জয়ের পর মেসির খোলামেলা আলাপ
জাতীয় সঙ্গীতের সময়ই আলাদা অনুভূতি টের পাচ্ছিলাম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়, আর তার পরের কয়েক মিনিট- লিওনেল মেসির মুখে যেন এক অন্যরকম আর্জেন্টিনার গল্প। মাঠে নামার আগে থেকেই যে উত্তেজনা টের পাচ্ছিলেন, ম্যাচ শেষে তা নিয়েই খোলাখুলি কথা বললেন বিশ্বের সেরা ফুটবলার।
টিওয়াইসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাঠে ঢোকার মুহূর্তের বর্ণনা দেন তিনি। বলেন, মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে যখন আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা মাঠে নামছিলেন, তখনই যেন বাতাসে ভাসছিল অন্যরকম এক টান। মাঠে প্রবেশ করার সময় এবং জাতীয় সংগীতের সময়ই দলের সবাই এক বিশেষ অনুভূতি টের পেয়েছিলেন।

তার ভাষায়, এটা কেবল আরেকটা জয় ছিল না, এটা ছিল এমন এক গুরুত্বপূর্ণ জয়, যা আর্জেন্টাইন জনগণ মন থেকে চেয়েছিল। আর দলও চেয়েছিল ঠিক ততটাই তীব্রভাবে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা মানেই যে ইতিহাসের ভারী এক আবহ চলে আসে, সেটাও স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি অধিনায়ক। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রসঙ্গ না টেনেই তিনি বলেন, এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ চিরকালই কিছুটা আলাদা, বিশেষ কিছু।
পিছিয়ে পড়েও কীভাবে ঘুরে দাঁড়ালো আর্জেন্টিনা, সে কথাও জানিয়েছেন খোলামেলা।
অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত এক গোল আর লাউতারো মার্টিনেজের হেডে ম্যাচে ফেরে আলবিসেলেস্তেরা। দুটি গোলেই বল বাড়িয়েছিলেন মেসি নিজে। ম্যাচ যখন কঠিন হয়ে উঠছিল, তখনও বিশ্বাস হারায়নি দল, এমনটাই জানালেন ৩৯ বছর বয়সী তারকা। প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোর সেই মুহূর্তটাকে তিনি বর্ণনা করেন এক বিশাল আনন্দ হিসেবে।
দুটি ফাইনাল টানা খেলাকে 'পাগলামি ছাড়া কিছু না' বলেও মন্তব্য করেন। মেসি মজা করেই বলেন, পরপর দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটা রীতিমতো পাগলামি। তার কথায়, এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা আবারও নিজেদের বিশ্বের সেরা দলের কাতারে জায়গা করে নিয়েছে।
দল নিয়ে যে সমালোচনা এসেছিল টুর্নামেন্টের শুরুতে, তা নিয়েও মুখ খুলতে ভোলেননি অধিনায়ক। কেপ ভার্দে ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ানো লড়াইয়ের পর দলের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল অনেকের মনে। কিন্তু মেসি বলেন, এই দলের ভেতরের শক্তি সম্পর্কে তার নিজের কখনই সংশয় হয়নি। কারণ দলটাকে তিনি ভেতর থেকে চেনেন।
তার বিশ্বাস, এই গ্রুপ যখন একসঙ্গে জোট বাঁধে, তখন কিছু একটা অন্যরকম শক্তি বেরিয়ে আসে, যা সবকিছু বদলে দেয়।
এই জয়কে ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করেন মেসি। বলেন, আজকের দিনটা ওর জন্যই এত বিশেষ ছিল। আর আকাশ থেকে তিনি নিশ্চয়ই এই মুহূর্তটা উপভোগ করছেন। মেসির ভাষায়, ম্যারাডোনাই একসময় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পথ দেখিয়েছিলেন। আর তারা কেবল সেই পথ ধরে হেঁটেছেন।
এই সাক্ষাৎকার যখন মেসি দিচ্ছিলেন, তখন প্রতিপক্ষ শিবির থেকেও এসেছে শুভেচ্ছা। ইংল্যান্ডের ফুটবলার মার্ক গেহি এসে মেসিকে শুভকামনা জানান আসন্ন ফাইনালের জন্য। হঠাৎ এমন ভদ্রতায় খানিকটা অবাক হলেও হাসিমুখে ধন্যবাদ জানিয়ে সৌজন্য বিনিময় করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন। মেসি বলেন, বিশ্বের সেরা দুই দল মুখোমুখি হতে চলেছে বলেই এই ফাইনাল হবে দারুণ সমানে-সমানে লড়াইয়ের এক মঞ্চ। যেখানে জয় প্রাপ্য হবে দুই দলেরই পরিশ্রমের কারণে। ভক্তদের উদ্দেশে তার অনুরোধ, সবাই এই মুহূর্তটাকে যেন প্রাণ খুলে উপভোগ করেন। ঠিক যেমনভাবে তারা এখন করছেন।
/এমএমএইচ