মায়ামি স্টেডিয়ামে আর কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের সান্ত্বনার লড়াইটি যে এভাবে ইতিহাস লিখবে, তা হয়তো অতিবড় ইংলিশ সমর্থকও কল্পনা করতে পারেননি। সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়ার ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই বিদায়ী ফরাসি বস দিদিয়ের দেশমের রক্ষণভাগকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলের লিড নিয়েছে টমাস টুচেলের ইংল্যান্ড। ম্যাচের ঘড়িতে যখন মাত্র ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ড, ঠিক তখনই মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে একক প্রচেষ্টায় বক্সের বাইরে থেকে এক চোখধাঁধানো রকেট গতির শটে ফ্রান্সের জাল কাঁপিয়ে ডেডলক ভাঙেন মিডফিল্ডের স্তম্ভ ডিক্লান রাইস।
শুরুর ধাক্কা সামলে ফ্রান্স যখন গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই শুরু হয় ইংলিশদের আক্রমণভাগের সুনামি। ১২ মিনিটে বুকায়ো সাকার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে ব্যবধান তখনই দ্বিগুণ হতে পারত। তবে ১৮ মিনিটে ডিক্লান রাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে উড়ে এসে ডিফেন্ডার এজরি কনসার বুলেট গতির হেডের কোনো জবাব ছিল না ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনিয়ঁর কাছে।
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ফরাসিরা যখন সেমিফাইনালে হারের শোক কাটানোর পথ খুঁজছিল, ঠিক তখনই থ্রি লায়ন্সদের পার্টিতে যোগ দেন বুকায়ো সাকা। ৩৭ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের সাথে এক দুর্দান্ত প্রতিআক্রমণ থেকে ফরাসি ডিফেন্সের বাধা ভেঙে নিজের চেনা বাঁ পায়ের জাদুকরী শটে বল জালে জড়ান সাকা, যার ফলে ৩-০ ব্যবধানে ফ্রান্সকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা শুরু করে টুচেলের শিষ্যরা।
মায়ামির মাঠে দর্শক যখন এক চরম গোল উৎসবের সাক্ষী হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার ঠিক আগে ফ্রান্সের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে ৪-০ গোলের অবিশ্বাস্য ব্যবধানে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে ফ্রান্স কখনো কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৪টি গোল হজম করার এমন লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়েনি।
অন্যদিকে, গুরুত্বহীন এই ম্যাচে দুই দলই একাদশে ৭টি করে পরিবর্তন এনে মাঠে নামলেও ইংল্যান্ডের এই পারফরম্যান্স ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন কীর্তি স্থাপন করেছে। ১৯৯৪ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে জিতে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যবধানে ম্যাচ জয়ের যে রেকর্ডটি এককভাবে গড়েছিল সুইডেন, প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই সেই ৩২ বছর পুরনো রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলল ইংল্যান্ড।
/এএ