×
Logo

খেলাধুলা

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যে ৫ কারণে জয়ের স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যে ৫ কারণে জয়ের স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড

রাতে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়া ইংল্যান্ডের জন্য এটি কেবল একটি সাধারণ নকআউট ম্যাচ নয়, বরং ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার এক ঐতিহাসিক সুযোগ। কাজটা নিঃসন্দেহে কঠিন, তবে টমাস টুচেলের শিষ্যদের জন্য এটি মোটেও অসম্ভব নয়। দীর্ঘ ৬০ বছরের শিরোপার খরা ও অপেক্ষা ঘোচাতে থ্রি লায়ন্সদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পেছনে রয়েছে ৫টি অত্যন্ত জোরালো ও কৌশলগত কারণ:

প্রথমত, সেমিফাইনালে ওঠার পথে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে একেবারেই জমাট দেখায়নি। শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দে এবং কোয়ার্টারে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে তাদের অতিরিক্ত সময়ের ঘাম ঝরাতে হয়েছে এবং শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। নকআউটের ৩ ম্যাচে ইতিমধ্যেই ৫টি গোল হজম করেছে আর্জেন্টিনা, যার ফলে সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে প্রতিপক্ষের শট সেভের দিক থেকেও সবচেয়ে পিছিয়ে (মাত্র ৫৭%) লিওনেল স্কালোনির দল। প্রতিপক্ষ একটু চাপ দিলেই ফাটল ধরা এই রক্ষণভাগকে চূর্ণ করতে মুখিয়ে আছে ইংলিশ আক্রমণভাগ। 

দ্বিতীয়ত, চলতি বিশ্বকাপে থ্রি লায়ন্সদের আক্রমণের আসল চালিকাশক্তি হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। দুই তারকাই ইতিমধ্যে ৬টি করে গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আছেন। নকআউট পর্বে মেক্সিকো ও নরওয়ের বিপক্ষে পরপর দুই ম্যাচে জোড়া গোল করে ১৯৮৬ সালের ডিয়েগো ম্যারাডোনার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী বেলিংহাম, আর কেইনও ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল করে দলকে উদ্ধার করেছিলেন। একজন সুযোগ তৈরি করছেন আর অন্যজন ফিনিশ করছেন—এমন রসায়ন আজ আর্জেন্টাইন ডিফেন্সকে চরম ভোগান্তিতে ফেলবে।

তৃতীয়ত, পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে প্রতিপক্ষের বক্সে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে ইংল্যান্ড। হেড, নিখুঁত কাটব্যাক কিংবা কাউন্টার অ্যাটাক—সব বিভাগেই টমাস টুচেলের দল অনন্য এবং সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৮টি ‘বিগ চান্স’ বা নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করেছে থ্রি লায়ন্সরাই। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ আজ সামান্যতম ফাঁক দিলেই কেইন-বেলিংহামরা তার পুরো ফায়দা তুলতে ভুল করবেন না। 

চতুর্থ কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউটে কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ডের মতো অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষকে হারিয়ে শেষ চারে এসেছে আর্জেন্টিনা এবং পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫ দলের একটিরও মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের। সেই বিচারে র‍্যাঙ্কিংয়ের ৪ নম্বর দল ইংল্যান্ডই হতে যাচ্ছে লিওনেল মেসির দলের প্রথম সত্যিকারের টেস্ট।

পঞ্চম এবং অন্যতম প্রধান কারণটি হলো আর্জেন্টিনার বয়সের ভার এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তি। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনার এই বর্তমান দলটি টুর্নামেন্টের অন্যতম বয়োজ্যেষ্ঠ স্কোয়াড। তার ওপর নকআউটের টানা তিনটি ম্যাচেই তাদের অতিরিক্ত সময়ের (১২০ মিনিট) চরম ক্লান্তিকর ও ঘামঝরানো লড়াই পার করে আসতে হয়েছে। বিপরীতে জুড বেলিংহামের মতো তরুণদের নিয়ে গড়া টমাস টুচেলের গতিময় ইংল্যান্ড দল ফিজিক্যাল ফুটবল এবং স্ট্যামিনার দিক থেকে অনেকটাই ফ্রেশ ও এগিয়ে রয়েছে। টানা ৩ ম্যাচে অতিরিক্ত সময় খেলার ক্লান্তি যখন আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ ও রক্ষণে ভর করবে, ঠিক তখনই নিজেদের তারুণ্যের গতি ও আগ্রাসী প্রেসিং ফুটবল দিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেওয়ার মোক্ষম সুযোগ পাবে থ্রি লায়ন্সরা।

/এএ

Logo