ফিফার পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে এমবাপ্পে, দ্বিতীয় স্থানে মেসি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ চালু হচ্ছে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স মূল্যায়নের নতুন ব্যবস্থা ‘ফিফা পাওয়ার র্যাঙ্কিং’। সৌদি জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকোর সহযোগিতায় চালু হওয়া এই র্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে ম্যাচে ফুটবলারদের পারফরম্যান্স ডেটাভিত্তিক ও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, এই নতুন ব্যবস্থা খেলোয়াড়দের গোল, অ্যাসিস্ট বা পরিচিত পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে মাঠে তাদের সামগ্রিক অবদান তুলে ধরবে। উন্নত পারফরম্যান্স ডেটা ও বিশেষ অ্যালগরিদম ব্যবহার করে প্রতিটি ম্যাচের পর ফুটবলারদের মূল্যায়ন করা হবে।
কীভাবে কাজ করবে পাওয়ার র্যাঙ্কিং?
আউটফিল্ড খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স তিনটি বিভাগে মূল্যায়ন করা হবে—
অ্যাটাকিং
ক্রিয়েটিভিটি
ডিফেন্ডিং
অন্যদিকে গোলরক্ষকদের জন্য থাকবে দুটি বিভাগ—
বল দখলে দক্ষতা (In Possession)
গোল রক্ষা (Defending the Goal)
প্রতিটি বিভাগে খেলোয়াড়রা ০ থেকে ১০ পর্যন্ত নম্বর পাবেন। তবে রেটিং পেতে হলে একজন খেলোয়াড়কে অন্তত ২০ মিনিট মাঠে খেলতে হবে।
প্রতিটি ম্যাচ শেষ হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের স্কোর প্রকাশ করা হবে।
প্রতি রাউন্ড শেষে প্রকাশ করা হচ্ছে সেরা একশ' তালিকা
বিশ্বকাপের প্রতিটি রাউন্ড শেষে প্রকাশ করা হবে ‘পাওয়ার র্যাঙ্কিং ক্লাসিফিকেশন’, যেখানে প্রতিটি বিভাগে সেরা ১০০ জন খেলোয়াড়ের তালিকা থাকবে।
শুধু একটি ম্যাচ নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে খেলোয়াড়ের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বিবেচনা করে সামগ্রিক র্যাঙ্কিংও তৈরি করা হবে। ফলে টুর্নামেন্টে একজন ফুটবলারের প্রকৃত অবদান আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।
কোন বিভাগে কী মূল্যায়ন হবে?
ফিফা প্রতিটি বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে।
অ্যাটাকিং: গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার মতো আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করার সক্ষমতা।
ক্রিয়েটিভিটি: দূরদৃষ্টি, নিখুঁত পাস ও সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আক্রমণের সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা।
ডিফেন্ডিং: প্রতিপক্ষের আক্রমণ আগেভাগে বুঝে গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাত্মক অবদান রাখার ক্ষমতা।
গোল রক্ষা (Defending the Goal): গোলরক্ষকের শট ঠেকানো, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে বাঁচানোর সক্ষমতা।
বল দখলে দক্ষতা (In Possession): বল পায়ে রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, খেলা গড়ে তোলা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে দ্রুত রূপান্তরের দক্ষতা।
কীভাবে নির্ধারণ হবে স্কোর?
ফিফার Enhanced Performance Data ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের প্রতিটি অ্যাকশন বিশ্লেষণ করা হবে।
প্রথমে খেলোয়াড় মাঠে কতক্ষণ ছিলেন এবং তার দল কতক্ষণ বলের দখলে ছিল; এসব বিবেচনায় নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর বিভিন্ন পারফরম্যান্স সূচককে আলাদা মেট্রিক গ্রুপে ভাগ করে প্রতিটি বিভাগের স্কোর নির্ধারণ করা হবে।
সবশেষে বিশেষ অ্যালগরিদমের মাধ্যমে প্রতিটি বিভাগের চূড়ান্ত পাওয়ার র্যাঙ্কিং তৈরি হবে।
আর্সেন ওয়েঙ্গারের তত্ত্বাবধানে উন্নয়ন
ফিফা জানিয়েছে, এই র্যাঙ্কিং সিস্টেম তৈরি করেছে সংস্থাটির Football Performance Insights Team। পুরো প্রকল্পটি পরিচালিত হয়েছে সাবেক আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার এবং ফিফা টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের তত্ত্বাবধানে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যালগরিদম স্বয়ংক্রিয়ভাবে খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন করবে এবং পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে র্যাঙ্কিং নিয়মিত হালনাগাদ হবে।
কেন ব্যতিক্রমী এই র্যাঙ্কিং?
ফিফার দাবি, বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তারিত ফুটবল পারফরম্যান্স ডেটা ব্যবহার করে তৈরি হওয়া এই ব্যবস্থা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
প্রচলিত পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে মাঠে একজন ফুটবলারের প্রকৃত প্রভাব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, রক্ষণ, আক্রমণ ও সৃজনশীলতার মতো দিকগুলোও এতে মূল্যায়িত হবে। ফলে ভক্ত, কোচ, বিশ্লেষক এবং গণমাধ্যম সবাই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স সম্পর্কে আরও গভীর ও নিরপেক্ষ ধারণা পাবেন।
চলুন দেখে নেওয়া যাক ফিফা পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ের বেস্ট ১০জন প্লেয়ার
১. কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): অ্যাটাকিং (৮.৭১), ক্রিয়েটিভিটি (৭.৫২) ডিফেন্ডিং (৪.৭১)
২. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): অ্যাটাকিং (৮.৪৫), ক্রিয়েটিভিটি (৭.০৫) ডিফেন্ডিং (৪.৫৩)
৩. হালান্ড (নরওয়ে): অ্যাটাকিং (৮.০৪), ক্রিয়েটিভিটি (৪.৮৪) ডিফেন্ডিং (৫.৩১)
৪. হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড): অ্যাটাকিং (৭.৪১), ক্রিয়েটিভিটি (৫.০১) ডিফেন্ডিং (৪.৮৪)
৫. মানজাম্বি (সুইজারল্যান্ড): অ্যাটাকিং (৭.৩২), ক্রিয়েটিভিটি (৬.৯২) ডিফেন্ডিং (৪.৭৫)
৬. বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড): অ্যাটাকিং (৭.৩০), ক্রিয়েটিভিটি (৬.৪১) ডিফেন্ডিং (৫.৮৭)
৭. ভিনিসিয়ুস (ব্রাজিল) : অ্যাটাকিং (৭.২০), ক্রিয়েটিভিটি (৭.১৭) ডিফেন্ডিং (৪.৬৫)
৮. কিনিওনেস (মেক্সিকো) : অ্যাটাকিং (৬.৯৮), ক্রিয়েটিভিটি (৬.৮৫) ডিফেন্ডিং (৫.৩১)
৯. দেম্বেলে (ফ্রান্স) : অ্যাটাকিং (৬.৯৭), ক্রিয়েটিভিটি (৬.৯১) ডিফেন্ডিং (৪.৮৮)
১০. সামারভিল (নেদারল্যান্ডস) : অ্যাটাকিং (৬.৭৮), ক্রিয়েটিভিটি (৭.১১) ডিফেন্ডিং (৫.১৩)
/এআই