বিশ্বকাপের ট্রফি এবার আর হাতে উঠল না। শেষ বাঁশি বাজতেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন লিওনেল মেসি। চোখের কোণে জমল অশ্রু। কয়েক মুহূর্ত পর সেই অশ্রু আর আটকে রাখা গেল না। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মঞ্চে, হয়তো শেষ বিশ্বকাপ ফাইনালে কোটি ভক্তের হৃদয় ভেঙে দিলেন ফুটবলের জাদুকর।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এটাই কি মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ? তিনি কি এবার অবসরের ঘোষণা দেবেন?
এ মুহূর্তে এর উত্তর একটাই, নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না। কারণ ফাইনালের পরপরই মেসি অবসর নিয়ে কোনো ঘোষণা দেননি। বরং তিনি কিছুটা সময় নিতে পারেন বলেই ধারণা ফুটবল বিশ্লেষকদের।
২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারার পর আবেগে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশের মানুষ, সতীর্থ এবং ফুটবলপ্রেমীদের অনুরোধে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ফিরে আসেন।
সেই ফেরাটাই ইতিহাস বদলে দেয়। এরপর জেতেন ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা। আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল প্রজন্মের নেতৃত্ব দেন তিনিই।
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। মেসির বয়স এখন ৩৯। দীর্ঘ মৌসুম, একের পর এক চোট এখন নির্মম বাস্তবতা। সেটা মাথায় রেখেই বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য গত কয়েক বছর ধরে তিনি খেলার চাপও নিয়ন্ত্রণ করে চলেছেন।
তবু যারা মেসিকে চেনেন, তারা জানেন তিনি সিদ্ধান্ত নেন নিজের সময়ে। আবেগ নয়, বাস্তবতাকেই গুরুত্ব দেন। তাই ফাইনালে কান্না মানেই অবসর, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া ঠিক হবে না।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও আগেই বলেছিলেন, মেসির জন্য জাতীয় দলের দরজা সবসময় খোলা থাকবে। যত দিন তিনি খেলতে চান, ততদিন দল তাকে নিয়েই ভাববে।
সম্ভাবনা রয়েছে, মেসি অন্তত ২০২৭ কোপা আমেরিকা পর্যন্ত নিজের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করবেন। আবার এটাও হতে পারে, বিশ্বকাপের মঞ্চকেই তিনি নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় হিসেবে বেছে নেবেন।
যাই সিদ্ধান্ত হোক, একটি বিষয় নিশ্চিত, একটি হারের কারণে মেসির উত্তরাধিকার বদলে যাবে না। বিশ্বকাপ জয়, অসংখ্য রেকর্ড, আটটি ব্যালন ডি'অর এবং প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য, সব মিলিয়ে তিনি এরইমধ্যেই কিংবদন্তির আসনে।
তাই প্রশ্নটা হয়তো 'মেসি অবসর নেবেন কি না' নয়। বরং প্রশ্নটা, ফুটবল কি সত্যিই প্রস্তুত, মেসিবিহীন এক নতুন যুগের জন্য?
/এমএমএইচ