বিশ্বকাপ ফুটবল
মেগা ফাইনালে মুখোমুখি মেসি-ইয়ামাল, আলোচনায় ১৮ বছর আগের ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩ এএম
ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী মেগা ফাইনালের জন্য অপেক্ষা করছে পুরো বিশ্ব। এতে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। টানা দ্বিতীয়বারের পাশাপাশি নিজেদের চতুর্থ শিরোপা জিততে মুখিয়ে আছে আলবিসেলেস্তেরা। অপরদিকে, ১৬ বছর পর ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পড়ার অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চাইছে স্পেন। তবে ফাইনালের আগে আলোচনায় মেসি ও ইয়ামালের একটি বিশেষ ছবি। ১৯ বছর আগের এই স্থিরচিত্রই ফাইনালের আগে ফুটবল ভক্তদের যোগাচ্ছে এক অন্যরকম আবহের অনুভূতি।
ছবিটির সময়কাল ২০০৭ সাল। স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাব বার্সেলোনার ২০ বছর বয়সী সুপারস্টার লিওনেল মেসি ক্যাম্প ন্যু-এর খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম থেকে নীরবে বেরিয়ে পাশের আরেকটি কক্ষে ঢুকলেন। সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন একজন আলোকচিত্রী। চারদিকে টেস্ট ফ্ল্যাশ জ্বলতে লাগল আর উপস্থিত সবার চোখ গিয়ে পড়ল আর্জেন্টিনার সুপারস্টারের ওপর।
তবে মেসির চোখ গেল এক কিশোরি মা ও তার কোল আলো করে থাকা ছোট্ট এক শিশু সন্তানের দিকে। শিশুটির মা শিলা ইবানা তখন মাত্র ১৬ বছর বয়সী। যার আদি নিবাস ছিল একুয়াটোরিয়াল গিনিতে। স্পেনের কাতালোনিয়ায় ওয়েট্রেস (হোটেল বা রেস্তোরাঁর কর্মী) হিসেবে কাজ করার সময় তিনি মরক্কোর বংশোদ্ভূত মুনির নাসরাউইয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। এরপর তাদের কোলে আসে শিশুটি।
ক্যাম্প ন্যু-তে সেদিন আসার আগে শিলা তার শিশু সন্তানের নামে ইউনিসেফের একটি লটারিতে অংশ নিয়েছিলেন। বিজয়ী হওয়ার পর মেসির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ছবি তোলার সুযোগ পান। শিলার সেই শিশু সন্তান আর কেউ নন, বর্তমানে ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনি মেসির মুখোমুখি হবেন।
মেসি ও ইয়ামালের বিখ্যাত এই ছবিটির সাক্ষী ছিলেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট। তিনি বলেন, বার্সার একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে ক্যাম্প ন্যু-তে ছবি তোলার জন্য তারা (শিলা ও ইয়ামাল) লটারির টিকিট কেটেছিল। সৌভাগ্যবশত সেই লটারিতে জিতে যায়।’
ছবিটি তোলা হয়েছিল ক্যালেন্ডারের জন্য। মনফোর্ট বলেন, মেসি খুব অন্তর্মুখী আর লাজুক প্রকৃতির মানুষ। তিনি ড্রেসিংরুম থেকে বের হয়ে আরেক রুমে যাওয়ার পর দেখেন প্লাস্টিকের পানির টবে একটি শিশু বসে আছে। মেসি শিশুটিকে কীভাবে কোলে নেবেন তাও বুঝতে পারছিলেন না।
তোলার পর ছবিগুলো নিয়ে আর কোনো আলোচনা হয়নি। কিন্তু ২০২৪ সালে ইয়ামালের ইউরো অভিষেকের সময় ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো পোস্ট করেন তাঁর বাবা। ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘দুই কিংবদন্তির পথচলার শুরু।’
মনফোর্ট বলেন, ইয়ামালের বাবা ছবিগুলো পোস্ট করার আগে তিনি জানতেনই না যে, সেদিনের শিশুটি বড় হয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। এমন একটা আলোড়ন সৃষ্টি করা ঘটনার সাক্ষী হতে পারাটা সত্যিই দারুণ। এটি চমৎকার এক অনুভূতি।
বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের শহর মাতারো থেকে কোলের শিশুকে নিয়ে ক্যাম্প ন্যুতে এসেছিলেন ইয়ামালের মা। কষ্ট করে আসার জন্য প্রতিটি পরিবারকে ছবির একটি করে কপি উপহার দিতেন মনফোর্ট।
সেদিনের সেই ছোট্ট ইয়ামালই ২০১৪ সালে মাত্র সাড়ে ৬ বছর বয়সে বার্সার লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন। এরপর ২০২৩ সালের এপ্রিলে মাত্র ১৫ বছর বয়সে লা লিগায় এবং ১৬ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে তার। ইউরো ২০২৪-এ স্পেনকে জেতানোর পর এখন তিনি চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের সবচেয়ে বড় তারকা। ক্লাব ফুটবলেও তিনি এখন বার্সায় মেসির সেই আইকনিক ‘১০ নম্বর’ জার্সিটি পরেন।
উল্লেখ্য, আগামী রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-স্পেন। সেই ম্যাচে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পরিসরে একে অপরের বিপক্ষে খেলবেন মেসি-ইয়ামালও। আপাতত ফুটবল ভক্তদের চোখ সেদিকেই।
/এমএইচআর