থ্রি লায়ন্সের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ফুটবলার জেড স্পেন্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবলীয় লড়াইয়ের পাশাপাশি এক অনন্য ও আবেগময় ইতিহাসের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। থ্রি লায়ন্সের ঐতিহ্যবাহী সাদা জার্সিতে প্রথম মুসলিম ফুটবলার হিসেবে মাঠে নেমে নতুন এক যুগের সূচনা করেছেন ইংল্যান্ডের ২৫ বছর বয়সী ডিফেন্ডার জেড স্পেন্স। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে থ্রি লায়ন্সদের নাটকীয় ও মহাকাব্যিক জয়ের পর, মাঠের সমস্ত কোলাহল ছাপিয়ে স্পেন্সের এক অভূতপূর্ব উদযাপনে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সাথে সাথেই মাঠের সবুজ গালিচায় হাঁটু গেড়ে বসে, পরম সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সিজদায় অবনত হন এই তরুণ রাইট-ব্যাক। দুই বছর আগে সনাতন বিশ্বাসের গণ্ডি পেরিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা টটেনহ্যাম হটস্পারের এই ফুটবলার আগেই সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ইংল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম ফুটবলার হওয়াটাই তার জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন। বিশ্বমঞ্চে নিজের এই ঐতিহাসিক অর্জন যেন ইউরোপ ও ইংল্যান্ডের বুকে বেড়ে ওঠা আগামী নতুন প্রজন্মের মুসলিম তরুণদের ফুটবল ও জীবনে সমানভাবে অনুপ্রাণিত করে, সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছিলেন তিনি।
জেড স্পেন্সের এই ঐতিহাসিক যাত্রার পথটি অবশ্য মোটেও মসৃণ ছিল না; বরং তার এই অর্জনের পেছনে জড়িয়ে আছে এক অদম্য সাহসিকতার গল্প। বিশ্বকাপের নকআউটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে চোয়ালে মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন তিনি, যা যে কোনো ফুটবলারের জন্যই মাঠের বাইরে ছিটকে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। তবে দেশের স্বার্থে এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের তাগিদে শত কষ্ট উপেক্ষা করে চিকিৎসকদের পরামর্শে একটি বিশেষ কার্বন ফাইবার মাস্ক মুখে পরে মাঠে নেমে যান এই লড়াকু সৈনিক।
মুখে মাস্ক পরে শ্বাসকষ্ট ও অস্বস্তির তোয়াক্কা না করে নরওয়ের শক্তিশালী ও গতিময় উইঙ্গারদের পুরো ম্যাচ জুড়ে যেভাবে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন, তা ছিল চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ ডিসপ্লে। চোটের সেই তীব্র যন্ত্রণাকে জয় করে দল জেতানোর পর মাঠের বুটেই মাথা ঠেকিয়ে সিজদা দেন তিনি।
/এএ