×
Logo

খেলাধুলা

বিশ্বকাপের শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা, ফিফার আয় যেভাবে ?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

বিশ্বকাপের শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা, ফিফার আয় যেভাবে ?

ফাইল ছবি

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্বকাপ এবং নতুন আঙ্গিকের ক্লাব বিশ্বকাপসহ নিজেদের প্রধান সব ফুটবল আসরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে একটি নতুন কোম্পানি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' নামের এই নতুন প্রতিষ্ঠানের ২১ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। 

মূলত বিশ্বজুড়ে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশকে দেওয়া উন্নয়ন তহবিল একলাফে তিন গুণ করার লক্ষ্যেই সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এই বড় উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। 

অর্থায়ন প্রকল্প ও বিপুল আয়ের রূপরেখা:

‘ফিফা ফাস্ট ফরওয়ার্ড প্রোগ্রাম’ নামক এই নতুন প্রকল্পের আওতায় সংখ্যালঘু শেয়ার বিক্রি করে তাৎক্ষণিকভাবে ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার তোলার লক্ষ্য স্থির করেছে ফিফা।

শেয়ার বিক্রির অর্থ থেকে প্রতিটি সদস্য দেশ তাদের বিশেষ ও জরুরি প্রকল্পের প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে ২ কোটি ডলার পর্যন্ত অনুদান হিসেবে নেওয়ার সুযোগ পাবে। চার বছর মেয়াদি চক্রে প্রতিটি সদস্য দেশের জন্য নির্ধারিত নিয়মিত 'ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম' অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা হবে।

২০৩১–৩৪ মেয়াদে প্রতি দেশের বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়াবে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং ২০৩৫–৩৮ মেয়াদে তা পৌঁছাবে ২ কোটি ৪০ লাখ ডলারে—যা বর্তমান অনুদানের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।

নেপথ্যে যারা ও মূল উপদেষ্টা:  

মার্কিন জায়ান্ট ব্যাংক ‘জেপি মরগান’ এই বিশাল প্রকল্পে ফিফার প্রধান আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জশুয়া কুশনারের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘থ্রাইভ ইটারনাল’ সম্ভাব্য বেসরকারি বিনিয়োগকারী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এছাড়া রোমভিত্তিক ‘ওপেনইকোনমিকস’ এবং ‘ব্যান ভেঞ্চার্স’-এর প্রধান নির্বাহী গ্রেগ মাফেই এ প্রক্রিয়ায় অন্যতম উপদেষ্টা পদে যুক্ত আছেন।

উয়েফা ও ফুটবল অঙ্গনের তীব্র প্রতিক্রিয়া:

ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফুটবলের পরিচালনা ব্যবস্থা কোনো কেনাবেচার জিনিস নয়। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর যে সীমা কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয়, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফিফা সেই সীমানা পেরিয়ে যাচ্ছে। ফুটবল বেচে দেওয়ার কোনো এখতিয়ার ফিফার নেই।

যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, বিশ্বকাপ কোনো বিক্রি করার পণ্য নয়। এটি বিশ্ব সমর্থকদের সম্পদ। এর শেয়ার বিক্রি করা মানেই ফুটবল এবং এর সমর্থকদের সাথে প্রতারণা করা।

অন্যদিকে সমর্থকদের একপক্ষ মনে করিয়ে দিচ্ছেন স্প্যানিশ লা লিগা, ফরাসি লিগ ১ কিংবা ফর্মুলা ওয়ান ও পিজিএ ট্যুরের মতো বৈশ্বিক স্পোর্টস লিগগুলো বহু আগেই একই মডেলে প্রাইভেট-ইকুইটি বিনিয়োগ এনে সফলভাবে বাণিজ্যিক বিকাশ ঘটিয়েছে।

ফিফা সভাপতির বেতন ও ভবিষ্যৎ কাঠামো:

নতুন গঠিত ‘এফএফই’ কোম্পানির প্রধান হিসেবে ইনফান্তিনো নিজেই দায়িত্ব সামলাবেন। সেক্ষেত্রে তার বার্ষিক বেতন দাঁড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএল কমিশনারের সমপরিমাণ, প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা তার বর্তমান ফিফা বেতনের প্রায় ১০ গুণ। তবে ফিফার মুখপাত্র এ বিষয়ে আলোচনা অমূলক দাবি করে জানান, ফিফার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই সংস্থাটির সভাপতি ও প্রশাসন এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে প্রধান ভূমিকায় থাকবেন।

/এএ 

Logo