জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের হাতে রাজনৈতিক ব্যানার, হতে পারে শাস্তি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড উভয় দলের খেলোয়াড়রা খেলার মাঠে রাজনৈতিক উত্তেজনা না আনার কথা বললেও, খেলা শেষে তা চলেই আসলো মাঠে।
ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর, দুই আর্জেন্টাইন ফুটবলার 'Las Malvinas Son Argentinas' (বাংলায়, ফকল্যান্ড বা মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করেন। যা ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এবং মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো ব্যানারটি হাতে নিয়ে গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের উদ্দেশে নাড়াতে দেখা যায়। ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, ফিফার 'স্টেডিয়াম কোড অব কন্ডাক্ট' অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনৈতিক, আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক বার্তাসংবলিত ব্যানার, পতাকা, লিফলেট, পোশাক বা অন্যান্য সামগ্রী প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তবে এই ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
কেন বিতর্ক?
দক্ষিণ আটলান্টিকের দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটেনে ফকল্যান্ডস এবং আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে স্বল্প সময়ের যুদ্ধ হয়। সেই সংঘাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয় পায় যুক্তরাজ্য, এবং দ্বীপপুঞ্জের অধিকাংশ বাসিন্দাও ব্রিটেনের অংশ হিসেবেই থাকতে চেয়েছেন।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার দাবি— ১৮১৬ সালে স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর তারা মালভিনাসের উত্তরাধিকারী হয়। তাদের মতে, ১৮৩৩ সালে ব্রিটেন অবৈধভাবে দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়।
তবে, চলতি বিশ্বকাপে রাজনৈতিক প্রতীক প্রদর্শনের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে, গত মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের একটি ম্যাচে প্রবাসী ইরানিরা তেহরানের বর্তমান সরকারের বিরোধিতার প্রতীক হিসেবে দেশটির বিপ্লব-পূর্ব পতাকা প্রদর্শন করেছিল। যদিও সেই ম্যাচে কোনো ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা ঘটেনি।
আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় ফিফা কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
/এনএ