এবারের বিশ্বকাপ যত রেকর্ড গড়লো, একনজরে সব পরিসংখ্যান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার ১৬টি ভেন্যুতে ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণ। এরইমধ্যে টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৯৬টি ম্যাচ শেষ, বাকি আর মাত্র ৮টি মহারণ। আয়তনের দিক থেকে এটিই যে ফিফার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও মেগা টুর্নামেন্ট, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রাখলে চলতি বিশ্বকাপকে ‘আক্রমণাত্মক ফুটবলের স্বর্ণযুগ’ বললেও ভুল হবে না। ৯৬টি ম্যাচ শেষে জালে বল গড়িয়েছে ২৮০ বার, যার গড় ম্যাচ প্রতি ২ দশমিক ৯২ গোল। ১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপের ম্যাচ প্রতি ২ দশমিক ৯৭ গোল, পর গত ৫৬ বছরে বিশ্বমঞ্চে আর কখনও এত গোলের বন্যা দেখা যায়নি। ২০২২ কাতার (২ দশমিক ৬৯), ২০১৮ রাশিয়া (২ দশমিক ৬৪) কিংবা ২০১৪ ব্রাজিল (২ দশমিক ৬৭) বিশ্বকাপকেও বহুদূরে ফেলে দিয়েছে এই আসর। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, মোট গোলের ৭৪ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে ওপেন প্লে থেকে, যা ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ। আর পেনাল্টি থেকে গোল এসেছে মাত্র ৫শতাংশ, যা ফিফা বিশ্বকাপের সর্বনিম্ন রেকর্ডের একটি।
চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে একের পর এক শ্বাসরুদ্ধকর শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা। নকআউটের ২৪টি ম্যাচের মধ্যে ৮টিতেই ৮৫ মিনিটের পর জয়সূচক গোল এসেছে। এনজো ফার্নান্দেজের ৯২ মিনিটের গোলটি ছিল চলতি টুর্নামেন্টে ৯০ মিনিটের পর ১০ম জয়সূচক গোল—যা বিশ্বকাপের একক আসরে নতুন বিশ্বরেকর্ড। তাছাড়া মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনার এবং সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বেলজিয়ামের জয়টি ফুটবল ইতিহাসে বিরল। ১৯৭০ সালের পর এই প্রথম একই বিশ্বকাপে একাধিক দল ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ২-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়লো।
৪৮ দলের কারণে টুর্নামেন্টের মান কমে যাওয়ার যে শঙ্কা ছিল, তাকে উড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বসেরা তারকারা। লিওনেল মেসি (৮ গোল), কিলিয়ান এমবাপ্পে (৭) এবং আর্লিং হাল্যান্ডের (৭) সাথে হ্যারি কেইনের (৬) গোল্ডেন বুট লড়াই বিশ্বকাপের ইতিহাসেই সেরা। ফিফা বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম একই আসরে তিনজন ফুটবলার ৭ বা তার বেশি গোল করার অভূতপূর্ব রেকর্ড গড়লেন। এর পাশাপাশি কেপ ভার্দে, কুরাসাও এবং আলজেরিয়ার মতো ‘আন্ডারডগ’ দলগুলো স্প্যানিশ ও আর্জেন্টাইন পরাশক্তিদের কাঁপিয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে রূপকথার জন্ম দিয়েছে।
ফিফার তথ্যমতে, স্টেডিয়ামের ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ আসনই ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ। গ্রুপ পর্বে ৪৪ লাখ এবং নকআউট পর্ব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৬২ লাখের বেশি ফুটবলপ্রেমী মাঠে উপস্থিত হয়ে খেলা দেখেছেন। প্রতি ম্যাচে গড়ে ৬৫ হাজার দর্শক মাঠে উপস্থিত ছিলেন, যা ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের আসরের (৬৯ হাজার) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
তবে এই সব নান্দনিকতার উল্টো পিঠে রয়েছে বিশাল রাজনৈতিক বিতর্ক। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের সরাসরি লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা ফিফা কর্তৃক মওকুফ করার ঘটনাটি ১৯৬২ সালে কিংবদন্তি গ্যারিঞ্চার পর বিশ্বমঞ্চে প্রথম নজির হিসেবে দেখা দিল। উয়েফা, বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং থমাস টুচেলের মতো কোচেরা ফিফার এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন এবং একে ফুটবলের সততা ও নিরপেক্ষতার জন্য ‘লাল রেখা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
/এএ