয়ে ৬৯ রানেই আটকে যায় আমিরাত।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুবাইয়ে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১০৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৯ উইকেটে ৬৯ রান করে আমিরাত। ফলে ৩৪ রানের জয় নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে নিগার সুলতানার দল।

বাংলাদেশের হয়ে শারমিন আক্তার সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন। বল হাতে রাবেয়া খান ৩টি এবং মারুফা আক্তার ২টি উইকেট নেন। আমিরাতের সুরক্ষা কোট্টে ১১ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন।

এই জয়ে বৃহস্পতিবার প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

এর আগে, বাংলাদেশের ইনিংসে শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেন আমিরাতের অফস্পিনার সুরক্ষা কোট্টে। ফ্লাইট দিয়ে ব্যাটারদের শট খেলতে বাধ্য করছিলেন তিনি। তার বলের গতি ও লাইন সামলাতে গিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

প্রথম ওভারেই দিলারা আক্তারকে ফেরান কোট্টে। তৃতীয় ওভারে একই ধরনের ডেলিভারিতে সোবহানা মোস্তারির ক্যাচ নেন ফিল্ডার। এরপর ১১তম ওভারে অধিনায়ক নিগার সুলতানাকেও ফিরিয়ে দেন তিনি।

৩ ওভারের পাওয়ারপ্লে স্পেলে মাত্র ৭ রান দেন কোট্টে। ২৪ বলের ১৬টিই ছিল ডট। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে একপর্যায়ে ৫৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

তবে, এশিয়া কাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই দলের কঠিন সময়ে হাল ধরেন শারমিন আক্তার। রিতু মনির জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া এই ব্যাটার যখন ক্রিজে আসেন, বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ৩৭ রান।

নিগার সুলতানা ২৩ রানে ফেরার পর আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন শারমিন।

প্রথম ১৩ বলে ১৩ রান করে উইকেট ও বোলিং বুঝে নেন তিনি। এরপর ১৩তম ওভারের পর বদলে যায় তার ব্যাটিংয়ের গতি। ইন্ধুজা নন্দকুমারের বলে দারুণ এক কভার ড্রাইভে বাউন্ডারি হাঁকানোর পর ঈশা ওজার বলে টানা দুটি চার মারেন শারমিন।

নাহিদা আক্তারের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। এই জুটিই বাংলাদেশকে ৫৫ থেকে টেনে ১০৩ রানের লড়াকু সংগ্রহে পৌঁছে দেয়।

১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই মারুফা আক্তারের গতির সামনে সমস্যায় পড়ে আমিরাত। মাত্র চার বলেই ইনসুইঙ্গারে অধিনায়ক ঈশা ওজাকে বোল্ড করেন তিনি।

এরপর ওয়ান-ডাউনে নামা সামাইরা ধরনিধারকার ব্যাটের কানা খুঁজে নেন ক্রস-সিম ডেলিভারিতে। পাওয়ারপ্লেতে ৩ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন মারুফা। তার বোলিংয়ে প্রথম ছয় ওভার শেষে আমিরাতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫ রানে ২ উইকেট।

নবম ওভারে ফিরে নিজের স্পেল শেষ করেন মারুফা। ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট—এমন দুর্দান্ত বোলিংয়ে আমিরাতের রান তাড়ার শুরুতেই বড় ধাক্কা দেয় বাংলাদেশ।

অন্য প্রান্তে অফস্পিনে চাপ ধরে রাখেন সুলতানা খাতুন। ১০ ওভার শেষে আমিরাতের রান ছিল ৩ উইকেটে ৩৪। পরের ওভারেই থের্থা সতীশের উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে বাংলাদেশ।

এরপর নাহিদা আক্তার জোড়া উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে ১৬ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। রাবেয়া খান নেন ৩ উইকেট।

বাংলাদেশের বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে পুরো ইনিংসে ৭০টি ডট বল খেলে আমিরাত। রান তোলার গতি বাড়াতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ৬৯ রানেই থামে তাদের ইনিংস।

/এনএ 


Logo