×
Logo

খেলাধুলা

ইনিংস ব্যবধানে পাকিস্তানকে হারালো ইংল্যান্ড

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

ইনিংস ব্যবধানে পাকিস্তানকে হারালো ইংল্যান্ড

হেডিংলিতে শুক্রবার বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে যে গর্জন শোনা গিয়েছিল, তা কেবল পাকিস্তানকে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারানোর উচ্ছ্বাস ছিল না; যেন দীর্ঘদিনের চাপ থেকে মুক্তির স্বস্তিও মিশে ছিল সেই গর্জনে। লিডসে তিন দিনের মধ্যেই পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে সিরিজের প্রথম টেস্টে দাপুটে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড।

পাকিস্তানের মতো এলোমেলো একটি দলের বিপক্ষে এই জয় হয়তো জো রুটকে নিজের হোম গ্রাউন্ডের ডিকি বার্ড ব্যালকনিতে উৎসব করার মতো উপলক্ষ দিত না। তবে চলতি বছরের নানা ঘটনার পর ইংল্যান্ডের জন্য জয়টি ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচের অধীনে আবারও টেস্ট অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়া রুটের জন্য তাই স্বস্তির এই জয় ছিল বিশেষ তাৎপর্যের।

ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের জন্য কিছুটা শঙ্কাও ছিল। দ্য হান্ড্রেডের দ্রুতগতির ক্রিকেট থেকে সরাসরি টেস্টে নামার সূচি নিয়ে ছিল প্রশ্ন। জশ টাং ও গাস অ্যাটকিনসনের ক্ষেত্রে ব্যবধানটা ছিল আরও কম—রোববার দ্য হান্ড্রেডের ফাইনাল খেলার তিন দিনেরও কম সময় পরই তাদের নামতে হয়েছে টেস্টে।

তবে মাঠে তার কোনো প্রভাবই দেখা যায়নি। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ঘাম ঝরাতে হয়েছে ঠিকই। পুরো ম্যাচজুড়েই স্বাগতিকদের পারফরম্যান্স ছিল নিয়ন্ত্রিত, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিখুঁত।

প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৭১ রানে পাকিস্তানকে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে দারুণ জবাব দেয় ইংল্যান্ড। ৪০৯ রানে অলআউট হয়ে ২৩৮ রানের বড় লিড নেয় স্বাগতিকরা।

বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেও শুরুটা ভালো করতে পারেনি পাকিস্তান। লাঞ্চের আগেই ৫১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ৫৯ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় তারা।

বিরতির পরও পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধস অব্যাহত থাকে। শুরু হয় জশ টাংয়ের তাণ্ডব। মাত্র ১১ বলের ব্যবধানে ৭ রান খরচ করে ৩ উইকেট তুলে নেন এই পেসার। তার দুর্দান্ত স্পেলে দ্রুতই চাপে পড়ে পাকিস্তান।

এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সফরকারীরা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৭.৩ ওভারে ১৩৫ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস। ফলে ইনিংস ও ১০৩ রানের বড় জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের।

ম্যাচের মূল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দুই দলের বোলিং। পাকিস্তানের পেসাররা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে তাদের হতাশাজনক ফিল্ডিং। বিপরীতে ইংল্যান্ডের পেসাররা ছিলেন দুর্দান্ত কার্যকর।

অলি রবিনসনের ধারাবাহিক সিম বোলিংয়ের সঙ্গে অন্য তিন পেসারের গতির সমন্বয় পাকিস্তানের ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও উজ্জ্বল ছিলেন রবিনসন। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দারুণ বোলিং করেন তিনি। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন এই পেসার।

রুটের জন্যও দায়িত্বে ফেরার পর এর চেয়ে সহজ প্রত্যাবর্তন খুব কমই হতে পারত। ইংল্যান্ডের চার ব্যাটার পঞ্চাশ পেরিয়েছেন, কিন্তু সেঞ্চুরি করতে পারেননি—রুটও তাদের একজন। পুরো ম্যাচ স্থায়ী হয়েছে মাত্র ১৭৫.৩ ওভার। 

সব মিলিয়ে তিন দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করে স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। আর জো রুটের জন্য টেস্ট অধিনায়কত্বে প্রত্যাবর্তনটা হয়ে থাকে দারুণ এক জয়ে।

/এআই 

Logo