×
Logo

খেলাধুলা

মেসিকে কখনও রাগানো যাবে না: রিকুয়েলমে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

মেসিকে কখনও রাগানো যাবে না: রিকুয়েলমে

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই বিশ্বকাপের আগে মেসিকে উদ্দেশ্য করে তৎকালীন ডাচ কোচ লুই ফন গাল মন্তব্য করেছিলেন, বল পায়ে না থাকলে মেসি খুব বেশি অবদান রাখেন না। আবার তিনি ২০১৪ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, ওই ম্যাচে মেসি বলই ছুঁতে পারেননি। পাশাপাশি ওই কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস সেই হারের প্রতিশোধ নিতে চায় বলেও জানিয়েছিলেন।

তবে, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়েই ফন গালের সব সমালোচনার জবাব দেন মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে টাইব্রেকারে জিতিয়ে সেমিফাইনালে তোলেন তিনি। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের মধ্যে উত্তেজনাও দেখা যায়, যেখানে ভ্যান গাল ও আর্জেন্টিনার সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

এরপর, এই ঘটনার জবাব দেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার হুয়ান রোমান রিকুয়েলমে। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আমার মনে হয় ম্যাচের আগে ফন গাল মেসিকে নিয়ে কিছু বলেছিলেন। ফুটবলে এমন কিছু করা উচিত নয়। তাকে কখনও রাগানো যাবে না। বরং তাকে জড়িয়ে ধরা বা চুমু খাওয়া ভালো, যাতে সে আপনাকে হারানোর কথা না ভাবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় যখন রেগে যায়, তখন তাকে হারানোর কোনো সুযোগ থাকে না। এটা প্রায় অসম্ভব। তাই ফন গালের সেই মন্তব্য আসলে আর্জেন্টিনার জন্যই ভালো হয়েছিল। আর মেসির একটি বাড়তি সুবিধা হলো, রেগে গেলেও অন্যদের মতো সহজে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় না।

এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আরেকবার দেখলো ফুটবল বিশ্ব। আর তা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। বিশ্বকাপের বৈরী ইতিহাসধারী আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মুখোমুখিতে, লড়াই শুধু মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অনেকেই এর পেছনে কারণ হিসেবে দেখছেন ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধকে। 

ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও মাঠে উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না। বিরতির ঠিক আগে ম্যাচের রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। এ সময় ম্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ানোর পাশাপাশি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গেও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়াতে দেখা যায় তাকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রথম তিন মিনিটেই আর্জেন্টিনার দুটি কঠিন ট্যাকলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচজুড়ে শারীরিক লড়াই অব্যাহত থাকে। টাচলাইনে দুই কোচ টমাস টুখেল ও লিওনেল স্কালোনিকেও বেশ উত্তেজিত দেখা যায়। এলিয়ট অ্যান্ডারসনের একটি চ্যালেঞ্জকে ঘিরেও নতুন করে উত্তাপ ছড়ায়।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইংল্যান্ড একটি কর্নার পায়। কর্নার নেওয়ার প্রস্তুতি চলার মধ্যেই রেফারি হাফটাইমের বাঁশি বাজিয়ে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রেফারির দিকে এগিয়ে যান ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা।

এর কিছুক্ষণ আগে বেলিংহাম দাবি করেছিলেন, তাকে ফাউল করা হয়েছিল। তবে রেফারি সেই আবেদন আমলে নেননি। সব মিলিয়ে একাধিক সিদ্ধান্তে বিরক্ত বেলিংহাম বিরতির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে রেফারির কাছে গিয়ে প্রতিবাদ জানান।

সেই সময় মেসিকেও ঘটনাস্থলে দেখা যায়। রিয়াল মাদ্রিদের এই ইংলিশ মিডফিল্ডার ও আর্জেন্টিনা অধিনায়কের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরে সতীর্থরা বেলিংহামকে সরিয়ে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এরপর, দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে মেসির হয়তো মনে ছিলো হাফ টাইমের পরের ঘটনা। যার ফল দেখা যায় ম্যাচে। তার অসাধারণ নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও দুটি অ্যাসিস্টে ভর করে, ২-১ গোলের জয় নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচ শেষে হয়তো বেলিংহাম মনে করছেন, রিকুয়েলমের সেই কথা। ইশ! মেসিকে না রাগালে হয়তো ম্যাচটা সহজ হতো আমাদের জন্য। 

/এনএ 

Logo