আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে ব্রিল এমবোলোকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ভিএআর চেক করেই রেফারি এই সিদ্ধান্ত নেন। তবুও সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে তোলপাড় চলছে। কেউ কেউ 'বিশেষ সুবিধা' দেয়া হয়েছে আর্জেন্টিনাকে, এমন অভিযোগও আনছেন। আদতে কী হয়েছিল সেখানে? ফুটবল আইনই বা কী বলে?
ক্যানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ৭২তম মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ফুটবলের ভাষায় এটিকে বলা হয় 'মিসটেকেন আইডেনটিটি'।
যেভাবে ঘটল ঘটনাটি:
ম্যাচের ৭১তম মিনিটে এমবোলোকে ফাউল করার অভিযোগে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এরপর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করেন। খেলা কিছুক্ষণ চললেও ফের থেমে যায় ভিএআরের ডাকে। পর্যালোচনা শেষে রেফারি জোয়াও পেদ্রো সিলভা পিনহেইরো পারেদেসকে দেওয়া হলুদ কার্ড প্রত্যাহার করে নেন এবং বদলে এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখান। যেহেতু এমবোলোর আগে থেকেই একটি হলুদ কার্ড ছিল, তাই দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সঙ্গে সঙ্গে তাকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠানো হয়।
কেন এই সিদ্ধান্ত:
মাঠের রেফারির চোখ এড়িয়ে গেলেও রিমোট লোকেশনে থাকা ভিএআর দল লক্ষ্য করে, পারেদেসের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ২৯ বছর বয়সী এমবোলো আসলে ডাইভ দিয়েছিলেন। রিপ্লে দেখে ও ভিএআর দলের সঙ্গে আলোচনার পর রেফারি মাঠে ফিরে সিদ্ধান্ত পাল্টান।
'মিসটেকেন আইডেন্টিটি' আসলে কী:
আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) যে সংস্থা ফুটবলের নিয়মকানুন পরিচালনা করে, তারা এই ধরনের ভুলকে বলে থাকে 'ম্যাচ পাল্টে দেওয়া ভুল'। তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী, রেফারি যখন হলুদ বা লাল কার্ড দেখান কিন্তু স্পষ্টতই ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেন, তখন তাকে বলা হয় ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’। নতুন ভিএআর নিয়মে এখন এমন ভুল শনাক্ত ও সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব:
এমবোলো বহিষ্কৃত হওয়ার আগ পর্যন্ত ম্যাচে দুই দলই সমানে সমান লড়াই করছিল এবং স্কোরলাইন ছিল ১-১। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত এক খেলোয়াড় কম নিয়েও সমতা ধরে রাখতে পারলেও অতিরিক্ত সময়ে দুটি গোল হজম করে বিদায় নেয় সুইজারল্যান্ড, আর সেমিফাইনালের পথ খুলে যায় আর্জেন্টিনার।
সূত্র: আলজাজিরা
/এমএমএইচ