রোনালদোর উচ্চ বেতন বনাম মেসির স্মার্ট ব্যবসা, অর্থনীতিতে ভিন্ন সিলেবাস অনুসরণ দুই মহাতারকার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১২:২১ পিএম
আল নাসর ও ইন্টার মায়ামির জার্সিতে রোনালদো-মেসি
মাঠের ফুটবলে দুজন খেলেন দুই পজিশনে। একজন ডান ও অপরজন বাঁ পায়ে বিশেষভাবে পারদর্শী। তবে লক্ষ্য ছিল একই। প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়ানো। মাঠের সফলতা ছুয়েঁছে দুজনকেই, উভয়ই রয়েছেন শীর্ষ ধনী ক্রীড়াবিদদের তালিকায় প্রথম সারিতেই। তবে মাঠের পজিশনের মতোই 'অর্থনীতি ১০১' কোর্সেও হয়ত ভিন্ন সিলেবাস অনুসরণ করেন মেসি ও রোনালদো।
ইউরোপের পাট চুকিয়ে একজন যুক্তরাষ্ট্রে, অন্যজন সৌদি আরবে যাওয়ার পর সেই লড়াই এখন অর্থনৈতিক দিক থেকেও নতুন মাত্রা পেয়েছে। একজন নিশ্চিত বিপুল বেতনের ওপর ভর করে আয় বাড়াচ্ছেন, অন্যজন তুলনামূলক কম বেতনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়ে তুলছেন।
এতে দুই কিংবদন্তির আয়ের ধরন ও কৌশলের পার্থক্য এখন ক্রীড়া অর্থনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রে।
সম্প্রতি বিশ্লেষণধর্মী ক্রীড়া মাধ্যম বোলাভিপ–এর এক প্রতিবেদনে দুই কিংবদন্তি ফুটবলারের আয়ের ধরন ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যবসায়িক অংশীদারত্বে এগিয়ে মেসি
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন লিওনেল মেসি। তার বার্ষিক নিশ্চিত বেতন প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার হলেও বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাসহ মৌসুমপ্রতি মোট আয় ৫ থেকে ৬ কোটি ডলারের মধ্যে পৌঁছায়।
তবে মেসির আয়ের বিশেষ দিক হলো, তিনি শুধু বেতনের ওপর নির্ভর করছেন না। চুক্তির আওতায় অ্যাপল টিভির এমএলএস সিজন পাসে নতুন গ্রাহক যুক্ত হলে সেখানকার আয়ের একটি অংশ পান তিনি। পাশাপাশি অ্যাডিডাসের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া তার অফিসিয়াল পণ্যের রয়্যালটিও নিজ আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন লিও।
মেজর লিগ সকার প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমএলএসপিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, এমএলএস ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল বেতনপ্রাপ্ত ফুটবলার বর্তমানে আর্জেন্টাইন এই সুপারস্টার।
আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষণমাধ্যম ফোর্বসসহ বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, অবসরের পর ইন্টার মায়ামির মালিকানার একটি অংশ কেনার সুযোগও তার চুক্তিতে রাখা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ক্লাবের মূল্য বাড়লে মেসির সম্পদের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
রোনালদোর আয়ের মূল ভিত্তি উচ্চ বেতন
২০২৩ সালের শুরুর দিকে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে যোগ দেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এরপর থেকে বেতন ও বিভিন্ন বোনাস মিলিয়ে তার আয় দ্রুত বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকে রোনালদো প্রায় ৬৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছেন।
ক্যাপোলজির তথ্য বলছে, তিনি প্রতি মৌসুমে প্রায় ২০ কোটি ইউরো নিট আয় করেন। এই বিপুল পারিশ্রমিক তাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী ক্রীড়াবিদদের অন্যতম অবস্থানে রেখেছে।
সৌদি প্রো লিগের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়াতে এবং বিশ্বমানের ফুটবলারদের আকৃষ্ট করতে দেশটির পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) রোনালদোকে অন্যতম মুখ হিসেবে ব্যবহার করছে।
তবে ক্লাবের আয়ের বাইরে সিআর৭ ব্র্যান্ডের অধীনে পরিচালিত হোটেল, জিম, পোশাক ও সুগন্ধির ব্যবসা থেকেও প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য অর্থ উপার্জন করেন পর্তুগিজ এই তারকা।
দুই কিংবদন্তির ভিন্ন আর্থিক পরিকল্পনা
সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুই ফুটবলার ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করছেন। রোনালদো নিশ্চিত উচ্চ বেতন ও বোনাসনির্ভর মডেলে এগোলেও, মেসি তুলনামূলক কম বেতন নিয়ে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা রোনালদোর ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং মেসির ২১ থেকে ২৪ কোটি ডলারের আয়ের হিসাব স্বাধীনভাবে সব আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করেনি। কারণ ব্যক্তিগত বোনাস, বাণিজ্যিক চুক্তি ও অন্যান্য আয়ের সম্পূর্ণ তথ্য সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়।
তবে বিভিন্ন আর্থিক বিশ্লেষণ ও বেতনসংক্রান্ত তথ্য থেকে স্পষ্ট, ক্লাব থেকে সরাসরি আয়ের ক্ষেত্রে রোনালদো এগিয়ে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব মেসির সম্পদের মূল্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
মূলত, একজন নিশ্চিত আয়ে এগিয়ে, অন্যজন ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্বে জোর দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠনের কৌশল অনুসরণ করছেন।
/এমএইচআর