বিবিসি'র প্রতিবেদন
ইনফান্তিনোকে সরানো হবে ‘ভয়াবহ ভুল’: ট্রাম্প
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০২:০২ পিএম
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে কোনো ধরনের চাপের মুখে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে সেটিকে ‘ভয়াবহ ভুল’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়।
ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ঘিরে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং এশিয়ার ফুটবল কর্তাদের প্রকাশ্য বিরোধিতার পর ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিলেন ট্রাম্প। এর আগে, উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এক যৌথ খোলা চিঠিতে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘প্রতারণার মাধ্যমে আস্থা ভঙ্গের’ অভিযোগ তোলে।
ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে প্রস্তাবিত ওই পরিকল্পনার আওতায় বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিট বিক্রির অধিকার পরিচালনার জন্য একটি নতুন কোম্পানি গঠনের কথা ছিল। ওই কোম্পানির ২১ শতাংশ শেয়ার একটি বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনাও ছিল।
তবে তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়।
এফএফই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর এ নিয়ে প্রথমবারের মতো ইনফান্তিনোর পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিলেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘যেকোনো কারণেই হোক, ফিফা যদি সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করে, তাহলে সেটি হবে ভয়াবহ ভুল।’
ইনফান্তিনোর প্রশংসা করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি অসাধারণ। তার নেতৃত্বে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ আয়োজন হয়েছে। ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দিলে ভবিষ্যতে আর কোনো বিশ্বকাপ এতটা সফল বা লাভজনক হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
চলতি বছর, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ বিশ্বকাপ। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।
এর আগে, গত ৩১ জুলাই, এফএফই পরিকল্পনা নিয়ে প্রথমবারের মতো কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, এই পরিকল্পনা নিয়ে ইনফান্তিনোর সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি।
এফএফই'র সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল থ্রাইভ ইটারনালের। এটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান, যার প্রতিষ্ঠাতা জোশুয়া কুশনার। তিনি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই।
মূলত, ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফিফার প্রথম ‘পিস প্রাইজ’ বা শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তিন কনফেডারেশনের অবস্থান
এদিকে, এফএফই পরিকল্পনা নিয়ে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসি। যৌথ চিঠিতে তিন কনফেডারেশন বলেছে, প্রতারণার মাধ্যমে আস্থা ভঙ্গ করা হলে এবং যে প্রতিষ্ঠান একজন ব্যক্তির হাতে কর্তৃত্ব দিয়েছে, সেই ব্যক্তিই যদি নিজেকে পুরো সংগঠনের ওপরে স্থান দেন, তাহলে তিনি তার দায়িত্ব পরিত্যাগ করেছেন।
যদিও চিঠিতে সরাসরি ইনফান্তিনোর নাম উল্লেখ করা হয়নি, বিবৃতিটি মূলত তার উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এমনকি ইনফান্তিনোর জন্য সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবেও চিঠিটিকে দেখা হচ্ছে।
ইনফান্তিনোকে সরিয়ে না দিলে ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি দিয়েছে উয়েফা। এফএফই পরিকল্পনা বাতিলের বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ইউরোপের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
ফিফার বাইরে আলাদা টুর্নামেন্টের আলোচনা
ইনফান্তিনো যদি পদে বহাল থাকেন, তাহলে ফিফার বাইরে আলাদা প্রতিযোগিতা আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং এশিয়ার তিন কনফেডারেশনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
তবে এখনো এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বা বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয়নি।
এদিকে, তিন কনফেডারেশনের অভিযোগের পর ফিফা পাল্টা দাবি করেছে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ইনফান্তিনোকে ‘দুর্বল’ করার জন্য একটি ‘সমন্বিত ও চলমান প্রচেষ্টা’ চালানো হচ্ছে।
ফলে ইনফান্তিনোর বাণিজ্যিক পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর ফিফার অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। একদিকে ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর-মধ্য আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ কনফেডারেশনগুলোর বিরোধিতা, অন্যদিকে ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার প্রকাশ্য সমর্থন, সব মিলিয়ে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ঘিরে ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।
/এআই