মেসির লেখা তিন পৃষ্ঠার বিদায়ী বার্তা আর হ্যারি পটার কলম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
তিন পৃষ্ঠার কাগজে লেখা কিছু বার্তা আর একটি কলম।!
লিও'র বিদায়ের এই কাগজগুলো এখন শুধুই স্মৃতি। আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের শেষ; এমন কিছু লেখার কলমটিও যেন স্পেশাল। এমনটাই হয়তো মেটাফোরিক্যাল ইঙ্গিত দিলেন মেসি।
‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ার জন্য। এগিয়ে চলো আর্জেন্টিনা!’ এটাই ছিল তিনটি পৃষ্ঠার শেষ বার্তা। আর কলমটি হ্যারি পটার কলম।
এছাড়াও বার্তায় মেসি আরও বলেন, 'আমি আমার সবটুকু দিয়েছি, এখন আর দেওয়ার মতো কিছু নেই।'
লিও বিদায়ী বার্তাটি লিখতে যে কলমটি ব্যবহার করেছেন, সেটির মাথার অংশে রয়েছে হ্যারি পটারের লেখক জে. কে. রাউলিংয়ের অন্যতম সেরা চরিত্র গ্রাঞ্জারের 'টাইম-টার্নার'। কলমটির ওপরের দিকটি সেই চেনা বৃত্তাকার আকৃতির এবং ঠিক মাঝে রয়েছে একটি ছোট বালিঘড়ি।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, সোনালি কলমটি হ্যারি পটার ইন্সপায়ারড। মূলত, হ্যারি পটার সিরিজে ‘টাইম-টার্নার’ এমন একটি জাদুকরী বস্তু, যার মাধ্যমে সময় পেছনে ফিরিয়ে নেওয়ার ধারণা দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার (৩১ আগস্ট), আর্জেন্টিনার হয়ে আকাশি-সাদা জার্সিতে দুই দশকের বেশি সময় কাটানোর পর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মেসি। বিদায় জানাতে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের বদলে হাতে লেখা একটি চিঠির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। আর সেই ছবিতেই নজর কাড়ে কলমটির বিশেষ নকশা।
এই কলমের গায়ে কালো রঙে খোদাই করা হ্যারি পটারের অফিশিয়াল লোগো। অবশ্যই, মেসির সন্তানেরা, স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তিনি নিজেও এই ফ্যান্টাসি সিরিজের ভক্ত।
কলমটির গায়ে থাকা ‘Department of Mysteries’ লেখাটিও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দেয়। কেউ বিষয়টিকে নিছক কাকতালীয় হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, মেসির বিদায়ের মতো আবেগঘন মুহূর্তে এমন একটি ব্যক্তিগত ইঙ্গিতের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। রসিকতা, নস্টালজিয়া আর আবেগ—সব মিলিয়ে দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায় কলমটির ছবি।
বিদায়ী বার্তায় জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মেসি লিখেছেন, সিদ্ধান্তটি এখনো গভীরভাবে কষ্ট দেয়। তবে নিজের ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এটাই সঠিক সময় বলে মনে করছেন তিনি।
মেসি আরও জানিয়েছেন, জাতীয় দলের জার্সির জন্য তিনি সবসময় নিজের সর্বস্ব দিয়েছেন। শুধু সাম্প্রতিক সময়ে শিরোপা জয়ের সময় নয়, তার আগেও প্রতিটি ম্যাচে দলের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
জাতীয় দলের হয়ে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জায়গা করে দেওয়ার বিষয়টিও তার বার্তায় উঠে এসেছে। মেসির ভাষায়, তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলাকে ভালোবেসেছেন, ভালোবাসেন এবং ভবিষ্যতেও ভালোবাসবেন। তবে নিজের দেওয়ার মতো আর কিছু নেই এবং তার পরের প্রজন্মের বেশ কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় এখন উঠে আসছে, যারা এই জায়গার যোগ্য।
জাতীয় দলের হয়ে মেসির ক্যারিয়ার কেবল ব্যক্তিগত রেকর্ডে নয়, দলীয় সাফল্যেও সমৃদ্ধ। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি জিতেছেন ২০২২ বিশ্বকাপ, ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকের স্বর্ণপদক এবং ২০২২ সালের ফিনালিসিমা।
বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে মেসির জোড়া গোল আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তুলে নেওয়ার সেই মুহূর্ত মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অর্জনগুলোর একটি।
আর্জেন্টিনার হয়ে রেকর্ডের দিক থেকেও মেসি সবার ওপরে। জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা, সর্বোচ্চ গোল ও সর্বাধিক অ্যাসিস্টের রেকর্ড তার দখলে। বিশ্বকাপেও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার তিনি।
দুই দশকের বেশি সময় আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে মাঠ মাতানোর পর মেসির বিদায়ের সিদ্ধান্ত তাই শুধু একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়; আর্জেন্টাইন ফুটবলের একটি দীর্ঘ ও বর্ণিল যুগেরও শেষের ইঙ্গিত।
/এআই