×
Logo

খেলাধুলা

মেসির পর আর্জেন্টিনার ‘নাম্বার টেন’ হওয়ার দৌড়ে তিনজন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

মেসির পর আর্জেন্টিনার ‘নাম্বার টেন’ হওয়ার দৌড়ে তিনজন

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক বার্তায় জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের দীর্ঘ পথচলার ইতি টানার কথা জানান ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা।

নিজের হাতে লেখা একটি নোটসহ দেওয়া বার্তায় মেসি বলেন, অনেক ভেবেচিন্তেই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সিদ্ধান্তটি তাকে ভেতর থেকে কষ্ট দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে। তবে এখনই সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময় বলে মনে করছেন তিনি।

এদিকে দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি মানেই ছিল একজন। তিনি লিওনেল মেসি। শুধু জার্সি নয়, এই নম্বরটাকেই তিনি পরিণত করেছেন এক আবেগ, এক পরিচয়, এক যুগের প্রতীকে। জাতীয় দলের হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল, দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ; এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, আর্জেন্টিনার ফুটবলে মেসির অধ্যায় কতটা বর্ণিল।

৩৯ বছর বয়সেও এবারের বিশ্বকাপে ছিলেন দলের প্রাণভোমরা। রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমে করেছেন ৮ গোল, করিয়েছেন আরও ৪টি। দলের ১৯ গোলের মধ্যে সরাসরি ১২টিতেই অবদান ছিল তার। অর্থাৎ আর্জেন্টিনার মোট গোলের ৬৩ শতাংশের সঙ্গেই জড়িয়ে ছিলেন এই মহাতারকা।

তাই মেসির বিদায় শুধু একজন ফুটবলারের অবসর নয়; এটি আর্জেন্টিনা ফুটবলের একটি যুগের সমাপ্তি। ম্যারাডোনার পর যে ১০ নম্বর জার্সিকে মেসি নিজের প্রতিভা আর অর্জনে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, সেই জার্সিই এখন অপেক্ষায় নতুন এক উত্তরসূরির।

কিন্তু প্রশ্নটা সহজ নয়। মেসির ১০ নম্বর জার্সি পরবেন কে? আর তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, সেই জার্সির ভার কি কেউ বইতে পারবেন?

মেসিকে হুবহু প্রতিস্থাপন করার মতো কেউ নেই। তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে এখন নতুন যুগের সূচনা। নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা আর গোল করার সামর্থ্য দিয়ে কে হয়ে উঠবেন আর্জেন্টিনার নতুন প্রাণভোমরা— সেই দৌড়ে আলোচনায় আছেন তিন তরুণ তারকা।

হুলিয়ান আলভারেজ

মেসির উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে স্বাভাবিক পছন্দগুলোর একটি হুলিয়ান আলভারেজ। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার ২০২৪ সালের আগস্টে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেন। ওই সময় ১০ কোটি ৪ লাখ ডলার সমমূল্যের চুক্তিতে ক্লাবটির রেকর্ড ট্রান্সফার হয়ে ওঠেন তিনি।

স্পেনে নিজের প্রথম মৌসুমে লিগের ৩০ ম্যাচে শুরুর একাদশে থেকে ১৭ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেন আলভারেজ।

জাতীয় দলের হয়ে এবারের বিশ্বকাপে শুরুতে নিয়মিত একাদশে ছিলেন না তিনি। তবে জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মেসির সঙ্গে আক্রমণভাগে জায়গা করে নেন। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে তার ডান পায়ের শটে আসে একমাত্র গোলটি।

বিশ্বকাপে খুব বেশি আলো ছড়াতে না পারলেও ক্লাব ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন আলভারেজ। মেসির পর আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের নেতৃত্বের ভার তার কাঁধেই পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জুলিয়ানো সিমিওনে

মেসির উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে আরেকটি নাম আতলেতিকো মাদ্রিদের জুলিয়ানো সিমিওনে। ক্লাবটির কোচ দিয়েগো সিমিওনের ছোট ছেলে ২৩ বছর বয়সী এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ২০২৪ সালে প্রথমবার আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে ডাক পান।

২০২৫ সালের মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের আগমনি বার্তা দেন তিনি। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৪-১ গোলে জয় পায়।

এবারের বিশ্বকাপে জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে অভিষেক হয় সিমিওনের। ডান মিডফিল্ডে ৭১ মিনিট খেলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও একই পজিশনে খেলেন এবং ডান প্রান্ত দিয়ে মেসির সঙ্গে দারুণ সমন্বয় গড়ে তোলেন। ফাইনালেও ৫০ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি।

ক্লাব ফুটবলেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন সিমিওনে। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে সম্প্রতি ১০ জনের আতলেতিকোকে ২-২ গোলে ড্র করাতে গোল ও অ্যাসিস্ট— দুটিই করেন তিনি।

নিকো পাজ

তিনজনের মধ্যে ভবিষ্যতে মেসির সবচেয়ে সম্ভাবনাময় উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে নিকো পাজকে। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় ছিলেন ২১ বছর বয়সী এই অ্যাটাকার।

২০২৪ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া পাজ বিশ্বকাপে খুব বেশি সময় মাঠে কাটানোর সুযোগ পাননি। তবে বদলি হিসেবে নেমে তার সৃজনশীলতার ঝলক দেখিয়েছেন। সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা ছিল মেসির কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ পাওয়া।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মেসির দুর্দান্ত হ্যাট্রিকের পর ৮০ মিনিটে তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন পাজ। পরে জর্ডানের বিপক্ষে শুরু থেকেই মিডফিল্ডে খেলেন তিনি। আলভারেজ ও লাওতারো মার্তিনেসের পেছনে থেকে আক্রমণ সাজানোর দায়িত্ব পালন করেন।

ক্লাব ফুটবলে কোমোর হয়ে নিয়মিত খেলছেন পাজ। গত মৌসুমে সিরি আ-তে ১২ গোলের পাশাপাশি করেছেন ৬টি অ্যাসিস্ট। এবার তার সামনে আরও বড় মঞ্চ— চ্যাম্পিয়নস লিগ। ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো খেলবে কোমো।

মেসির মতো আরেকজন ফুটবলার পাওয়া আর্জেন্টিনার জন্য প্রায় অসম্ভব। তবে তার শূন্যতা পূরণে একজনের ওপর পুরো দায়িত্ব না দিয়ে আলভারেজ, সিমিওনে ও পাজদের সম্মিলিত শক্তির ওপরই ভরসা করতে হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

/এনএ 


Logo