৬৪ দলের বিশ্বকাপ পরিকল্পনা ফুটবল অর্থনীতিতে আনতে পারে বড় পরিবর্তন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:৫২ এএম
২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে আরও বড় করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সম্প্রতি সুইস টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের ধারণাও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ফুটবলের অর্থনীতি, আয়োজক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
বর্তমান ৪৮ দলের বিশ্বকাপের পর আরও সম্প্রসারণ হলে প্রয়োজন হবে বেশি স্টেডিয়াম, হোটেল, পরিবহন ব্যবস্থা এবং দীর্ঘ সময়সূচি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া সহজ হয়ে গেলে বাছাইপর্বের বাণিজ্যিক গুরুত্ব কমে যেতে পারে। এতে সম্প্রচারস্বত্ব থেকে আঞ্চলিক ফুটবল কনফেডারেশনগুলোর আয় কমে ফিফার আর্থিক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন। তার মতে, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ যেমন মূল আসরের জন্য ভালো নয়, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাছাইপর্বও। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও প্রশ্ন তুলেছেন, সম্প্রসারণের সীমা কোথায় গিয়ে থামবে।
এক্ষেত্রে ইনফান্তিনোর যুক্তি ভিন্ন। তার মতে, বিশ্বকাপ শুধু ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য। ছোট দেশগুলোকে সুযোগ দিলে তাদের ফুটবলের উন্নতির প্রেরণাও বাড়বে।
বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। একই পদ্ধতিতে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ হলে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে হবে ১২৮টি। ফলে টুর্নামেন্ট অন্তত আরও এক সপ্তাহ দীর্ঘ হতে পারে।
২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। উদ্বোধনী ম্যাচ হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। আর ২০৩৪ সালের একক আয়োজক সৌদি আরবের জন্য ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অবকাঠামো, স্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণ সুবিধা, হোটেল ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ পড়বে।
এছাড়া আরও বড় বিশ্বকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যালেন্ডারকে জটিল করে তুলতে পারে। ইউরোপের পাশাপাশি জাপানের জে-লিগ ও যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারও আগস্ট-মে মৌসুমে যাচ্ছে। ফলে শীতকালীন বিশ্বকাপ হলে আরও বেশি দেশীয় লিগের সূচি ব্যাহত হবে।
অর্থনৈতিক চাপও বাড়বে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ওপর। ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ ইউরো। সেমিফাইনালে না পৌঁছালে লোকসানের আশঙ্কাও ছিল। তাই ফিফার কাছ থেকে আরও বেশি আর্থিক সহায়তার দাবি তুলেছে তারা।
এছাড়া খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত ম্যাচের চাপ, টুর্নামেন্টের দীর্ঘ সময়, দর্শকদের ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিশ্বকাপের একচ্ছত্র আকর্ষণ কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ ফুটবলকে আরও বৈশ্বিক করতে পারে, তবে এর সঙ্গে ফুটবলের অর্থনীতি, আয়োজন এবং প্রতিযোগিতার কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ কতটা সফল হিসেবে মূল্যায়িত হয় তার ওপর।
(সূত্র: রয়টার্স)