ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ১৫ ট্রান্সফার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
ফুটবল এখন শুধু খেলা নয়, বিশাল এক বাণিজ্যিক শিল্পও। বিশ্বের সেরা প্রতিভাদের দলে ভেড়াতে ক্লাবগুলো খরচ করছে বিপুল অর্থ। তবে ইতিহাস বলে, কোনো খেলোয়াড়ের পেছনে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ঢাললেই সাফল্য নিশ্চিত হয় না।
বরং অনেক সময় সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়রাই প্রত্যাশার চাপে হারিয়ে যান। বড় অঙ্কের ট্রান্সফার ফি মানেই আসে বিশাল প্রত্যাশা। আর সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন অনেক তারকাই।
চলুন দেখে নেওয়া যাক ট্রান্সফারমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ১৫ ট্রান্সফার—
চেলসিতে দুর্দান্ত সময় কাটিয়ে ২০১৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন এডেন হ্যাজার্ড। তখনই মনে হচ্ছিল, মাদ্রিদের নতুন ‘গ্যালাকটিকো’ হতে যাচ্ছেন তিনি।
কিন্তু স্পেনে পা রাখার পরই ছন্দপতন। পিএসজির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের চার মাস পর গুরুতর গোড়ালির চোটে পড়েন। শেষ পর্যন্ত লা লিগায় ৫৪ ম্যাচ খেলেও গোল করেছেন মাত্র ৪টি। ২০২৩ সালে ৩২ বছর বয়সেই অবসরের ঘোষণা দেন বেলজিয়ান তারকা।
১৪. এনজো ফার্নান্দেজ — বেনফিকা থেকে চেলসি, ১২১ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলার)
বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে ২০২৩ সালে রেকর্ড দামে দলে ভেড়ায় চেলসি। এর মাত্র কয়েক মাস আগে ১২ মিলিয়ন ডলারেরও কম মূল্যে তাকে দলে নিয়েছিল বেনফিকা।
শুরুতে কিছুটা সময় লাগলেও কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে নিজেকে বদলে নেন তিনি। ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে চেলসিতে জায়গা করে নেন এই মিডফিল্ডার।
১৩. ফ্লোরিয়ান ভির্টজ — বায়ার লেভারকুসেন থেকে লিভারপুল, ১২৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন ডলার)
জাভি আলোনসোর অধীনে বায়ার লেভারকুসেনের ঐতিহাসিক বুন্দেসলিগা জয়ে বড় ভূমিকা ছিল ফ্লোরিয়ান ভির্টজের। ২০২৩-২৪ মৌসুমে লিগে ২৩টি গোল অবদানে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন তিনি।
২০২৫ সালে বায়ার্ন মিউনিখের পরিবর্তে প্রিমিয়ার লিগের চ্যালেঞ্জ বেছে নেন ভির্টজ। লিভারপুলের রেকর্ড ট্রান্সফারের অংশ হিসেবে অ্যানফিল্ডে এলেও ইংলিশ ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরুতে সমস্যায় পড়েন জার্মান তারকা।
১২. ইয়ান দিয়োমান্দে — আরবি লাইপজিগ থেকে রিয়াল মাদ্রিদ, ১২৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন ডলার)
আরবি লাইপজিগের হয়ে মাত্র একটি দুর্দান্ত বুন্দেসলিগা মৌসুমই বদলে দিয়েছে ইয়ান দিয়োমান্দের পরিচয়। তুলনামূলক অপরিচিত এক তরুণ থেকে খুব দ্রুতই রিয়াল মাদ্রিদের নতুন ‘গ্যালাকটিকো’তে পরিণত হন আইভরি কোস্টের এই উইঙ্গার।
২০২৫-২৬ মৌসুমে জার্মান ফুটবলের অন্যতম সেরা ড্রিবলার হিসেবে আলোচনায় আসেন তিনি। লিভারপুলও তাকে মোহাম্মদ সালাহর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত দিয়োমান্দেকে দলে ভেড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ।
১১. জুড বেলিংহাম — বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে রিয়াল মাদ্রিদ, ১২৭ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন ডলার)
মাত্র ১৭ বছর বয়সে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে পাড়ি জমানোর পর থেকেই জুড বেলিংহামের প্রতিভা নিয়ে আলোচনা ছিল। জার্মানিতে নিজের প্রতিভা আরও পরিণত করে ২০২৩ সালে যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে।
স্পেনে প্রথম মৌসুমেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন ইংলিশ তারকা। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে অনেকটা আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবেও ব্যবহৃত হন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
১০. জোয়াও ফেলিক্স — বেনফিকা থেকে আতলেতিকো মাদ্রিদ, ১২৭ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন ডলার)
বেনফিকার হয়ে উঠে আসার সময় জোয়াও ফেলিক্সকে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি কাকার সঙ্গে তুলনা করা হতো। তার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে তাকে দলে নেয় আতলেতিকো মাদ্রিদ।
তবে দিয়েগো সিমিওনের ফুটবল দর্শনের সঙ্গে খুব একটা মানিয়ে নিতে পারেননি পর্তুগিজ তারকা। পরে বার্সেলোনা, চেলসি ও এসি মিলানেও ধারে খেলেছেন। কোথাওই দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য পাননি। ২০২৫ সালে শেষ পর্যন্ত আল নাসরে যোগ দেন ফেলিক্স।
৯. ফিলিপে কুতিনহো — লিভারপুল থেকে বার্সেলোনা, ১৩৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৫৬ মিলিয়ন ডলার)
লিভারপুলের হয়ে দারুণ সময় কাটানোর পর ২০১৮ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেন ফিলিপে কুতিনহো। তার বিক্রির অর্থ দিয়েই লিভারপুল পরে আলিসন বেকার ও ভার্জিল ফন ডাইককে দলে ভেড়ায়।
বার্সেলোনায় নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পাননি ব্রাজিলিয়ান প্লেমেকার। চার মৌসুমের মধ্যে দুই মৌসুমই ধারে কাটাতে হয় তাকে। ২০২২ সালে স্থায়ীভাবে ক্লাব ছাড়েন কুতিনহো।
