×
Logo

খেলাধুলা

ফকল্যান্ড নিয়ে ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু ফিফার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

ফকল্যান্ড নিয়ে ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু ফিফার

২০২৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, ম্যাচ কমিশনারের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও জিওভানি লো সেলসো একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। সেখানে লেখা ছিল 'Las Malvinas son Argentinas' (লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস)। যার অর্থ মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।

ব্যানারটি প্রদর্শনের পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় যুক্তরাজ্যে। দেশটির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা ফিফার কাছে তদন্তের দাবি জানান। এরপর, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ফিফা নিশ্চিত করে যে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে ফিফার মুখপাত্র বলেন, ফিফার স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি ম্যাচের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ পরে নির্ধারণ করা হবে।

শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা

ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, খেলার মাঠে রাজনৈতিক, আদর্শিক, ধর্মীয় বা আপত্তিকর বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে সংস্থাটির।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের ঘটনায় প্রায় ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

তবে, এই তদন্ত চললেও আগামী রোববার (১৯ জুলাই) নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে কোনো বাধা নেই আর্জেন্টিনার।

এদিকে, ব্যানার প্রদর্শনকারী খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গত চার বছর ধরে ক্লাব ফুটবল খেলছেন ইংল্যান্ডে। ব্যানারটি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রবীণ সেনাদের মনে তীব্র আবেগ তৈরি করতে পারে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আর্জেন্টিনার জনগণকে হতাশ করতে পারতাম না। 

যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়া

ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল ঘটনাটিকে ফিফার নিয়মের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানান। বলেন, রাজনীতি ও ফুটবলকে আলাদা রাখতে হবে। বিশ্বকাপের অন্যতম মূলনীতি সেটিই। এখন বিষয়টি ফিফার হাতে এবং আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রত্যাশা করছি।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, বিশ্বকাপ আমাদের না-ও হতে পারে, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের। দ্বীপবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারই চূড়ান্ত এবং ফকল্যান্ডের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট থাকবে।

আর্জেন্টিনার অবস্থান

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই খেলোয়াড়দের কর্মকাণ্ডকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। বলেন, এটি সব আর্জেন্টাইন নাগরিকের অনুভূতিরই প্রতিফলন। তবে আবেগের বশে এমনটা হওয়ায় আমি মনে করি ফিফা জরিমানা করতে পারে।

এদিকে ম্যাচের আগে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল ইংরেজদের 'দখলদার জলদস্যু' বলে মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দেন।

উল্লেখ্য, ফকল্যান্ড (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের বিরোধ বহু পুরোনো। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়। সংঘাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। যুদ্ধ শেষে দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে যুক্তরাজ্য, যদিও আর্জেন্টিনা এখনো এর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।

এর আগেও শাস্তি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা

এ ধরনের ঘটনায় অতীতেও শাস্তি পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলে যাওয়ার পূর্বে একটি প্রীতি ম্যাচে একই ধরনের 'Las Malvinas son Argentinas' ব্যানার প্রদর্শন করেছিল দলটি। সেই ঘটনায় বিশ্বকাপ শেষে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ৩০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছিল ফিফা।

আবার একই ধরণের ঘটনা ঘটেছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও। সেবার কসোভোকে সার্বিয়ার অংশ হিসেবে দেখানো রাজনৈতিক ব্যানার ঝুলানোর দায়ে সার্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনকে ২০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এছাড়া ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে 'Dokdo is our territory' লেখা ব্যানার প্রদর্শনের দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলার পার্ক জং-উকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ফিফা।

(সূত্র: আল জাজিরা) 

/এনএ




Logo