ফাঁস হওয়া মার্কিন নথি
বিশ্বকাপে মেসিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলার হুমকি, শঙ্কা ছিল রোনালদো নিয়েও
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:০২ পিএম
ফাঁস হওয়া মার্কিন পুলিশের একটি নিরাপত্তা নথিতে বিশ্বকাপ চলাকালে ফুটবলের বড় তারকা, রেফারি ও দলগুলোকে ঘিরে সন্ত্রাসী হামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ ও স্প্যানিশ একটি ওয়েবসাইটের বরাতে গোল ডটকম জানায়, হুমকির অন্যতম লক্ষ্য ছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি।
গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের আগে এক ব্যক্তি ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে স্টেডিয়ামে হামলার হুমকি দেন। হুমকিতে দুই সহযোগীকে নিয়ে গ্রেনেড ও এআর-১৫ রাইফেলসহ মাঠে ঢুকে পুলিশ ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলার কথা জানান তিনি। দেওয়া হয় মেসিকে হত্যার হুমকিও।
আবার আর্জেন্টিনা ও মিসরের রাউন্ড অব সিক্সটিন ম্যাচের আগেও মেসিকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি আসে। এক সন্দেহভাজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দাবি করেন, শরীরে চারটি বোমা বেঁধে আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটাবেন তিনি।
এমনকি ম্যাচ চলাকালে গ্যালারির আবর্জনার পাত্রে তিনটি বোমা রাখা হয়েছে, এমন একটি ফোনও পায় পুলিশ। পরে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে স্টেডিয়ামে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
অন্যদিকে, নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে বাদ যাননি পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও। এক ফিফা কর্মকর্তা পুলিশকে জানান, সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি রোনালদো কোথায় থাকছেন, সে বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। আরেক ভক্ত রোনালদোর হোটেলে ঢুকে তার সঙ্গে লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিলে তিনি শুধু সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন।
আবার হুমকির শিকার হয়েছেন ম্যাচ কর্মকর্তারাও। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের পর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে হোয়াটসঅ্যাপে ৬ হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। ভিডিও রেফারি উইলি দেলাজোদকেও মৃত্যুর হুমকি দেন ক্ষুব্ধ মিসরীয় সমর্থকরা।
এছাড়া গোলের সুযোগ নষ্ট করা খেলোয়াড়দেরও পড়তে হয়েছে হুমকির মুখে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্লিং হালান্ডকে পাস না দেওয়ায় নরওয়ের আলেকজান্ডার সোরলথ ও তার স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। আবার কলম্বিয়ার জন হামিন্তন কাম্পাজও পেনাল্টি মিস করার পর একই ধরনের হুমকি পান। এমনকি জাতীয় দলের সঙ্গে দেশে ফিরতেও পারেননি তিনি।
এ ঘটনায় ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার হত্যার ঘটনাটিও নতুন করে সামনে এসেছে।
এদিকে, ফ্রান্সের কাছে হারের পর প্যারাগুয়ের সমর্থকেরা কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম লেখা কুশপুত্তলিকা পোড়ান। ফরাসি তারকাকে বর্ণবাদী স্লোগানেরও শিকার হতে হয়। এমনকি প্যারাগুয়ের এক সিনেটরও তাকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন।
গ্রুপ পর্ব থেকে দক্ষিণ কোরিয়া বিদায় নেওয়ার পর দলটির জন্য জোরদার করা হয় নিরাপত্তা। কোচ হং মিয়ং-বোও জনরোষের মুখে পড়েন। তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে বাদ যায়নি ইংল্যান্ডের মিডিয়া সেন্টারও। এক ব্যক্তি রেঞ্চ হাতে সেখানে ঢুকে চিৎকার শুরু করলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়। মিডিয়া সেন্টার ঘিরে তৈরি করা হয় তিন স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী, বসানো হয় কংক্রিটের ব্যারিয়ার ও অ্যান্টি-স্নাইপার স্ক্রিন।
ড্রোন হামলা ঠেকাতে জারি করা হয় নো-ফ্লাই জোন। মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ। সব মিলিয়ে ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, নিরাপত্তার দিক থেকে এটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সুরক্ষিত আসর। যেখানে এসব হুমকি কাটিয়ে একটি সুষ্ঠু আয়োজন সম্পন্ন করতে পেরেছে আয়োজক মার্কিন নিরাপত্তা কর্মীরা।
/এনএ