৮. এলিয়ট অ্যান্ডারসন — নটিংহাম ফরেস্ট থেকে ম্যানচেস্টার সিটি, ১৩৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৫৪ মিলিয়ন ডলার)
২০২৪ সালে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে নটিংহাম ফরেস্টে যোগ দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। সেখানে দুর্দান্ত দুই মৌসুম কাটিয়ে তার মূল্য প্রায় তিনগুণ বেড়ে যায়।
২০২৬ বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নজর কাড়েন তিনি। শারীরিক শক্তি, লড়াকু মানসিকতা ও বল পায়ে দক্ষতার কারণে অ্যান্ডারসনকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে নিজেদের রেকর্ড ট্রান্সফারে দলে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি।
৭. মরগান রজার্স — অ্যাস্টন ভিলা থেকে চেলসি, ১৩৭ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৫৬ মিলিয়ন ডলার)
অ্যাস্টন ভিলার হয়ে আড়াই বছরের দুর্দান্ত সময় কাটিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত তারকা হিসেবে গড়ে তোলেন মরগান রজার্স। গোল ও অ্যাসিস্ট—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার।
রজার্সকে দলে ভেড়াতে নিজেদের ট্রান্সফার রেকর্ডই ভেঙে ফেলে চেলসি। এখন দেখার বিষয়, নতুন ক্লাবে তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন কি না।
৬. ব্র্যাডলি বারকোলা — পিএসজি থেকে লিভারপুল, ১৪০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৬৩ মিলিয়ন ডলার)
২০২৬ সালের গ্রীষ্মে মোহাম্মদ সালাহর বিদায়ের পর আক্রমণভাগ শক্তিশালী করার প্রয়োজন ছিল লিভারপুলের। পিএসজির হয়ে টানা দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্র্যাডলি বারকোলাকে দলে ভেড়ায় তারা।
২৩ বছর বয়সী এই দ্রুতগতির উইঙ্গারকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
৫. এনজো ফার্নান্দেজ — চেলসি থেকে ম্যানচেস্টার সিটি, ১৪৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৬৮ মিলিয়ন ডলার)
চেলসির হয়ে নিজের বিশাল ট্রান্সফার ফি’র যথার্থতা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন এনজো ফার্নান্দেজ। মারেস্কার অধীনে তার পারফরম্যান্সে উন্নতি এলেও শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালে তাকে দলে টানে ম্যানচেস্টার সিটি।
রদ্রি ও বার্নার্দো সিলভার বিদায়ের পর সিটির মিডফিল্ড পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এনজোকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
৪. আলেকজান্ডার ইসাক — নিউক্যাসল থেকে লিভারপুল, ১৪৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৬৮ মিলিয়ন ডলার)
২০২৬ সালের গ্রীষ্মে লিভারপুলের রেকর্ড ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষটা হয় আলেকজান্ডার ইসাককে দলে ভেড়ানোর মধ্য দিয়ে।
নিউক্যাসল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করলেও লিভারপুল শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত অর্থ দিতে রাজি হয়। টাইনসাইডে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ইসাক।
৩. উসমান দেম্বেলে — বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে বার্সেলোনা, ১৪৮ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৭১ মিলিয়ন ডলার)
২০১৭ সালে উসমান দেম্বেলেকে দলে ভেড়ায় বার্সেলোনা। বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে শুরু করলেও ক্যাম্প ন্যুতে বারবার চোট ও ফিটনেস সমস্যায় ভুগেছেন ফরাসি তারকা।
২০২৩ সালে বার্সেলোনা ছাড়ার পর পিএসজিতে গিয়ে কোচ লুইস এনরিকের অধীনে নিজের খেলায় বড় পরিবর্তন আনেন দেম্বেলে। পরবর্তীতে ব্যালন ডি’অরও জেতেন তিনি।
২. কিলিয়ান এমবাপ্পে — মোনাকো থেকে পিএসজি, ১৮০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২০৮ মিলিয়ন ডলার)
২০১৭ সালে মোনাকো থেকে পিএসজিতে যোগ দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সাত বছরে ক্লাবটির হয়ে ৩০৮ ম্যাচে ২৫৬ গোল করেন এই ফরাসি তারকা।
লিগ ওয়ানে একের পর এক গোলের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি পিএসজির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে না পারলেও ক্লাবটির হয়ে ১৬টি ট্রফি জিতেছেন তিনি।
১. নেইমার — বার্সেলোনা থেকে পিএসজি, ২২২ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন ডলার)
২০১৭ সালে নেইমারকে বার্সেলোনা থেকে দলে ভেড়াতে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর বিশ্বরেকর্ড ট্রান্সফার ফি দেয় পিএসজি। সেই রেকর্ড এখনও অক্ষত।
বার্সেলোনায় দুর্দান্ত সাফল্যের পর প্যারিসে গিয়ে প্রত্যাশার চাপ ও ধারাবাহিক চোটে ভুগেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। ফরাসি লিগে সফল হলেও পিএসজিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে পারেননি।
২০২০ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেছিল পিএসজি। তবে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি। ফলে বার্সেলোনার পর নেইমারের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা হয়ে রয়ে গেছে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের এই ট্রফি।
/এনএ